Amar Praner Bangladesh

মনোহরদীতে স্কুল ছাত্রীকে উত্যক্ত মামলা তুলে নিতে হুমকী

 

 

তাজুল ইসলাম (বাদল), মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি :

নরসিংদীর মনোহরদীতে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার কয়েক দফা চেষ্টার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তা উঠিয়ে নিতে হুমকী দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা চরমান্দালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব মজিতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্কুল ছাত্রীর বাবা খোকন মিয়া সাংবাদিকদের জানান, প্রায় চারমাস আগে এক রাতে পার্শ্ববর্তী কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান রুস্তম আলীর ছেলে তারেকের নেতৃত্বে ১০-১২ জন বখাটে অস্ত্রসহ বাড়িতে আসে। পরে ভয়-ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক আমার বড় মেয়েকে উঠিয়ে কটিয়াদীর চরনোয়াকান্দী এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে আমাদের না জানিয়ে তারেকের সহযোগী ওই গ্রামের বকুল মিয়ার ছেলে রবিউল ইসলামের সঙ্গে জোরপূর্বক তার বিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরো জানান, কিছুদিন পর তাঁর ছোট মেয়েকে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে উত্যক্ত শুরু করে চরনোয়াকান্দী গ্রামের তারেকের সহযোগী মনির হোসেন। এমনকি তাকে কুপ্রস্তাবও দেওয়া হয়। এ বিষয়ে রামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে মৌখিকভাবে জানানো হয়। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে এক রাতে দলবল নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় বাড়িতে এসে ছোট মেয়েকে উঠিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয় বলে জানান।

পরে তিনি বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে মনোহরদী থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মুরশিদ মিয়া নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

এ ঘটনার পর যৌতুক দাবী করে বড় মেয়েকে তার স্বামী নির্যাতন শুরু করে। কিছুদিন আগে স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনে সে মারাত্মকভাবে আহত হয়। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগীতায় তাকে উদ্ধার করে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ্য করা হয়।

বর্তমানে বখাটে তারেক ও রবিউলসহ তাদের সহযোগীরা মামলা উঠিয়ে নিতে প্রতিনিয়ত হুমকী দিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত তারেকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
রামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানান, মামলা উঠিয়ে নেওয়ার হুমকীর বিষয়টি জানা নেই। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।