Amar Praner Bangladesh

রাজধানীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

রাজধানীর বেশ কিছু এলাকাসহ সারা দেশে হঠাৎ করেই ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার রোগীরা চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন আইসিডিডিআর’বি হাসপাতালে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ডায়রিয়া পরিস্থিতি খানিকটা উদ্বেগ তৈরি করলেও আক্রান্তদের চিকিৎসায় সরকারি হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ঢাকার কয়েকটি এলাকায় অনেক মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে আইসিডিডিআর’বি হাসপাতালে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সংখ্যক রোগী আসছে। এদের অনেকে ভর্তি হচ্ছেন। তবে যেসব রোগী আসছেন, তাদের বেশিরভাগই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, আইসিডিডিআর’বিসহ সব সরকারি হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত শয্যাসহ খাবার স্যালাইন, ওষুধ এবং অন্যান্য লজিস্টিক সাপোর্ট মজুত রয়েছে।

সরেজমিন বুধবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর আইসিডিডিআর’বি হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। পুরো হাসপাতাল ডায়রিয়া রোগীতে পূর্ণ।

আইসিডিডিআর’বি সূত্র জানায়, এ বছরের ২৮ মার্চ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৩৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এসব রোগীদের অনেকের বয়স পাঁচ বছরের কম। তবে মঙ্গলবার ভর্তি হওয়ার রোগীর সংখ্যা আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এদিন রোগী ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৪১ জন। হাসপাতালের শয্যার বাইরে ফ্লোরিং এবং তাবুতে রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এসব রোগীদের।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর বাসাবো, মুগদা, জুরাইন, কদমতলী, যাত্রাবাড়িসহ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দা বেশি আসছেন বলে জানালেন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জোবায়ের চিশতি। এসব এলাকায় ওয়াসার ময়লা, দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহার এবং পান করার কারণেই তারা আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান ওই চিকিৎসক। যদিও ওয়াসার পানির কারণে কেউ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হননি বলে মঙ্গলবার জোর দিয়ে বলেছিলেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকীম এ খান।

ডায়রিয়া মোকাবিলায় করণীয় প্রসঙ্গে চিকিৎসক জোবায়ের চিশতি বলেন, ডায়রিয়া থেকে বাঁচতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ সময়ে প্রাকৃতিক কারণে ডায়রিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। তবে বৃষ্টি হলে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা কমে যাবে। বিশুদ্ধ নিরাপদ পানি পান করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, নিয়মিত সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া, যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ না করা, খোলা ও অনিরাপদ খাবার না খাওয়া- এসব বিষয়ে নজর রাখলে ডায়রিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন তিনি।

রমজানে বাইরের ভাজা পোড়া খাবার কম খাওয়ার পাশাপাশি খোলা, কাটা বিভিন্ন ফল না খাওয়ার পরামর্শও দেন এই চিকিৎসক। বাধ্য না হলে সবাইকে গরম এড়িয়ে চলার কথা বলেন তিনি। একান্তই বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে ছাতা ব্যবহার করা, সুতির জামা কাপড় পরা, বেশি করে রসালো ফল ও তরল খাবারের পরামর্শও এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের।