Amar Praner Bangladesh

মাদকে সয়লাব গাজীপুর! হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় ইয়াবা, মদ, গাঁজা, ফেন্সিডিল, হেরোইন

 

(সচেতন মহল মনে করেন, জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের পকেট ভারীর আশা ছেড়ে দিয়ে পরিচ্ছন্ন মন নিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহন করলেই সমাজ থেকে মাদক চোরাচালান ও মাদক সেবনের মত অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ করা সম্ভব।)

 

শের ই গুল :

 

গাজীপুর মহানগরসহ পুরো জেলা জুড়ে তৎপর রয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট। গাজীপুরের টঙ্গী মাজার বস্তি, ব্যাংকের মাঠ, কেরানির টেক বস্তি, এরশাদ নগর, দেওড়া, সিলমুন, মরকুর, আরিচপুর, গাজীপুরা, আউচপাড়া, জয়দেবপুর থানা এলাকায় লক্ষ্মীপুরা, উত্তর বিলাসপুর, ধীরাশ্রম, হারিনাল, মারিয়ালী, মুন্সিপাড়া, পুবাইল, গাছা, বোর্ডবাজার, সালনা, নাগরী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকা মাদকে সয়লাব।

সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদকের বড় বড় চালান ট্রেন, বাস বিভিন্ন উপায়ে মাদক ডিলারদের আস্তানায় ঢুকছে। ডিলারদের আস্তানা থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে মাদক। আর নেশার টাকা জোগাতে এলাকায় বাড়ছে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, খুনসহ বাড়ছে নানা অপরাধ। মাদকের করাল গ্রাসে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় যুব-সমাজ। একের পর এক শহর ও গ্রাম জনপদ চলে যাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীদের দখলে। নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে সম্ভাবনাময় অসংখ্য তরুন-তরুনী। অথচ মাদক নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে হয়ে পড়ছে কোনঠাসা।

এছাড়া স্বল্প সংখ্যক জনবল থাকলেও প্রয়োজনীয় লজিষ্টিক সাপোর্ট না থাকায় এ অঞ্চলের মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গত কয়েকদিন আগে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল মাদক বিরোধী বিশাল র‌্যালী। আর প্রতিনিয়তই জেলা শহরসহ বিভিন্ন থানা এলাকায় চলছে সভা সমাবেশ। এছাড়াও স্থানীয় ভাবে জেলা পুলিশের সহযোগীতা পাওয়ার আশায় কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে প্রতিটি থানা এলাকায়। অথচ গাজীপুর থেকে যেন কোন ভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না মাদক ব্যবসায়ীদের।

সম্প্রতি টঙ্গী মডেল থানা কম্পাউন্ডে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা চালুকরন সভায় বক্তারা পুলিশ প্রশাসনকেই এ মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য সরাসরি দায়ী করেছেন। এছাড়াও সভায় মাদক সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত টঙ্গী মডেল থানার কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার অপসারনের দাবীও উঠে আসে তাদের বক্তৃতায়। অনুসন্ধানে জানাগেছে, গাজীপুর মহানগর টঙ্গী অঞ্চলের এরশাদনগর, মাজার বস্তি, কেরানীরটেক। বস্তি, মিলগেট, আমতলীসহ ১৯ টি বস্তি ছাড়াও পুবাইল, মিরের বাজার, বসুগাও, কালিগঞ্জ ও জেলা শহরের প্রায় সকল শাখা রাস্তা গুলোতে প্রকাশ্যে পাওয়া যায় ইয়াবা, দেশী বিদেশী মদ, হেরোইন ও গাঁজাসহ অন্যান্য মাদক সামগ্রী। অপরদিকে রেল ষ্টেশনগুলোতে জেলা পুলিশের তেমন তৎপরতা না থাকায় প্রত্যেকটি রেল ষ্টেশন যেন এ ব্যবসা ওপেন সিক্রেট। টঙ্গী, পুবাইল ও জয়দেবপুর রেলষ্টেশন মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপদ রুট।

মাদকের বড় চালান আসতেছে এমন সংবাদ উর্ধতন কর্তৃপক্ষ জানতে পেরে ঐ চালান ধরার জন্য যখনি অভিযানের প্রস্তুতি নেয়। এরই মধ্যে কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তার কারনে ওই সংবাদ দ্রুত পৌছে যায় মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটদের কাছে তখনি জংশনে ট্রেন আসার পূর্বেই নিরাপদ জায়গা বুঝে আউটার সিগনালের নামে যেমন টঙ্গীর বনমালা পুবাইলের নিমতলীসহ বিভিন্ন স্থানে ট্রেন থামিয়ে বড় বড় চালান নামিয়ে ফেলে এবং দ্রুত তা বিভিন্ন পাড়া, মহল্লা ও বস্তিতে ছড়িয়ে দেয়। এমনই অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। এছাড়াও গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া, নাওজোড়, কোনাবাড়ী আর সদর উপজেলার ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান, মির্জাপুর বাজার, মনিপুরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এর কমতি নেই।

সম্প্রতি পূরো জেলায় এ মাদকসহ অন্যান্য সামাজিক সমস্যা দুর করার জন্য নতুন ভাবে গড়ে তুলছে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা। গত ৬ মাসে প্রতি সপ্তাহেই জেলার প্রতিটি থানার পুলিশ ও সাদা পোশাকি বাহিনী দিয়ে মদ, গাজা, ইয়াবাসহ ছোট-খাটো কিছু অভিযান পরিচালনা হলেও এ পর্যন্ত মাদকের বড় কোন চালান বা মাদক ব্যবসায়ীদের গড ফাদারকে ধরতে পারেনি জেলা পুলিশ প্রশাসন। এছাড়াও উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় মাদক বিক্রি ও সেবনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে বার বার ব্যর্থ হয়েছে গাজীপুর জেলা পুলিশ। এসব অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং কথিত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারও করা হচ্ছে হর হামেশাই। জেল হাজতে পাঠানো হচ্ছে। পরবর্তীতে আইনের ফাঁক ফোকড়ে জেল হাজত থেকে বের হয়ে পুনরায় তারা এ ব্যবসার সাথেই সম্পৃক্ত হচ্ছে। এর কারন প্রশাসনের সোর্স নামের ঘাতকরাই সবচেয়ে বড় দায়ী।

যার কারনে কার্যত: এসব অভিযানে সুফল বয়ে আনতে ব্যর্থ হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। পুলিশ প্রশাসন আসামী ধরতে গেলে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক মাসােয়ারা পাওয়ার আশায় সোর্সরা মাদক ব্যবসায়ীদের সাবধান করে দেয়। যার ফলে মাদক ব্যবসায়ীরা সটকে পড়ে বা সাধু বনে গিয়ে লোকালয়ে আড্ডা জমায়। ফের পুলিশ চলে গেলে চালু করে তাদের এ অবৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রম। এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, মাদক সেবন এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের তথ্য পাওয়া মাত্রই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় অভিযানে সফলতা আনতে পারছেনা বলে জানান এ কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার শফি উল্লাহ্ শফিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে মাদক নির্মূলের বিষয়ে। জেলা পুলিশও তৎপর রয়েছে। অচিরেই এ জেলা থেকে মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও মাদক আমদানী এবং মজুদকারীদের ধরে আইনের আওতায় আনতে পারবে বলে এমনটাই প্রত্যাশা সবার। অপরদিকে সচেতন মহল মনে করেন, জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের পকেট ভারীর আশা ছেড়ে দিয়ে পরিচ্ছন্ন মন নিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহন করলেই সমাজ থেকে মাদক চোরাচালান ও মাদক সেবনের মত অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ করা সম্ভব। মাদক নিয়ন্ত্রণের নামে এসব র‌্যালি আর সভা-সমাবেশ করে অযথা সরকারী অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে বলেও ধারনা করছেন গাজীপুরের সচেতন মহল।