Amar Praner Bangladesh

ভেজাল খাদ্য খেয়ে প্রতি বছর দেশ-বাসির পেটে পড়ছে অন্তত ৪০০ টন ফরমালিন

 

শের ই গুলঃ

 

মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রথমে দরকার বাতাস এরপরই পানি ও খাদ্য। বাতাস যদিও নেওয়া যায়, সেটাও এখন দূষণের কবলে, তার পরে অপরিহার্য জীবন বাঁচাতে যা প্রয়োজন তার নামই খাদ্য। কিন্তু আমরা যা খাচ্ছি তাতে ব্যবহার হচ্ছে বিষের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য। উচ্চ আদালতে নির্দেশনা, এমনকি ভেজাল বিরোধী অভিযানও থামাতে পারছে না রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার। সভ্য সমাজে খাদ্য ভেজাল অকল্পনীয় কিন্তু আমাদের দেশে তা নিয়তির লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

এ কেমন ভেজাল ব্যবসা, যেনে, শুনে, বুঝে মানুষ মরে যাক, পঙ্গু হোক তাতে কি ভেজাল করীরা টাকা পেলেই হলো, এ যেন ধীরে ধীরেস্লো পয়জন দিয়ে পুরো জাতিকে হত্যা করার এক মহা শয়তানি বুদ্ধি। এমনকি জীবন রক্ষাকারী ঔষধেও চলছে ভেজাল। ভেজাল হচ্ছে শিশু খাদ্যেও, লাভ ও লোভের বলি হচ্ছেন সাধারণ মানুষজন। আজকাল বাজারে ফলমূলের দোকানে গেলে মৌমাছি আর চোখে পড়ে না, মাছের বাজারে নেই মাছের গন্ধ আর মাছির আনা-গোনা। এর করণ কি ? উত্তর একটাই “ফরমালিন”। ভেজাল খাদ্য খেয়ে প্রতি বছর দেশ-বাসির পেটে পড়ছে অন্তত ৪০০ টন ফরমালিন, আর ভেজাল খাদ্যে জীবনঘাতী রোগের বিস্তার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এর ফলে ক্যান্সার, চর্ম রোগ, আলসার, লিভার ও কিডনি সংশ্লিষ্ট রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

 

ভেজাল বিষাক্ত খাদ্যের কাছে জিম্মি এখন সারা দেশের মানুষ। মহাখালী হেলথ্ পরীক্ষাগার সূত্র জানায়, সারা দেশে বাজার জাত হওয়া বেশিরভাগ খাদ্য পণ্যই ভেজাল এবং সে সব খাদ্যপণ্য দেহের জন্য চরম ক্ষতিকর। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট মনে হয় বাজারে কোন একটি ভেজালমুক্ত খাদ্য পায় কিনা সন্দেহ আছে। উদ্বেগজনক তথ্য হচ্ছে ভেজাল খাদ্য খেয়ে প্রতি বছর দেশবাসীর পেটে পড়ছে ৪০০ টন ফরমালিন। আর ভেজাল খাদ্যে জীবনঘাতী রোগের বিস্তার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এর ফলে ক্যান্সার, চর্ম রোগ, আলসার, লিভার ও কিডনি সংশ্লিষ্ট রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। সূত্রে জানা যায় প্রতি বছর শুধু ভেজাল খাদ্য পণ্যের কারণে অন্তত ২২ লক্ষ মানুষ জটিল ও কঠিন রোগে আক্রন্ত হন। আর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞারাও খাদ্যে ভেজাল মেশানোকে জনস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন। পরিবেশ বাঁচাও আন্দলনের গবেষনা থেকে জানা যায় শুধু ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে দুই লাখ লোক ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। ডায়বেটিস্ আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখ, কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা তিন লাখ, এছাড়া অন্তঃসত্ত¡া মায়ের শারীরিক জটিলতাসহ গর্ভজাত বিকলাঙ্গ শিশুর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ।

 

অনুসন্ধানে জানা যায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে ভেজাল খাদ্য ও পণ্য তৈরির অসংখ্য কারখানা। খাদ্যে ভেজাল মিশ্রনের কারণে গোটা জাতিই যে পঙ্গুত্ব বরণের দ্বাড়প্রান্তে উপনীত সেই খেয়াল হয়তো বা কারোরই নেই। কঠোর আইন ও তার প্রয়োগ অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। যারা খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে মানুষ মারছে তারা খুনী। মানুষের বেঁচে থাকার মূলনীতি খাদ্য। তাতে বিষ মেশানোয় যদি আমাদের আর আমাদের দেশ পরিচালনার সরকারের টনক না নড়ে তাহলে বুঝতে হবে আমাদের ভবিষৎ অন্ধকার। তাই খাদ্য নিয়ে কেউ যেন ছিনিমিনি খেলতে না পারে সেটা নিশ্চত করতে হবে যে কোন মূল্যে। এই কিছু বছর আগেও দেশে খাদ্যে ভেজাল ছিল না। তখন কি আমরা ব্যাবসা করি নাই। সুখেছিলাম আগের সোনায় বাংলায়।

 

এখন খাবারে বিষ, সোনার বাংলার মানুষের মাথার উপর ভর করছে ফরমালিনের ভূত। এখনি ব্যবস্থা নেওয়ার সময় বুঝতে হবে পেশাদারও খুনী আর ভেজালকারীরাও খুনী।