রাজধানীর তুরাগে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে কেমিক্যাল গোডাউন

 

 

ইকবাল হোসেন চৌধুরীঃ

 

রাজধানীর তুরাগ থানার বাউনিয়া এলাকার বালদলি মেইন রোডের পাশে মৃত্তিকা আবাসিক সোসাইটির মধ্যে গড়ে উঠেছে নামবিহীন ভুয়া কেমিক্যাল গোডাউনটি ।

প্রতিষ্ঠানটি আবাসিক এলাকায় কিভাবে গড়ে উঠেছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমতে।

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অবৈধ পন্থায় প্রতিষ্ঠানটি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরণের দূর্ঘটনা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বিস্তৃর্ণ জমির অংশ নিয়ে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি। এখানে তারা তাদের কেমিক্যাল গুদামজাত করে রাখে। পাশেই বসবাস করছে কয়েকশত পরিবার। নেই কোন পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। কোম্পানীটি সরকারী অনুমোদনহীন বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল গুদামজাত করে রেখেছে। আব্দুল বাতেন ও মাতলাবুল ইসলাম যৌথ ভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছে।

স্থানীয়রা জানান, বিগত সময়ে আমরা কেমিক্যাল গোডাউন থেকে অগ্নিদগ্ন হয়ে অনেক মানুষকে লাশ হতে দেখেছি। আমরা চাই না আর এমনটা হোক। স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, এখানে জনগণের জন্য ক্ষতিকারক কোন কিছু করা হলে আপনাদের মাধ্যমে তা বন্ধ করা হোক। আমাদের সোসাইটিতে কয়েক হাজার লোকের বসবাস। আমরা এর একটা সুষ্ঠ সমাধান চায়। যদিও আবাসিক এলাকায় কেমিক্যাল গোডাউনের কোন অনুমতি নেই।

এ দিকে গত বছর সরকারী ভাবে আবাসিক এলাকায় সকল প্রকার কেমিক্যাল গোডাউন সরিয়ে নিতে বলা হয়।

রোববার ১৯ জুলাই সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহে গেলে প্রতিষ্ঠানে কাউকে পাওয়া যায় নাই।

পরবর্তীতে কোম্পানীর মালিক আব্দুল বাতেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ হলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কোম্পানীর সব কাগজপত্র করা আছে। আপনি যা পারেন করেন। আমার সাথে উত্তরা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনারের সাথে কথা হয়েছে। আপনারা বসেন উনি আসতেছে বলে সাংবাদিকদের হুমকি প্রদান করেন।

দীর্ঘ দুই ঘন্টা অপেক্ষা করার পর কেউ না আসলে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল থেকে চলে আসে। এভাবেই বিভিন্ন পন্থায় প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে উত্তরা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার নাবিদ কামাল শৈবাল বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে কথা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আপনাদের সহযোগীতায় থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে বিপজ্জনক কেমিক্যাল পরিবহন, মজুদ এবং সংরক্ষণে সচেতনতা জরুরী। কেমিক্যাল ব্যবসার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের অবশ্যই কেমিক্যালের বিষয়ে বিস্তর জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারের নীতিমালা মেনে কেমিক্যাল আমদানি, পরিবহন এবং সংরক্ষণ করতে হবে। তা না হলে কেমিক্যাল বিস্ফোরণে ভয়াবহ দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।