রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৪:০৮ অপরাহ্ন

মেহেরপুরে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় ৭ জনের যাবজ্জীবন

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৩ মে, ২০১৮
  • ২৪ Time View

মেহের আমজাদ,মেহেরপুর:
মেহেরপুরে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় ৭ জনের যাবজ্জীবন দিয়েছেন আদালত। চাঞ্চল্যকর শাজাহান হত্যা মামলায় মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার নিশিপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দীন, আলম, ইলিয়াস, ভাদু, সমশের, কাজল ও শহিদুল নামের ৭ জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং প্রত্যেকের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৩ বছর করে কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার বিকালে মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাঃ নুরুল ইসলাম এ রায় দেন। সাজা প্রাপ্ত গিয়াস উদ্দীন নিশিপুরের সুলতান আলীর ছেলে, ভাদু ও সমশের আলাউদ্দীনের ছেলে। কাজল একই গ্রামের আলতাফের ছেলে এবং শহিদুল সোলেমানের ছেলে। সাজা প্রাপ্তদের মধ্যে সমশের পলাতক রয়েছে। সে আটক কিংবা আত্মসমর্পন করার দিন থেকে তার সাজা শুরু হবে।

চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিবরণে জানাগেছে ২০১১ সালের ৯ এপ্রিল গাংনী উপজেলার নিশিপুর গ্রামের নজর আলীর ছেলে শাজাহান ঘটনার দিন তার ঘরে শুয়ে মোবাইল ফোনে গান শুনছিল। ঐ সময় জিনিয়াস স্কুলের শিক্ষক সুলতানের ছেলে গিয়াস উদ্দীন তার বাড়ি প্রবেশ করে গান বন্ধ করতে বলে। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাদানুবাদ হয় এবং স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়। এদিকে ঐ দিন বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে আগের ঘটনার জের ধরে গিয়াসের নেতৃত্বে তার লোকজন শাজাহানের বামন্দীর মটর হাউজে প্রবেশ করে শাজাহানের উপর হামলা চালায়। হামলায় শাজাহান মারাত্বক আহত হয়। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে বামুন্দীর একটি ক্লিনিকে পরে কুষ্টিয়া সবশেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শাজাহানের ভাই হাবিবুর রহমান বাদি হয়ে গাংনী থানায় ১০ জনকে আসামী করে দন্ড বিধি ৩০২/৩৪, ৪৪৭/৩৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-৯। পরে মামলার তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১১ অক্টোবরে চার্যশীট দাখিল করেন। মামলায় মোট ১৪ জন স্বাক্ষি তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন।

এতে গিয়াস, আলম, ইলিয়াস, ভাদু, সমশের, কাজল ও সাইদুলের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাদের যাবজীবন সশ্রম কারাদন্ড, প্রত্যেকের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৩ বছরের কারাদন্ড দেন। এ মামলার আসামী সমসের পলাতক রয়েছে। মামলার অপর আসামী ঝন্টু, মিনা ও কাদেরের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় আদালত তাদের বেকসুর খালাস প্রদান করেন।
মামলায় রাষ্ট্র পক্ষে অতিরিক্ত পিপি কাজী শহীদুল হক এবং আসামী পক্ষে এ্যাড. সফিকুল আলম কৌশুলী ছিলেন। এর আগে বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেলা ৩টা ১ মিনিটে আদালতে প্রবেশ করেন। এসময় কাটগড়াই উপস্থিত আসামীদের নাম পড়ে শোনান। এর পর পরই তিনি চঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষনা করেন।

এদিকে রায় ঘোষনা করার পর পরই নিহত শাজাহানের পিতা বলেন রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে রায় যাতে কার্যকর হয়। মামলার রাষ্ট্র পক্ষে কৌশুলী অতিরিক্ত পিপি কাজী শহীদুল হক বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। কারণ এ ধরনের হত্যাকন্ড এই ধরনের শাস্তি আমরা আশা করেছিলাম। মামলার বাদী হাবিবুর রহমান বলেন এ রায়ে আমরা খুশি আমরা চায় এই রায় বলবৎ থাকবে। পরবর্তীতে যাতে কেউ এই ধরনের অপরাধ করতে সাহস না পায়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category