Amar Praner Bangladesh

রাষ্ট্রের স্তম্ভ পাহারায় পুলিশ সাংবাদিকের যতো মিল-অমিল

 

 

প্রাণের বাংলাদেশ ডেস্ক :

 

পুলিশ ও সাংবাদিকতা পেশায় চমৎকার মিল রয়েছে। সুনামে, দুর্নামে, কাজের ধরনে ও করণে পেশা দুটি মিলে যেন একাকার। জানা কথা, রাষ্ট্র ব্যবস্থার চারটি স্তম্ভ রয়েছে। আইনবিভাগ, বিচারবিভাগ, নির্বাহীবিভাগ ও সংবাদপত্র। সংবাদপত্রকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বা ফোরথ এস্টেট। রাষ্ট্রের ফোরথ এস্টেট বা চার নম্বর খুঁটিটা দাঁড় করিয়ে রাখতে তথ্য শক্তি দিয়ে দায়িত্ব পালনে ভূমিকা রাখছেন সাংবাদিকরা।

সংবাদদাতা বা সাংবাদিক (ইংরেজি ভাষায়: Journalist) মানেই হলো, বিভিন্ন স্থান, ক্ষেত্র, বিষয় ইত্যাদিকে ঘিরে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংবাদ সংগ্রহসহ বিভিন্ন ধরণের তথ্য সংগ্রহপূর্বক সংবাদ কিংবা প্রতিবেদন রচনা করে সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা। অন্যদিকে রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে সুশৃখ্ঙলভাবে পরিচালনা বা নির্বাহের দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাহী বিভাগের পুলিশ বিভাগ। আর পুলিশ মানেই হচ্ছে একটি দেশের দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত আইন কার্যকর, সম্পত্তি রক্ষা, সামাজিক অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং জনগণের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী। অতি পুরান কথা, পুলিশ আর সাংবাদিকতা তেমন কোন সুযোখ-সুবিধার পেশা নয়। বেতনের পরিমাণ, দায়িত্ব পালনের সময়সীমা ও অন্যান্য প্রণোদনা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে পেশা দুটি যেন আপন ভাই তুল্য।

দায়িত্ব পালনে স্থায়ী কোন সময় বেঁধে দেওয়া নাই। যেকোন সময় যে কোন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করে রাষ্ট্রের খুঁটি ধরে রাখতে হবে। খুঁটি যেন কোন একটি মুহূর্তের জন্য হেলে না পড়ে। তবে এ অপর্যাপ্ত সুবিধার মাঝেও রাষ্ট্র স্তম্ভের মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পেশা দুটির বাহিনীরা ভোগ করে এক ধরনের পাওয়ার বা শক্তি। এই শক্তি ভোগের ক্ষেত্রে পেশা দুটির মধ্যে রয়েছে অতি চমৎকার মিল। পুলিশ বা সাংবাদিক শব্দ দুটিতে অন্যান্য সব পেশার মানুষের মধ্যে আগ্রহ বা অনাগ্রহ কাজ করে। যারা বঞ্চিত, নিগ্রহ তারা আগ্রহ নিয়ে পুলিশ বা সাংবাদিকের শুভ শক্তির কাছে প্রতিকার পেতে আসে।

এমতাবস্থায় যখন দায়িত্ব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহীতার সাথে অধিকারহীনদের অধিকার পূরণে সাংবাদিকরা রাষ্ট্র অর্পিত শক্তি প্রদর্শন করে তখন এ পেশার সুনাম রাষ্ট্রের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে যায়। সন্ত্রাস, জঙ্গি ও ধর্মীয় উগ্রপন্থার মতো বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জিং ইস্যুতে নিজ দেশসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অবদান রাখায় বাংলাদেশের তরুণ সাংবাদিক আব্দুল্লাহ্ আল মামুন (শের ই গুল)কে দেয়া হয় আন্তর্জাতিক সম্মাননা। সাহসী সাংবাদিকতায় সাগর-রুনীর ইতিবাচক ভূমিকা বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত। এছাড়া বৈদেশিক সাংবাদিকরাও ১৯৭১ সালে মানবিক অবদান রাখায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের মানুষের কাছে শুভ শক্তির সঠিক প্রয়োগে ইতিহাস হয়ে আছেন।

ভয়েস অব আমেরিকার সাংবাদিক ডোনাল্ড উইভার, বাঙালি-আমেরিকান সাংবাদিক গ্র্যান্ট পার, অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড, রয়টার্সের প্রতিনিধি সাইমন ড্রিং ও নিউইয়র্ক টাইমসের সিডনি শ্যানবার্গ সাংবাদিক জগতে বাংলাদেশের ইতিহাস। শুভ শক্তির ইতিহাস কায়েমে পুলিশও পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল সময় হলো ১৯৭১ সাল। তারা ২৫ শে মার্চ ১৯৭১ তারিখে ঢাকার রাজারবাগের পুলিশ লাইন্সে ২য় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত বাতিল .৩০৩ রাইফেল দিয়ে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্রে বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১২৬২ জন অদম্য, নিঃস্বার্থ শহীদ পুলিশ সদস্যের তালিকা স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিল পত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়।

ঘুষ আর দুনীর্তির কারণে একসময়ে অধিক পরিচিত এই বাহিনী সম্প্রতি তার শুভ শক্তির সঠিক প্রয়োগে জনগনের প্রতি দায়িত্ববোধের প্রমাণ দিয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানসহ ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজন হোটেলে পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাণ বিলিয়ে দেয়ার মাধ্যমে। আবার দুর্নামেও রয়েছে এ পেশা দুটির মহামিল। এক্ষেত্রে পুলিশ আর সাংবাদিকের মধ্যে বিরাজ করে আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক। একজন আরেক জনের পথের কাঁটা হয়ে স্বার্থের দ্বন্দ্বে রয়েছে উভয় মিল। এই পুলিশ-সাংবাদিকের দ্বন্দ্ব সম্পর্ক মহানগরীর মতো এলাকায় তেমনটা খারাপ নয় যতোটা তৃণমূল পর্যায়ে। মহানগরগুলোতে জনসচেতনা আর প্রশাসনিক সক্রিয়তার কারণে এ পেশার শুভ শক্তিকে অশুভ কাজে প্রয়োগ করে অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার তেমনটা সুযোগ নেই। অন্যদিকে গ্রামীণ পর্যায়ে জনগণের অসচেতনা ও প্রশাসনিক নিস্ক্রিয়তার সুযোগে অপর্যাপ্ত আর্থিক সুবিধার ঘাটতি মেটাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এ পেশার সৈনিকরা।

ফলে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম পুলিশ-সাংবাদিক। সীমাবদ্ধ জ্ঞান, সংকীর্ণ চিন্তার স্বার্থান্বেষী লোকের হাতে সাংবাদিকতার কার্ড সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে কলম অস্ত্রের মাধ্যমে আতঙ্ক ছড়িয়ে বনে গেছে মহাসাংবাদিক। মহাসাংবাদিকতার মহা শক্তির যাদুতে সংবাদদাতা হিরোরা পরিধান করছে মহাখলনায়কের কালো মুখোশ। একইভাবে বৃটিশ শাসকদের তৈরি পুলিশী আইনকে হাতিয়ার বানিয়ে সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, হত্যা, ছিনতাই, অপহরণ, চাঁদাবাজির মতো মহাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ে। পুলিশের ইউনিফর্ম দেখলেই দশ হাত দূর দিয়ে পাশ কাটিয়ে যায় আম জনতা।

রাষ্ট্রের স্তম্ভ সংরক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগের কর্মীরা যদি এহেন অসাধু কাজের দরুণ নিজেদের ইতিবাচক সুনাম হারিয়ে ফেলে এতে তারা শুধু জনগণের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে থাকবে না বরং দেশবাসী বিশ্ব মহলেও দুর্বল খুঁটির দেশের নাগরিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।