Amar Praner Bangladesh

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের অলৌকিক ঈদ তহবিল

 

সাইদুর রহমান রিমনঃ

খবরটি কি আনন্দের! নাকি বেদনার! তা ঠাহর করতে কষ্ট হচ্ছে। সারাদেশের মধ্যে বোধকরি শুধু ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকই বিভিন্ন সংগঠনের জন্য বিশেষ ঈদ বখশিস দিয়ে চলছে। এ কারণে নানা নামে নানা সংগঠনের পক্ষ থেকে এই জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন নিবেদনের হিড়িক পড়ে গেছে। অন্য সংগঠনগুলোর নাম ধাম তেমন চাউর হচ্ছে না, বারবারই শুধু সাংবাদিকদের আবেদনের তালিকা প্রচার পাচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত জেলা উপজেলা পর্যায়ের ১১টি প্রেসক্লাব ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে ঈদ রিলিফের জন্য। সেখানে নতুন নতুন সাংবাদিক সংগঠনও গজিয়ে উঠেছে-তা ঈদ রিলিফের জন্য কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তবে একই পরিবারের এমনকি স্বামী এক সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে এবং তার স্ত্রী কৃষকলীগের পক্ষ থেকে ঈদ বখশিস চেয়ে আবেদন করার নজির স্থাপন করেছেন। কেন্দ্র থেকে এমন রিলিফ সংগ্রহের নির্দেশ না থাকার পরও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের নাম ভাঙ্গিয়েও রিলিফ প্রার্থনার খবর পাওয়া গেছে। বাহ্, বেশ ভালো! ভূয়া ট্রাস্ট দাবিদাররাও মফস্বল সাংবাদিকদের ব্যানারে রিলিফ হাতিয়ে নেয়ার যে ফন্দিফিকির চালাচ্ছেন সে ব্যাপারেই বারবার প্রতিবাদ করে চলছেন ময়মনসিংহের সিনিয়র সাংবাদিক বদরুল আমিন।

ময়মনসিংহ শহর জুড়ে, রেলষ্টেশনের আশপাশে, ব্রম্মপুত্রের তীর ধরে ঝুপরি বস্তির ঘর তুলে চলে হাজারো অসহায় মানুষের মানবেতর বসবাস। সেসব পরিবারে ঈদ বলতে আলাদা কোনো দিবস ভাগ্যে জোটে না। নিদেনপক্ষে একবেলা একটু সেমাই খাওয়ার ব্যবস্থাও হয় না তাদের। নতুন জামা কাপড় নাইবা জুটলো, একটু মিষ্টি মুখ করারও কী উপায় নেই? জেলা প্রশাসকের তহবিলে অলৌকিক অর্থবিত্ত থেকে কিছু কি করা যায় না? তবে সংগঠনগুলোর নামে বরাদ্দ দেয়ার ফাঁকে কমিশনের ব্যাপার স্যাপার থাকলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কিছু করার দরকার নাই। কারণ ওখানে তো দাতা গ্রহিতা উভয়েরই লাভ- দরিদ্ররা পেলেও ঈদ হবে, না পেলেও ঈদ হবে।