Amar Praner Bangladesh

মহেশখালীতে টমেটো চাষে বাম্পার ফলন

মোহাম্মদ সিরাজুল হক সিরাজ, মহেশখালী- 
মহেশখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পাহাড়ী এলাকায় এই প্রথম বার টমেটো চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। চাহিদার তুলনায় টমেটোর দ্বীগুন ফলন হয়েছে। মহেশখালী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারে একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের ৬২টি গ্রামে প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। তাঁর মধ্যে ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের উত্তরকুল ও দক্ষিণকুলে সবচেয়ে বেশি উন্নতমানের টমেটো চাষ হয়েছে। আর টমেটোর পাশাপাশি স’ানীয় চাষিরা ফুল কপি, বাঁধা কপি, শিম, তরমুজ সহ নানা ধরনের সবজি চাষ করেছে। আর এসব কাঁচা তরিতরকারি ক্ষেত থেকে তুলে নিয়ে চাষিরা পৌর এলাকার গোরকঘাটা বাজার, ছোট মহেশখালী লম্বাঘোনা বাজার ও বড় মহেশখালী ইউনিয়নের নতুন বাজারে আড়ৎদারদের নিকট পাইকারি দামে বিক্রি করে। এছাড়া উপজেলার পৌর এলাকার চরপাড়া, কুতুবজোম, বড় মহেশখালী, হোয়ানক, কালারমারছড়া, শাপলাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অনাবাধি জমি ও পাহাড়ের ঢালুতে এ চাষ হচ্ছে। এতে চাষিরা টমেটো চাষে এবারে ফলন ভালো করার পাশাপাশি বাজার এর ন্যায্য দাম পাচ্ছে। আর টমেটো চাষ করে স’ানীয় চাষিরা লাভ হওয়ায় প্রতিবছর এ চাষের জমির পরিমান অনেকটা বাড়ছে। ০৭ ফেব্রুয়ারী সরেজমিন পরিদর্শন কালে দেখা যায়, উপজেলার ছোটমহেশখালী ইউনিয়নের দক্ষিণকুল পাহাড়ের ঢালুতে টমেটো বাগান থেকে বাজারে বিক্রি করার জন্য টমেটো তুলছে চাষিরা। এবারে ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে টমেটোর ন্যায্য দাম পাওয়ায় চাষিরা বেশ খুশি। আর সপ্তাহ ৩/৪ বার বাগান থেকে টমেটো তুলে বাজারে নিয়ে আড়ৎদারের কাছে বিক্রি করছে তাঁরা। ফলে সপ্তাহ একেকজন চাষী ২/৩ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করে তাঁেদর পরিবার চালাচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার গোরকঘাটা বাজারে আড়ৎদারের কাছে পাইকারি প্রতি কেজি টমেটো ২২ টাকা করে বেচা-কেনা হলেও খুচরা সবজির দোকান থেকে ক্রেতারা কিনছেন প্রতি কেজি ৩০/৩৫ টাকা। ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের উত্তর কুলের টমেটো চাষি চাষি নুরুল হোছন বলেন, ১০ বছর আগে এখানে কোন সবজি চাষ হতনা। কিন’ পাহাড়ের চওড়ায় হারুন নামের এক যুবক প্রথমে টমেটো চাষ শুরু করে। পরে তার কাছ থেকে দেখে এলাকার আশেপাশের লোকজন এখন টমেটো চাষ করছে। এ কারণে উত্তরকুল ও দক্ষিণকুল টমেটো গ্রাম হিসেবে এলাকার সবার পরিচিত। অন্য বছরের তুলনায় এবারের টমেটোর ফলন ভালো হওয়ায় খরচ বাদে প্রায় লক্ষাধীক টাকা লাভ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। চাষিরা আরো বলেন, এখানে কোন হিমাগার না থাকায় প্রাকৃতিক ভাবে টমেটো পাঁকানোর পর তা বাজারজাত করা হচ্ছে। তরতাজা টাকা পাওয়াতে চাষীরা আনন্দে বিভোর।