ম্যানসিটিকে বিদায় করে লিও সেমিফাইনালে

 

আহমেদ জেহান হক,স্পোর্টস ডেস্ক:

 

ম্যানচেস্টার সিটিকে বিদায় করে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে অলিম্পিক লিওঁ।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে লিসবনে সিটিজেনদের ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে। এই নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে গার্দিওলার সিটিকে।

সেমিফাইনালে লিও খেলবে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে। প্রতিযোগিতার অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে প্যারিস সেন্ট জার্মেই এবং আরবি লাইপজিগ।

এই প্রথম ফ্রান্সের দুটি দল চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেমিফাইনালে খেলছে। ম্যানসিটি হেরে যাওয়ায় ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম ইংল্যান্ড, ইটালি এবং স্পেনের কোন দল ছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেমিফাইনাল হচ্ছে।

ঘরোয়া ফুটবলে দারুন করলেও পেপ গার্দিওয়ালার ম্যানসিটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগে সুবিধা করতে পারছেনা। এ নিয়ে পর পর তিন মওসুম তারা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যায় থেকে বিদায় নিল। ম্যাচ শেষে ম্যানসিটির খেলোয়াড় কেভিন ডি ব্রুইন হতাশ কন্ঠে বলেন, ‘বছর আলাদা কিন্তু ফল একই। আমার মনে হয়েছে প্রথমার্ধ ঠিক ছিলনা। আমরা শুরুটা করেছিলাম ধীর গতিতে। আমাদের আসলে কোন উপায়ও ছিলনা। দ্বিতীয়ার্ধ আমরা ভাল খেলেছি। এভাবে বিদায় নেয়াটা আমাদের জন্য লজ্জার। আমাদের বুঝতে হবে যে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে আমাদের এ সামর্থ যথেষ্ঠ নয়।’

দুর্দান্ত গতিময় ফুটবল খেলে ম্যাচের ২৬ মিনিটেই কাউন্টার অ্যাটাকে গোল পেয়ে যায় রুডি গার্সিয়ার দল। কর্নেইয়ের সেই গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় লিওঁ। ৬৯ মিনিটে রহিম স্টার্লিংয়ের কাট ব্যাক থেকে ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশে সিটিকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন অবিশ্বাস্য ফর্মে থাকা কেভিন ডি ব্রুইন।

গোল হজম করে সময়তায় ফিরলে মাঠে পরিবর্তন আনেন লিওঁ’র কোচ। অধিনায়ক মেম্ফিস ডিপাইকে তুলে নিয়ে তার বদলি হিসেবে ৭৫ মিনিটে মাঠে নামান মুসা ডেম্বেলেকে। বদলি হিসেবে মাঠে নামা মুসা ডেম্বেলে ম্যাচের ৭৯ এবং ৮৭ মিনিটে দুর্দান্ত দুই গোল করেন। আর এতেই লিওঁ’র জয় নিশ্চিত হয়।

গার্দিওয়ালার অধীনে ম্যানসিটি তিন মওসুমের মধ্যে দুইবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ জয় করেছে। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিততে পারেনি। তিনি অবশ্য ২০১১ সালের পর কোন দলের হয়েই চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিততে পারেনি। শেষবার তিনি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিতেছিলেন বার্সেলোনার কোচ হিসেবে। এ ম্যাচে তিনি একজন অতিরিক্ত ডিফেন্ডার নামিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। মিডফিল্ডে ছিল তিনজন এবং আক্রমনভাগে দুই খেলোয়াড় খেলান। ম্যানসিটির শুরুটা ধীর গতিতে হলেও রাহিম স্টার্লিং দুইবার বল নিয়ে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে ঢুকতে পেরেছিলেন। কিন্তু ঐ পর্যন্তই।

আগের ম্যাচে তারা জুভেন্টাসকে বিদায় করে উঠে কোয়ার্টার ফাইনালে।