Amar Praner Bangladesh

মাদকসহ নানা অপরাধের আখড়া এখন হরিপুর ইউনিয়ন

 

 

হাসনাত রাব্বু, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি :

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নটি নানাভাবেই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনাচারে সমৃদ্ধ। নানাবিধ প্রতিভা ও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন এই মাটিতে জন্ম নেয়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষ্যাতি সম্পন্ন গুনি জ্ঞানী ছাড়াও সমাজের তৃণমূল পর্যায় হতে শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির মতো লক্ষ মানুষের বসবাস। আপাতদৃষ্টে কর্মপাগাল জনগোষ্ঠীর কর্মপ্রয়াসে অর্জিত আর্থিক সমৃদ্ধিতেও শীর্ষস্থানে এই জনপদটি। সেই কারণে মাদক ব্যবসাসহ নানবিধ অপরাধীরা তাদের নিরাপদ আদর্শ অ ল হিসেবে বেছে নিয়েছে ইউনিয়নটিকে। এ যেনো জেলার শীর্ষস্থাণীয় মাদকের অভয়ারণ্যে পরিনত একটি জনপদ। হাত বাড়ালেই মিলছে এখানে নানা জাতের মরন নেশা মাদক।

এর চেয়েও বড় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব অপরাধী চক্রকে প্রশাসনিক সুবিধাসহ সকল প্রকার পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে নিয়ন্ত্রনের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়নের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, বংশ ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। এসব বংশ গোষ্ঠী এক সময় একে অপরের বিপক্ষে হামলা পাল্টা হামলা ভাংচুর অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ হত্যাযজ্ঞের হলিখেলায় মত্তছিলো অথচ এখন তারা সহজতর মাদক ব্যবসার অধিক মুনাফার ভাগ বাটোয়ারায় নিজেদের মধ্যেকার বিরোধ ভুলে ভোল পাল্টে একাট্টা হয়েছে। এখন আর তাদের মধ্যে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খৃষ্টানের মতো কোন বৈষম্য বিভক্তি নেই। এখন সবাই ভাই ভাই, মাদক ব্যবসায় বিরোধ নাই। এভাবেই বলছিলেন ইউনিয়নের বোয়ালদাহ গ্রামের বৃদ্ধ আমদ আলী বিশ্বাস ।

ইউনিয়নের প্রাইমারী ও মাধ্যমিকসহ সবকয়টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার সময় তারা তাদের বিদ্যালয়ের আশাপাশের মাদক সংকটময় পরিবেশের কারনে নিজেদের চরম ভয় ও আতঙ্কের কথা জানালেন।

এসব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, ইউপি চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও সুধিমহলের দাবি জরুরী র্ভিত্তিতে যদি ইউনিয়নের প্রভাবশালী নেতা ও গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধসহ মাদক চক্রের শিকড় উপরে ফেলানো না যায় তাহলে যে হারে অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এর থেকে কেউই রেহায় পাওয়ার সুযোগ নেই।

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার যেখানে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে সেখানে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে প্রতিনিয়ত চলছে মাদক ব্যবসা, স্কুল শিক্ষাথী,কিশোর, বয়স্ক সকল পেশার মানুষের অবাধ চলছে মাদক সেবন।
স্থানীয়রা জানান, হাটশ হরিপুর ইউনিয়নে যেখানে যেখানে মাদক সেবন ও মাদক ব্যাবসা চলে তার মধ্যে উলে­খ যোগ্য, হরিপুরের ফারাজি পাড়ার মাঠ,মেছোপাড়ার গফুর হাজীর মোড়,রশিদ মোড়,কান্তিননগর শ্যানের মাঠ, মবের মোড় শহীদ মাহমুদ হোসেন সাচ্চু প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়,পুরাতন কুষ্টিয়া বাবা একদিল শাহ এর মাজার, হাটশ হরিপুর বাজার ব্যাংকের মাঠ সংলগ্ন ,হরিপুর বড় গোরস্থান।

হরিপুর বাজার এলাকার মুক্তার হোসেনের ছেলে রবুল ইসলাম জানান, হরিপুরের বড় বড় বংশের মানুষই এখন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। তাদের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে মাদক কেনাবেচার হিড়িক। তারা যুব সমাজেকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। কখনো প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কখনো বা তাদের ম্যানেজ করেই অন্তরালে ব্যবসা চালাচ্ছে।

কাবিলের মোড় এলাকার মৃত আক্কেলর ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, হরিপুরে এখন মাদকের ভয়ংকর রুপ ধারণ করেছে। এই ব্যবসা যদি বন্ধ না হয় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্ধকার। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে আমাদের এখন থেকেই এই ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। আর এসব মাদকদ্রব্য ব্যবসা করে যুব সমজকে ধ্বংসকরণের মূল হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের প্রভাবশালী কতিপয় নেতারা। যারা মুখোশের আড়ালে এসব অপকর্ম করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের মাদক ব্যাবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যাবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি করছে হরিপুর ইউনিয়নে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম মুসতাক হোসেন মাসুদ বলেন, ইউনিয়নের পাড়া মহল্লার রন্ধ্রে রন্ধ্রে গজে উঠা মাদক চক্র এখন এতোবেশী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে ইতোমধ্যে তারা মাদক ছাড়াও চুরি ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি একাধিকবার পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করেও কোন সুফল পায়নি। এমনকি এদের বিরুদ্ধে অসংখ্য লিখিত অভিযোগ জমা হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদে। তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে নোটিশ করে ডেকেও কোন সাড়া দেয়না তারা।