মনের পশুকে জবাই করে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হউক কোরবানি

 

 

মোঃআবদুল আউয়াল সরকার :

 

কয়েকদিন পর ঈদুল আজহা। বাংলাদেশের ঘরে-ঘরে শুরু হবে ঈদের আয়োজন। ঈদের নামাজ শেষে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোরবানি হবে পশু। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই নিজেদের মধ্যে এই আনন্দ উপভোগ করবে।

ধর্মীয় ও ঐতিহ্য অনুসারে ঈদুল আজহা একটি বড় উৎসব— সারাদেশ একাত্ম হয়ে ওঠে মানুষে-মানুষে। জয়ী হয় মানবিকতা। আর ধর্মে রয়েছে বিস্তর তাৎপর্য। একমাত্র সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশেই পশু কোরবানি হতে হবে, তার সন্তুষ্টি অর্জনই হতে হবে একমাত্র লক্ষ্য।

পবিত্র ঈদকে কেন্দ্র করে শহর থেকে গ্রামে শিশু-কিশোর আর তরুণদের বিরাজ করছে বাড়তি আনন্দ। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, আনন্দের বিচিত্র চিত্র। কোরবানির পশুর প্রতি বাড়তি যত্ন-আত্মি আর পশুকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের গল্প চলছে মুখে-মুখে। সড়কে কোরবানির উদ্দেশ্যে মানুষের জিজ্ঞাসু দৃষ্টি— দাম কত? ঈদের সকালে এই চিত্র নেবে ভিন্নরূপ। কোরবানি দেওয়া হবে পশু, ভাগ হবে মাংস। কোরবানির পশুর মাংস তিন ভাগে ভাগ করা উত্তম। একভাগ দরিদ্রদের, একভাগ যিনি কোরবানি দেবেন তার, আরেক ভাগ আত্মীয়-স্বজনদের জন্য বরাদ্দ করা ভালো। সর্বোপরি, কোরবানির মূল শিক্ষা হচ্ছে— আত্মত্যাগের শিক্ষা।

মুসলমানদের আদি পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে আদিষ্ট হন সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি করার। পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) সবচেয়ে প্রিয় তার। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে আদরের ছেলে ইসমাইলকে কোরবানি করার উদ্যোগ নেন তিনি। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে একটি দুম্বা কোরবানি হয় ইসমাইলের বদলে।হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই ত্যাগের মহিমা স্মরণে মুসলমানরা প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ পাকের অনুগ্রহ লাভে তার পথে পশু কোরবানি করেন।

কোরবানির উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। এর বাইরে কিচ্ছু না। যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব না, তারাও যদি কোরবানি দেয়, তাদের উদ্দেশ্য থাকতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি।’

পশু কোরবানী ঈদের পরের দুই দিনও করার সুযোগ আছে। বিশ্বব্যাপী মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা ঈদুল আজহাকে অন্যতম প্রধান উৎসব হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাঙালিদের উদযাপন ভিন্ন। ইতিহাসের বিভিন্ন জায়গায় ঈদের বর্ণিল উদযাপনের তথ্য পাওয়া যায়। সারাদেশে ঈদের আনন্দ উদযাপনে নানা চাকচিক্য আছে। কালে-কালে এই উদযাপনে সময়ের ছোঁয়া লেগেছে।

ঈদের একটি বিরাট সামাজিক গুরুত্ব আছে। বিশেষ করে ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের সঙ্গে মানুষের মিলন, দাওয়াত গ্রহণ, বাড়িতে-বাড়িতে যাওয়া, ভালো-ভালো খাওয়া হয়। এখনও ঈদের সময় নানা ধরনের নান্দনিক উদযাপন হয়।’
‘উৎসব হচ্ছে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্প্রীতির প্রধান অনুষঙ্গ। মানুষে-মানুষের মিলন তো শুভ এবং কল্যাণকর। কারণ, মানুষ মেলামেশা না করলে বিচ্ছিন্নতাবোধ হয়, এতে করে আশাহীনতা তৈরি হয়, বিষাদের সৃষ্টি হয়, নৈরাশ্যের সৃষ্টি হয়, কখনও-কখনও মানুষ সমাজ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেজন্যই ঈদের দিননের মেলামেশা এক মানুষের সঙ্গে আরেক মানুষের হৃদ্যতাv গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে। ঈদ মানেই বিভেদ ভুলে যাওয়ার দিন।