Amar Praner Bangladesh

লোহাগড়ায় শহীদবেদিতে আওয়ামী লীগের দু’ গ্রুপের মারামারি

বুলবুল খান, নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলের লোহাগড়ায় মহান বিজয় দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে মারপিট, হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে লোহাগড়া পৌরসভাধীন মোল্যার মাঠে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন, আওয়ামীলীগ,বিএনপি সহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ সমবেত হন। শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের শুরুতে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান, লোহাগড়া উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে। লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু  জানান, মুুক্তিযোদ্ধা সংসদের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে তিনি সহ লোহাগড়া পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি কাজী বনি আমিন ও উপস্থিত আওয়ামীলীগের নের্র্তৃবৃন্দ শহীদবেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। এর পরপরই লোহাগড়া উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু এবং লোহাগড়া পৌর মেয়র উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোঃ আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে শহীদ বেদীর ওপর উঠে শ্রদ্ধাঞ্জলির মালা ভেঙ্গে ফেলে এবং তাদের নেতাকর্মীদের সাথে তর্ক-বির্তক ও ধাক্কাধাক্কি করে। পরে আমি দলীয় লোকজন নিয়ে পৌর আওয়ামীলীগ অফিসে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনা সভা করি। এ ব্যাপারে লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু রোববার(১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে জয়পুরস্থ দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জানান, আমি দলীয় লোকজন নিয়ে মিছিল সহকারে শনিবার শ্রদ্ধাঞ্জলির জন্য শহীদ বেদীর কাছে যাই। সেখানে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বা জেলা নের্তৃবৃন্দ আমাদেরকে স্বাগত জানাবে এমনটি আশা করছিলাম। কিন্তু আমাদের কিছু মহিলা আওয়ামীলীগের নের্তৃবৃন্দ শহীদ বেদীতে উঠতে গেলে সভাপতির সমর্থিত লোকজন মহিলাদের সাথে খারাপ আচরণ করে। তিনি আরো অভিযোগ করেন, শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান অনুষ্ঠান উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রের অনুপস্থিতিতে শুরু করা হয়েছিল। উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র কারো জন্যই একটু অপেক্ষা করা হয়নি। অথচ উপজেলা পরিষদ আইন অনুযায়ি সেখানে অনুষ্ঠান শুরু করতে হলে উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুমতি থাকা আবশ্যক। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ি আমার প্রতিপক্ষরা শহীদবেদীতে উঠে শ্রদ্ধাঞ্জলির মালা ভেঙ্গে ফেলেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শহীদ বেদিতে মারামারি, হাতাহাতি হবার পরে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রের সমর্থকরা শহীদবেদী ও মূল অনুষ্ঠান মঞ্চ নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর স্থানীয় সংসদ সদস্যর মাধ্যমে সকলকে মূল অনুষ্ঠান মঞ্চে এনে মূল অনুষ্ঠান শুরু করার চেষ্টাকালে এক পর্যায়ে  সংসদ সদস্যও মঞ্চ ত্যাগ করেন। মারপিটের সময় অন্তত ৫ জন কমবেশি আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় আওয়ামীলীগের দুগ্রুপের মধ্যে কিছুটা ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল। পরে প্রশাসন জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়েছে। লোহাগড়া পৌর মেয়র ও যুবলীগ সভাপতি মোঃ আশরাফুল আলম বলেন, অনিয়মের প্রতিবাদ করেছে প্রতিবাদীরা। নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি নড়াইল জেলা শাখার সভাপতি এ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা দুঃখজনক।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামীলীগে গ্রুপিং প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের সভাপতি শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু। অপর পক্ষের  নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু।