Amar Praner Bangladesh

মৌলভীর হাট মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম নিয়োগ বাণিজ্য দাতা সদস্য পরিবর্তনের অভিযোগ

 

 

ষ্টাফ রিপোর্টার

 

ভোলা সদরের ২ নং ইলিশা ইউনিয়নের ইলিশা জংশন বাজারে অবস্থিত মৌলভীরহাট হোসাইনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম নিয়োগ-বাণিজ্য আত্মীয় করন দাতা সদস্যের নাম পরিবর্তন সহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চাকরিপ্রার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায় শিক্ষক নিয়োগের কথা বলে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেয়া, অডিটের নাম দিয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রতিবছর এক মাসের বেতন কর্তন করে নেয়া, নিজের ব্যক্তিগত কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানে নানা ধরনের ভাউচার তৈরি করা সহ নানা ধরনের অনৈতিক অবৈধ পন্থায় অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানের সাবেক কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায় যে অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম তার বাবা প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ মফিজুল ইসলামের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন, উত্তরাধিকার সূত্রে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ, মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগ আইনের সঠিক প্রয়োগ হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তৎকালীন নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে মেনে নিয়োগ প্রদান করেছেন কিনা তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষক শিক্ষিকারা এবং অভিভাবকবৃন্দ।

অনিয়মের আরেকটি বড় উদাহরণ হল একই প্রতিষ্ঠানে বর্তমান অধ্যক্ষের চাচাতো ভাই নিজাম উদ্দিন হলেন প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যক্ষ, বোন, চাচাতো বোন, চাচা, চাচাতো বোন জামাই সহ প্রায় একাধিক আত্মীয়-স্বজন অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকতার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এ সকল নিয়োগ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে হয়েছে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। তার সকল নিয়োগ বাণিজ্য অনিয়মের অন্যতম সহযোগী হচ্ছেন তার বাবা সাবেক অধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম তার ছোট ভাই মনিরুল ইসলাম সহ আরো কয়েকজন শিক্ষক।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে ইতিপূর্বে তার বাবা মাওলানা মফিজুল ইসলাম অধ্যক্ষ হিসেবে থাকাকালীন দুর্নীতি দমন কমিশনে অনিয়ম নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল, অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করেছিল কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পরে উক্ত তদন্তটি আলোর মুখ দেখেনি, আজ পর্যন্ত ওই তদন্তের কোন কুল কিনারা হয়নি।

বিশেষ সূত্র মারফত জানা যায়, গত ২০১৬ সালে ভোলা ১ আসনের এমপি জননেতা আলহাজ তোফায়েল আহমেদ এর বিশেষ সুপারিশে অফিস সহকারি পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিকট থেকে অধ্যক্ষের ভাই মনিরুল ইসলামের বাসায় তাকে আটকিয়ে ব্ল্যাংক স্ট্যাম্পে সিগনেচার নিয়ে ওই অফিস সহকারীকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে তিন লক্ষ টাকা আদায় করেছিল।

নিয়োগপ্রাপ্ত অফিস সহকারীকে হুমকি দিয়েছিল যে,সে যদি কোন কিছু প্রকাশ করে তাহলে চাকরি থেকে তাকে বরখাস্ত করা হবে, এই ভয়ে ওই অফিস সহকারি এ বিষয় নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। সূত্র মারফত আরো জানা যায় দাতা সদস্যের নাম পরিবর্তন করে নিজস্ব লোককে দাতা বানিয়ে একের পর এক নানা অনিয়ম করে চলেছেন অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম। স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায় যে ১৯৯০ ইং সালে ইলিশা জংশন এর অধিবাসী মরহুম জয়নাল আবেদীন কন্ট্রাকটর জৈনপুরী পীর হযরত হোসাইন আহমেদ সিদ্দিকী সাহেবের প্রতি ভক্তি করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তার ক্রয় কৃত জমির একটি অংশ মৌলভীর হাট মাদ্রাসা মসজিদ এবং হুজুরের খানকা শরীফের জন্য দান করেছিলেন। বাকি অংশে মরহুম জয়নাল আবদীন কন্টাকটার তার নিজের বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পুকুর, বসতভিটা, দোকানঘর নির্মাণ করে, ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছেন দীর্ঘদিন যাবত।

সাবেক অধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ১৯৯০ সালে তৎকালীন গাজীপুরকে নদী ভেঙ্গে ফেললে সেখান থেকে মাদ্রাসাটা এনে জংশনে মরহুম জয়নাল আবেদীন কন্টাক্টর এর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করেন।তখন আর্থিক অভাব-অনটনের কারণে মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সহ অবকাঠামো নির্মাণ,নানা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মরহুম জয়নাল আবদীন কন্টাকটার এর নিকট থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা করেছিলেন সাবেক অধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম।স্থানীয় অধিবাসী সহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষিকা বৃন্দ সাবেক ছাত্র ছাত্রী সহ ভোলা সদরের অনেকেই অবগত রয়েছেন।

জমি দাতা মরহুম জয়নাল আবদীন কন্টাকটারের ছেলেদের সাথে কথা বললে তারা বলেন আমার বাবা ১৯৯০ সালে মৌলভীরহাট হোসাইনিয়া মাদ্রাসা মসজিদ এবং হুজুরের ক্যাম্পের জন্য জমি দান করেছিলেন, আমরা মূলত আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের জন্য জমি দান করেছিলাম কিন্তু প্রতিষ্ঠান কিভাবে চালিয়েছে আমরা সেদিকে খেয়াল করি নাই, আমরা মনে করেছি শিক্ষকরা হলো মানুষ গড়ার কারিগর, তারা তাদের মতো চালাক, প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রছাত্রীরা যেন লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হয়ে চাকরি-বাকরি করে বড় প্রতিষ্ঠানে কাজকর্ম করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

কিন্তু অধ্যক্ষ এবং তার আত্মীয়-স্বজনরা তা না করে সেখানে নানা অনিয়ম নিয়োগ বাণিজ্য করে বেড়াচ্ছেন, এমনকি বিশ্বস্ত সূত্র মারফত জানতে পারলাম দাতা সদস্যের নামো নাকি তারা পরিবর্তন করে ফেলেছেন, আমরা ভোলা সদর আসনের এমপি জননেতা আলহাজ তোফায়েল আহমেদ এমপি, ভোলার জেলা প্রশাসক, প্রতিষ্ঠানের বর্তমান গভর্নিং বডির সভাপতি ভোলা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন এর কাছে জোর দাবি জানাই বিষয়টি যেন তারা তদন্ত করে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

স্থানীয় অধিবাসীদের কাছ থেকে আরো জানা যায় যে অত্র প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম থানা জামায়াতের আমির, সে ভোলা সদরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য নানা ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন, অনেক ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানকেই জামায়াতের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করছেন। তার ভাই বাবা এবং চাচাদের মাধ্যমে সে অত্র মাদ্রাসার অনিয়ম নিয়োগ বাণিজ্য সহ নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।

অনিয়ম নিয়োগ-বাণিজ্য সহ এসকল বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম এর মুঠোফোনে ফোন দিলে তাকে পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অধিবাসী এবং অভিভাবকবৃন্দ দাবি করেন বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় এমপি জননেতা তোফায়েল আহমেদ জেলা প্রশাসক উপজেলা চেয়ারম্যান দুর্নীতি দমন কমিশন সকলকেই এদের ব্যাপারে তদন্ত করে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করা, তা না হলে মৌলভীর হাট হোসাইনিয়া মাদ্রাসা টি ধ্বংস করে দিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিবে এই চক্রটি।