সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
তিন দিনের সফরে ঢাকায় বেলজিয়ামের রানি ভূমিকম্প: তুরস্কে ও সিরিয়ায় নিহত ৫ শতাধিক উত্তরা বিজিবি মার্কেট এখন আর ডালভাত কর্মসূচিতে নেই মন্দিরে মূর্তির পায়ে এ্যাড. রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী’র সেজদা প্রতিবাদে নির্যাতন ও মামলার শিকার মোঃ জলিল রৌমারীতে অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির অফিস উদ্বোধন যুবলীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় কল্যাণপুরে আবাসিক হোটেলে রমরমা দেহব্যবসা তিতাসের অসাধু কর্মকর্তাদের আতাতে লাইন কাটার নামে প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের সাথে ব্ল্যাকমেইলিং করছে প্রতারক চক্র রাজধানীর উত্তরখান থেকে ড্যান্ডি পার্টির ১৬ সদস্য গ্রেপ্তার দেশে গুপ্ত লিখন বিদ্যাকে ব্যবহার করে জঙ্গী ও মাদক কার্যক্রম প্রসারিত হচ্ছে দক্ষিণখানে নির্মাণাধীন ৯ তলা ভবন থেকে পড়ে রাজমিস্ত্রি নিহত : আহত-১

রিমান্ডের আসামির কাছ থেকে ৫ কোটি টাকার চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ১৩১ Time View

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানায় রিমান্ডে থাকা আসামিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫টি চেকে জোরপূর্বক পাঁচ কোটি টাকার চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, নগরীর ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুনিয়া তারগাছ এলাকায় একটি স্টিল কারখানার সাবেক ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ৩১ কোটি ৩৩ লাখ ২২ হাজার ২৫১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ২ নভেম্বর গাছা থানায় মামলা করে কর্তৃপক্ষ। মামলায় আনিসুর রহমানের স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও শ্যালিকাকেও আসামি করা হয়। গাছা থানা পুলিশ গত ১০ নভেম্বর মামলার প্রধান আসামি আনিসুর রহমান ও তার শ্যালিকা এন্তেনুর আক্তারকে গ্রেফতার করে।

আনিসুর রহমানের ছোট ভাই আবুল কাশেম বলেন, আনিসুর রহমানকে দুই দফায় রিমান্ডে এনে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গত ১৪ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে থাকা অবস্থায় ওই দিন রাতে গাছা থানার একদল পুলিশ বড় ভাই আনিসুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর পশ্চিম থানাধীন সাতাইশ উত্তরপাড়ার বাসায় তল্লাশি চালায়। পুলিশ ঘরের আলমিরাসহ যাবতীয় আসবাবপত্র তল্লাশি করে জমির দলিলপত্র, ভাইয়ের সিটি ব্যাংকের চেক বই ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থানায় নিয়ে যায়। পরে থানায় ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক পৃথক ৫টি চেকে ভাইয়ের স্বাক্ষর নেয়। প্রতি চেকে এক কোটি টাকা করে লিখে নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, আমার ভাইকে রিমান্ডে নিয়ে কোম্পানির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তাদের উপস্থিতিতেই চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। আমার ভাই কোনো দুর্নীতি বা কোম্পানির অর্থ আত্মসাৎ করেননি। যে পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং ভাইয়ের যে সম্পদের বিবরণ দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। অভিযোগে বর্ণিত সম্পদের কোনো অস্তিত্বই নেই। এমনকি আমাদের সব ভাইদের সম্পত্তি একত্র করলেও মামলায় বর্ণিত অভিযোগের কিঞ্চিত পরিমাণও হবে না।

এ ব্যাপারে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, থানায় রিমান্ডে নিয়ে জোরপূর্বক চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি আমরা আদালতকে অবহিত করি। আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে শোকজ করেন। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জবাব দাখিল করলে আদালত আমাদের অভিযোগ খারিজ করে দেন।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত বিচারাধীন বিষয়ে আসামিপক্ষের কোনো অভিযোগ থাকলে অনেক সময় তা তদন্ত করে খতিয়ে দেখা বা আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ থাকে না।’

মামলার বাদী ওই কোম্পানির এজিএম (অ্যাডমিন অ্যান্ড সিকিউরিটি) মো. ইউনুস আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দুঃখিত আমি কিছুই জানি না, আমি মামলার বাদী, আমি মামলা করেছি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামি গ্রেফতার করেছেন, আদালতে পাঠিয়েছেন, রিমান্ডে নিয়েছেন, আমি শুধু বাদী হিসেবে এতটুকুই জানি।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাছা থানার এসআই ইহসানুল হক বলেন, থানায় রিমান্ডে এনে আসামির কাছ থেকে জোরপূর্বক চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিচার কার্যক্রম ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে এমন অভিযোগ আনা হচ্ছে।

গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইব্রাহিম হোসেন বলেন, এটি একেবারেই অবান্তর ও মিথ্যা কথা। আসামির এ মিথ্যা দাবি আদালত খারিজ করে দিয়েছেন। আমি যতটুকু জানি, মামলা হওয়ার পর উনি একটা পর্যায়ে আপস করার চেষ্টা করেছিলেন। তখন হয়তো চেক দিয়ে থাকতে পারেন। আদালতে আমরা সাক্ষ্য প্রমাণ দেওয়ার পর আদালত তার অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category