Amar Praner Bangladesh

মানিকগঞ্জে অনুমোদন ছাড়াই আল বারাকাহ্ হাসপাতালের চিকিৎসা বানিজ্য

 

দেওয়ান আবুল বাশার, মানিকগঞ্জ :

 

মানিকগঞ্জে অনুমোদন ছাড়াই রমরমা চিকিৎসা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে আল বারাকাহ্ হাসপাতাল। বেসরকারি এই হাসপাতালটিতে নেই ডিউটি ডাক্তার, প্রশিক্ষিত নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল। সরু সিঁড়ি ও অপরিকল্পিত ভৌত অবকাঠামোতে গঁজিয়ে ওঠা এই হাসপাতালে প্রতিদিন সেবা নিতে আসছে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার অগণিত রোগী।

জানা গেছে, মানিকগঞ্জের জয়রা রোডে অবস্থিত বেসরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে শুধুমাত্র অনলাইনে আবেদন করেই গত ২২ জুলাই থেকে জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে। অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তাসহ নামীদামি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি বিধি অনুযায়ী লাইসেন্স পাওয়ার একদিন আগেও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার অধিকার নেই কোন ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের। অনলাইনে আবেদন করা হলেও এখনো তারা লাইসেন্স পাননি। তবুও সিভিল সার্জন অফিসের এক শ্রেনির অসাধু কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে নির্বিঘ্নে আল বারাকাহ্ হাসপাতাল অনুমোদন পাওয়ার আগেই তাদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালে থাকবে দুইজন এম.বি.বি.এস ডাক্তার ও ছয় জন ডিপ্লোমা নার্স। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, আল বারাকাহ্ হাসপাতালে দুইজন আবাসিক চিকিৎসকের স্থলে রয়েছেন একজন অনকল ডাক্তার। যিনি এসেছেন অপারেশন (ওটি) করতে। অপরদিকে ছয় জন ডিপ্লোমা নার্সের জায়গায় রয়েছে এপ্রুন পরিহিত পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত ৬জন শিক্ষার্থী। ১০ শয্যার অনলাইন আবেদন করা হলেও এখানে রয়েছে ৯টি কেবিন ও ৫টি সাধারন শয্যাসহ মোট ১৪টি শয্যা। অনভিজ্ঞ এসকল শিক্ষার্থীদের দিয়েই মানুষের জীবন মরণ নিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।

এপ্রুন পরিহিত রিয়া আক্তার জানান, আমি মানিকগঞ্জ পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটে পড়াশোনা করছি। জেবাতুন্নেসা জীবন, আফরিন আক্তার, রুপালী আক্তার ও পাপিয়া বলেন, আমরা পড়াশোনার পাশাপাশি এই হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত আছি।
সাটুরিয়া উপজেলা থেকে টনসিলের অপারেশন করতে আসা রোগীর আত্মীয় নাম গোপন রেখে গণমাধ্যমকে জানান, চটকদার বিজ্ঞাপন ও দালালের খপ্পরে পরে আমার আত্মীয়কে এখানে ভর্তি করিয়েছি। হাসপাতালের লাাইসেন্স নেই জানলে এখানে রোগী ভর্তি করতাম না।

এ বিষয়ে আল বারাকাহ্ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ্ পিটি বলেন, সিভিল সার্জন অফিসে কথা বলেই কার্যক্রম শুরু করেছি। এছারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শন টিমও অবগত আছেন।

মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিধানমতে লাইসেন্স পাওয়ার আগে কোন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার কার্যক্রম চালাতে পারবেনা। যদি কোন প্রতিষ্ঠান নিয়ম না মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করে সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।