Amar Praner Bangladesh

মুক্তিযুদ্ধের গবেষক শফিউদ্দিন তালুকদার আর নেই

 

 

আ: রশিদ তালুকদার, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

 

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরস্থ শমসের ফকির ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গবেষক শফিউদ্দিন তালুকদার আর নেই। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে বুধবার(৪ আগস্ট) ভোরে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। তিনি শিক্ষিকা স্ত্রী কল্পনা পারভীন ও একমাত্র ছেলে র‌্যাইয়ান উৎসব তালুকদার সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

ভূঞাপুরস্থ নিকরাইল শমসের ফকির ডিগ্রি কলেজ মাঠে প্রথম ও বাদ আছর ভূঞাপুর মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভূঞাপুরের ছব্বিশাস্থ কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।

সদালাপী নিরহঙ্কার তরুণ বুদ্ধিজীবী শফিউদ্দিন তালুকদারের জানাজা নামাজে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বাবু, পৌর মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ, উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তোতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী, সংগঠক, শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজসেবী সহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

আপাদমস্তক সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠক শফিউদ্দিন তালুকদার ১৯৬৭ সালে টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার চরাঞ্চল গাবসারা ইউনিয়নের জুঙ্গীপুরে জন্মগ্রহন করেন। তার বাবা কুদরত আলী তালুকদার ও মাতা সখিনা বেগম। তিনি ১৯৮৮ সালে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। পরে তিনি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরস্থ নিকরাইল শমসের ফকির ডিগ্রি কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। অধ্যাপনাকালেই তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সংগ্রহে মনোনিবেশ করেন।

তৃণমূল পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি একাধিকবার স্বাধীনতা বিরোধীদের হামলার শিকার হন।
বহু ঘাত-প্রতিঘাত ও হায়েনার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে শফিউদ্দিন তালুকদার মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংগ্রহ ও গবেষণা করেছেন।
তার গবেষণামূলক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- মুক্তিযুদ্ধে ভূঞাপুর, বাংলাদেশের আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা, একাত্তরের গণহত্যা: যমুনার পূর্ব পশ্চিম, একাত্তরের বয়ান- প্রথম খন্ড, ভূঞাপুরের জনজীবন ও সংস্কৃতি ইত্যাদি।

তার প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধের মধ্যে রয়েছে- মুক্তিযুদ্ধে হাজং আদিবাসী, আদিবাসী গারো মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষদর্শীর স্মৃতিচারণ: আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে ভূঞাপুরের ঐতিহাসিক ঘটনা, সাটিয়াচড়া-গোড়ান গণহত্যা, আদিবাসী নারী মুক্তিযোদ্ধা সন্ধ্যারাণী সাংমা, সিরাজকান্দি জাহাজমারা যুদ্ধ, ছাব্বিশা গণহত্যা দিবস, ভূঞাপুর ডাকবাংলো মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর হোক ইত্যাদি। তার কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- স্বজনেরা ঘুমায়, বুকের সরোবরে প্রভৃতি।

মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও তিনি ফোকলোর ও আঞ্চলিক ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করেছেন। এ সম্পর্কিত তার কিছু বইও প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ, বাংলা একাডেমি ও ইতিহাস একাডেমির সদস্য ছিলেন।