মেলান্দহ ফুলকোচা ৪০ দিনের কর্মসূচির নামের তালিকায় অনিয়ম দূর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ

 

(ফুলকোচা ইউনিয়ন যেন লুটপাটের হাট, হরিলুট চলছে সর্বত্র বলে অভিযোগ উঠছে এ হাটের ইজারাদার ইউপি চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম বাবু)

 

 

মোমিনুল ইসলাম (মেলান্দহ,  জামালপুর ) :

বিশ্বজুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস, গণতন্ত্র মানব কণ্যা শেখ হাসিনার সরকার দিচ্ছে প্রণোদনা, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষদের উপহার দিচ্ছে এাণ সহায়তা। দেশ উন্নয়নের নেএী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেএী শেখ হাসিনা যখন দেশের মানুষের কল্যাণ করে যাচ্ছেন অক্লান্ত পরিশ্রম, বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে করছেন দেশের উন্নয়ন। ঠিক এমন সময়ে জামালপুরের মেলান্দহে ফুলকোচা ইউনিয়নে অতি দরিদ্রদের জন্য সরকারের ৪০ দিনের কর্মসৃজনের কর্মসুচির ( ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে) ব্যাপক অনিয়ম দূর্নীতি ও লুটপাট করে খাওয়ার পায়তার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ইউপি চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম বাবু, ইউপি সচিব আ: হালিম, প্রকল্প সভাপতি সহ ইউপি মেম্বারদের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, ফুলকোচা ইউনিয়নে কর্মসৃজনের মোট শ্রমিক ৩০৭ জন। বিধিমালা অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিক দৈনিক হাজিরা হিসেবে ২০০ টাকা হারে মজুরি পাবেন। এ প্রকল্পে একজন শ্রমিক প্রতিদিন কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে ২০০ টাকা হারে মজুরি পাবেন ৪০ দিনে মোট ৮০০০ টাকা। সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে এ ইউনিয়নে ৫০ জন শ্রমিকের অর্থ হাজরাবাড়ি সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে উত্তলোন করা হয়েছে।

গোপন সূত্রে জানা যায়, ইউপি মেম্বারদের মাধ্যমে শ্রমিকদের ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে এনে, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সচিব এবং রাতের আধারে ইউপি মেম্বার সহ ব্যাংকের মাস্টার রোলে কর্মচারী (ঝাড়ুদার সুইপার) সোহাগ, বিভিন্ন শ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিভিন্ন প্রলোভনে চেক বই, চেক ইস্যু খাতা ও জব কার্ডে দস্তখত নেয়।এ দিকে জব কার্ড,শ্রমিক,দেখে চেকে টিপ সই নিয়ে শ্রমিকদের টাকা দেওয়ার কথা ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকতাদের। অপর দিকে গত শুক্রবার থেকে রবিবার অএ ইউনিয়নে কয়েকটি ওয়ার্ড় ঘুরে বিভিন্ন শ্রমিকদের সাথে কথা বললে উঠে এসেছে অএ ইউনিয়নের অনিয়ম ও ‍দূর্নীতির চিত্র। নাম প্রকাশে অনইচ্ছছুক এক মহিলা শ্রমিক জানায়, আমাদের মহিলা মেম্বর আমাদের কে ফুলকোচা ইউনিয়ন পরিষদে (যেটা হাজরা বাড়িতে অবস্থিত) সেখানে নিয়ে চার পাঁচ জায়গায় টিপ দস্তখত নিয়ে আমাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

রাতের আধারে বাড়িতে এসে মহিলা মেম্বার এক হাজার টাকা দেয় আর বলে, সাংবাদিক বা কেউ আসলে বলবেন টাকা ৮ হাজার পাইছি। সেই শ্রমিকের কাছে জানতে চাইলে আপনারা কতজন গিয়ে ছিলেন, টিপ দস্তখত দিতে এমন প্রশ্নে সে একই গ্রামের আরেক শ্রমিকের কথা জানায়, সে শ্রমিকের সাথে কথা বলতে গেলে প্রথমে সে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি না হলেও পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে , সে জানায় রাস্তায় মাটি কাটছি,ছবি উঠাইছে, চার পাঁচ খান্তি সই দিয়ে মেলান্দহ ব্যাংক থাইকা টাকা উঠাইছি ৮হাজার।।অন্য ওয়ার্ড় গিয়ে কথা হয় আরেক শ্রমিকের সাথে সে জানায়,ভাই আমি রাজমিস্ত্রী কাজ করি ইউপি মেম্বারের ছেলের সাথে পরিষদে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় টিপ দস্তখত দিয়ে বাড়ি চলে আসি।

এরপর ইউপি মেম্বরের ছেলে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে পাঁচ হাজার টাকা দিছে। রাস্তায় মাটি কাটছেন কিনা এমন প্রশ্নে, না ভাই, মাটি কাটি নাই জব কার্ড আছে কিনা জানতে চাইলে সে জানায়, জব কার্ড চিনি না,উক্ত ওয়ার্ড়ে অারো কয়েক শ্রমিকের সাথে কথা বললে তারা একই কথা জানায়।এরমধ্যে একজন শ্রমিক জানায়,মাটি কাটছি তিন মাস টাকা পাইছি পাঁঁচ হাজার।আপনি কি জানেন আপনার মজুুুরি কত? সে জানায় লোকমুখে শুনছি আট হাজার।

তাহলে আর তিন হাজার টাকা গেল কোথায়, জানতে চাইলে সে শ্রমিক জানায়,চেয়ারম্যান বাবু ৩হাজার টাকা রাইখা দিছে, একই কথা আরও কয়েক শ্রমিক জানায়।অনুসন্ধানে জানা গেল, ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে ইউপি মেম্বাররা রাতের আধারে বাড়িবাড়ি গিয়ে চেক ,এবং বলিয়ম খাতায় শ্রমিকদের টিপ দস্তখত নিলেও তারা টাকা পাইনাই।আর এ অনিয়ম কে নিয়মে পরিনিত করে অতিদরিদ্রের জন্য বরাদ্বকৃত অর্থ লোট পাট করে খাওয়ার পায়তারা করছে কয়েক পঞ্চ ভুতে।

এতে করে স্হানীয় শ্রমজীবি অতিদরিদ্র দুঃস্হ মানুষ বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের আসল লক্ষ ও উদ্দ্যেশ্য।আর এ অনিয়ম দুর্নীতি ও লোটপাটের হাটে জড়িয়ে পড়ছে ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সচিব,ইউপি মেম্বার সহ প্রকল্পের সভাপতি। উক্ত বিষয়ে ইউপি সচিবের সাথে মুুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।এদিকে কয়েকজন শ্রমিক চেক বইয়ে টিপ দেওয়ার পরও টাকা না পাওয়া এবং কর্মসুচির তালিকায় নাম থাকার পরও তাদের জানাননি ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা।টাকা না পাওয়া ও তালিকায় নাম থাকার পরও না জানার বিষয় নিয়ে ভুক্তভোগি শ্রমিকরা মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহি অফিসার বরাবর অভিযোগ প্রেরন করেন।

মুঠোফোনে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহি অফিসার, কবি তামিম আল ইয়ামিন দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ কে জানান,অভিযোগ পাওয়া গেছে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির আহব্বায়ক এসিল্যান্ড( উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি) সোভন রাংসা জানান,অভিযোগ পাওয়া গেছে,অতি দ্রুত তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আঃ রাজ্জাক জানান,আমরা অভিযোগ পাইছি অভিযোগ দেখা হইতেছে তদন্তকরার পর বলা যাবে।অনেক শ্রমিক জানেনা জব কার্ড কি এমন প্রশ্নে তিনি জানান,কোন শ্রমিক জানেনা জব কার্ড কি, এ বিষয়ে আমার জানা নাই।

তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা ফারুক মিয়া।ট্যাগ অফিসার আশরাফুল আলম জানান,মাটি তো আর শতভাগ কাটা হয়না,আমি ওদের বলছি ওরা বলছে লেবার তো পাওয়া যায়না।৫০০টাকা লেবার ২০০ টাকা দিয়ে পাওয়া যায়না।অধিকাংশ মাটি ভেকু (মাহিন্দ্রগাড়ি)দিয়ে কাটা হয়েছে। প্রশ্ন জাগে, প্রত্যেক শ্রমিক ব্যাংকে গিয়ে স্ব-শরীরে উপস্হিত থেকে চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তলোনের কথা থাকলেও ইউপি সদস্যরা রাতের আধারে শ্রমিকদের বাডি বাডি গিয়ে কাউকে ১হাজার, ৫হাজার করে টাকা দিয়ে আসে কি ভাবে? উক্ত বিষয়ে হাজরা বাড়ি সোনালী ব্যাংক ম্যানেজারের সাথে কথা বললে ব্যাংক ম্যানেজার সরোয়ার হোসেন, বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন ব্যাংকের বাইরে কি হয়েছে সেটা জানিনা।নাম গোপন রাখার শর্তে এক ইউপি মেম্বার জানান, শ্রমিকরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে অানলে চেয়ারম্যান প্রতি শ্রমিকের কাছ থেকে মাটির বিল দেওয়ার জন্য ৩হাজার করে টাকা রেখে দিয়েছেন।

এদিকে অদৃশ্য শক্তির বলে রহস্যজনক ভাবে শ্রমিকদের ছাড়াই ব্যাংক থেকে লাখ লাখ টাকা উত্তলোন করে ভাগাভাগি করার পায়তারা করলেও শ্রমিকরা কেউ কিছুই জানেনা। পরে জানাজানির পর শ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে রাতের আধারে টাকা দিয়ে আসে ইউপি মেম্বাররা। যার কারনে এই ইউনিয়নের মানুষের মুখে মুখে কর্মসুচি এখন “৪০ দিনের লোটপাট ও চুরি কর্মসুচি নামে পরিচিতি পাচ্ছে”।সচেতন মহলের দাবি সরকার যে উদ্দেশ্যে এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে সেটি সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন না হলে সরকারের ভাবমুর্ত্তি ক্ষুন সহ ছোট বড় অনিয়ম দূর্নীতি ও লোটপাট বেড়ই চলবে বলে জানান তারা। অনিয়ম দূর্নীতি ও লোটপাটের হাটের জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেওয়ার দাবি জানান সচেতন মহল।অপরদিকে উক্ত ইউনিয়ন সহ অন্য কোন ইউনিয়নের অনিয়ম দূর্নীতি ও লোটপাট নিয়ে ৩য় পর্বে থাকবে অনুসন্ধানী মূলক আরও প্রতিবেদন দেখতে চোখ রাখুন দৈনিক আমার প্রানের বাংলাদেশ পএিকায়।