Amar Praner Bangladesh

শেরপুরে মাদ্রাসার এসএসসি ২০২২ শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

 

 

মোঃ শামছুল হক :

 

শেরপুর সদর উপজেলার, ঐতিহ্যেবাহী যোগিনীমুরা ফসিহ্ উল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ২০২২ এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে( ৯ জুন) বৃহস্পতিবার ১০ ঘটিকায় মাদ্রাসা মাঠে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিদায় আলোচনা সভায় সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ,যোগিনীমুরা ফসিহ উল উলুম দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান দুলাল মিয়া,সঞ্চালনায় ছিলেন,শেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন,
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, অত্র মাদ্রাসার সাবেক সুপার, আবু রাশেদ বাকের পীর সাহেব হুজুরের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অত্র মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম, আরও উপস্থিত ছিলেন,সহকারী সুপার মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান,মাওলানা হানিফ উদ্দিন,সিনিয়র শিক্ষক রেজাউল করিম, সহ অত্র প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।পরে আলোচনা সভায় শেষ পর্বে ছাত্র ছাত্রীদের হাতে লাল গুলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ।

অন্যন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, যোগিনীমুরা ফসিহ্ উল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সুপার,আনোয়ারুল ইসলাম তিনি বলেন।
আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আগামী দিনে তোমাদেরকেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে।দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তোমাদেরকেই যোগ্য নাগরিক হিসেবে তৈরি হতে হবে। তবেই দূর্নীতি ও সন্রাস মুক্ত হবে।

আজকের দিনটা অতি কষ্টের বেদনাময় হলেও, অতি কষ্টে বিদায় দিতে হচ্ছে তোমাদেরকে,তোমরা তোমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তোমাদের মা বাবার স্বপ্ন পুরণ করবে।সেই সাথে দেশের জন্য কাজ করে যাব।আরেকটা মূল বিষয় হলোঃ
তোমরা দেশের আগামীদিনের কর্ণধার। তোমাদের অভিজ্ঞতা অধ্যাবসায় ও কর্তব্য নিষ্ঠা সংযত আচরণ বিনস্ম মনেবৃত্তি সুনিদিষ্ট লক্ষ্যাভিসার গভীর পাঠানুরাগ তোমাদের দান করুক মহত্তর চারিত্রিক সম্পদ। মনে রেখ লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের দেশ আজ স্বাধীন জাতি আজ প্রত্যাশা করে দুঃখ, দারিদ্র অন্ধকার যুচিয়ে তোমরা গড়ে তুলবে একটি সুখী ও সমৃদ্ধীশালী বাংলাদেশ।আমরা জন্মগত ভাবে মানুষ। মানুষের পরম করণীয় ও বরণীয় কাজ হল শিক্ষা। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন করতে হবে। অর্জিত জ্ঞানই সত্যিকারের জ্ঞান । বই পুস্তক সহায়ক শক্তিমাত্র । বিদ্যালয়ে আসে সবাই, আবার চলে যাবেও সবাই। জীবনই শিক্ষা, শিক্ষাই জীবন। জীবনের এই নব দিগান্তের উদ্দেশ্য তোমাদের এ অভিযাত্রা তোমাদের সামনে সোনালী প্রত্যাশা।

এই বিদ্যা পীঠে জ্ঞান সাধনার মাধ্যমে তোমাদের মাঝে যে অতৃপ্ত আঙ্খা তীব্রতা গতি লাভ করেছে তারই নিরসনে আজ তোমরা বৃহত্তর জ্ঞান সাধনার পাদপীঠে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছ,আজকের এই বিদায় অনুষ্ঠানে তোমাদেরকে আমরা অতি কষ্টে বিদায় দিলে ও আমরা আনন্দিত।কারণ তোমরা তোমাদের নতুন পরজন্মে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে যাচ্ছ।আজকের এ দিনটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকুক, ও তোমাদের ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্যে কামনা করছি।যেখানেই যাও তোমরা সব সময় খেয়াল রাখবে তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।তোমরাই পারবে দেশকে এগিয়ে নিতে।

বিদায় ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অত্যান্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বলতে হচ্ছে আজ আমাদের বিদায় অনুষ্ঠান। যদিও আমরা মনে করি এটা একটা বিদায়ের আনুষ্ঠানিক মাত্র। কারণ মন থেকে চিরতরে বিদায় নেওয়া কখনো সম্ভব হবে না। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করেছি, প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ আমাদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে অত্যান্ত দক্ষতার সাথে পাঠদান ও বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য করেছেন তা আমরা কখনোই ভুলতে পারবনা। এজন্য আমরা আপনাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। কিন্তু ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও আমাদেরকে আজ অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে। আজ শিক্ষাজীবনের একটি অধ্যায় সমাপ্ত করে পরের আরেকটি অধ্যায়ে পা রাখার উদ্দেশ্যে আমরা বিদায় নিচ্ছি। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন ভবিষ্যতে শিক্ষাজীবনে আরো উন্নতি করে দেশ ও জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারি।

এছাড়াও দীর্ঘদিন শিক্ষাজীবনে আপনাদের অনেক শাসন-বাড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে যা সাময়িক বিরক্তিকর মনে হলেও এখন এই শেষ মুহূর্তে বুঝতে পারছি এটা আমাদের জন্য কতটা দরকারি ছিলো। তাই আমাদের কোনো আচরণের যদি কোনো শিক্ষক শিক্ষিকা কষ্ট পেয়ে থাকেন বা ছোট কিংবা বড় কোনো ভুল করে থাকি তাহলে আমাদেরকে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন।সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে আমি বিনীতভাবে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। এবং সেই সাথে ছোট ভাইদের বলবো তোমরা কখনো শিক্ষক শিক্ষিকার সাথে খারাপ আচরন করবে না।পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষিকাবৃন্দের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিদায় ছাত্রী বক্তব্য শেষ করেন।