Amar Praner Bangladesh

লে. (অব.) কর্নেল আনিসুরের জামিন নামঞ্জুর করেছে আদালত

 

 

শিউলি শিলা :

 

বন্ধুকে ভালোবাসার পরিনাম প্রাণনাশের হুমকি এবং সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে গোলাগুলি, সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের খাগান এলাকায় অবস্থিত সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামক সুতা তৈরি কারখানায় সন্ত্রাসী হামলা ও গোলাগুলির ঘটনার মামলার প্রধান আসামী অবসরপ্রাপ্ত লেঃ কর্নেল আনিসুর রহমানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

বিস্তারিত, কারখানাটির মালিক সিদ্দিকুর রহমান প্রবাসে থাকায় কারখানার চেয়ারম্যনের দায়িত্ব দেন তার বন্ধু কর্নেল আনিসুর রহমানকে। বিভিন্ন প্রকার অনিয়ম দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে গত ১৭ আগস্ট কোম্পানির বোর্ড অফ ডাইরেক্টরস দের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত হলে তিনি নতুন চেয়ারম্যানকে স্বাগত জানিয়ে সভা পরিচালনা করতে আহ্বান জানিয়ে সভাস্থল থেকে চলে যান। কিন্তু দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির পর থেকেই তিনি ব্যাপক বেপরোয়া হয়ে উঠেন। কারখানার কার্যক্রম বিঘ্নিত করতে মিডিয়া বিভিন্ন সংস্থা, এজেন্সি ও অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ আগস্ট বিকেলে কর্নেল আনিসুল সহ তার সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্র হাতে, সিমটেক্স কারখানার চারপাশে মহড়া শুরু করে। একপর্যায়ে মাইক্রোবাসে করে আসা ১৭ জন কারখানায় প্রবেশ করে সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে। তারা কারখানার দখল নেয়ার চেষ্টা করলে বাঁধা দেন কমকর্তারা। এ সময় ফ্লোর ইনচার্জ রিপন, গাড়িচালক রফিক ও জাহাঙ্গীর গুলিবিদ্ধ হন এবং আহত অন প্রায় শতাধিক। গুলির শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে সাভার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি শটগান এবং সাইত্রিশ রাউন্ড গুলিসহ ৮ জনকে আটক করে। এদিকে গুলিবিদ্ধ রিপন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে এবং তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।

উক্ত ঘটনায় কারখানার হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার জাহিদ মাহমুদ অঃ লেঃ কর্নেল আনিসুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ও ১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সাভার থানায় মামলা করা হয়। মামলা নং-০৩।

সাভার মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) দিদার হোসেন বাদী হয়ে অবৈধ অস্ত্র বহনের কারণে কামাল মৃধাকে আসামি করে অস্ত্র আইনে আরো একটি মামলা দায়ের করেন। পরদিন তাদের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। রিমান্ড মঞ্জুর হলে রিমান্ড শেষে পুনরায় আদালতে প্রেরণ করা হলে রবিবার ৪ সেপ্টেম্বর তাহার আইনজীবী আদালতে জামিন চেয়ে আবেদন করলে মহামান্য আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করে।