শরীয়তপুর নড়িয়ার ২৪টি খাল অবৈধ দখলে পদ্মা নদীর সঙ্গে সংযোগ খাল।

 

 

মেহেদী হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার চরাঞ্চলে দুটি ইউনিয়ন। এই দুই ইউনিয়ন বাদে নড়িয়া পৌরশহর সহ বাকি ১২টি ইউনিয়নের প্রায় সব কয়টি খাল দখল করে বসত বাড়ি, বানিজ্যিক ভবন ও দোকান পাট নির্মান সহ বাড়ির রাস্তা নির্মান করা হয়েছে। যার ফলে হুমকির মুখে গোটা নড়িয়া উপজেলাধীন প্রতিটা ইউনিয়নের সাধারন মানুষ।পদ্মা নদী সংযুক্ত খালগুলোর অব্যবস্থাপনা এবং অবৈধ দখলের  কারনে প্রাকৃতিক সেচ কার্য বাধাগ্রস্থ হয়েছে ফলে জ্বালানী অপচয় এবং বিদ্যুৎ অপচয় করেই কৃষকরা ফসলের ক্ষেতে সেচ কার্য চালিয়ে যাচ্ছেন, অনেকেই পানি সংকটের কারনে ফসলের জমিকে কেটে মৎস চাষের জন্য ঘের নির্মান করছেন।

বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন করা যাচ্ছে না বলে জনদূর্ভোগ চরমে। খালগুলোর পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মুক্ত জলাশয়গুলো পানি শূন্য হয়ে গেছে। তাই সরকারিভাবেও এখন আর মাছের পোনা উন্মুক্ত করা হয় না। সাধুপানির মাছ কমে যাওয়ায় অামিষের চাহিদা পূরন করতে পারছেন না নিম্ন অায়ের লোকজন। একসময়ের নৌ-চলাচলের ক্ষেত্র এই খালগুলোতে এখন অার পন্য পরিবহন কাজে ব্যবহার করা যায় না, যার ফলে পন্য পরিবহন খরচ বেড়েছে দিগুন।নদীতে পানির পরিমান বেড়ে গেলে উক্ত খালগুলোর প্রবেশ মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি চলাচলে বাধাগ্রস্থ হয়ে ভাঙ্গন সমস্যা প্রকট অাকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো মারত্বক পরিবেশ বিপর্যয়ের শিকার হবে উপজেলার জনগন।

সরেজমিনে নড়িয়ার প্রতিটা ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, কৃত্তিনাশা নদী থেকে নড়িয়া বাজারের পূর্ব পাশ দিয়ে চাকধ বাজার পর্যন্ত বয়ে যাওয়া খালটির অনন্তত ৩০টি স্থানে বাঁধ দেয়া হয়েছে। নড়িয়া খাদ্য গোডাউনের পাশ দিয়ে অাশা এই খালটির একপাশ দখল করে বাজারের পূর্ব মাথায় বহুতল মার্কেট ভবন নির্মান করা হয়েছে, পৌরসভার পানির পাম্পের ০১টি ভবন নির্মান, দোকানপাট নির্মান এবং খাল ভরাট করেই নির্মান করা হয়েছে পাকা সড়ক।নড়িয়া বাজারের পূর্ব পাশে পৌরসভা কর্তৃক শিশুপার্ক স্থাপনের জন্য নির্ধারিত খাস জায়গায় সাইনবোর্ড লাগানো থাকলেও তা ফেলে দিয়ে ঘর সহ একাধিক বানিজ্যিক ভবন তুলেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

 

পদ্মা নদী হতে সংযোগ পাওয়া কলুকাঠি মা জেনারেল  হাসপাতাল এবং মডার্ন ফ্যান্টাসী কিংডমের সামনে দিয়ে মধ্য কলুকাঠি হয়ে থাকা খালটি দখলে নিয়ে অন্তত ১২-১৫টি দোকান নির্মান করা হয়েছে। স্থানীয়দের দেয়া তথ্যে জানাযায় উক্ত দোকানগুলো মর্ডান হারবাল, মা জেনারেল হাসপাতাল এবং মর্ডান ফ্যান্টাসী কিংডমের মালিক ডাঃ অালমগীর মতিন সাহেবের নিজের মালিকানায় তোলা হয়েছে।গোলার বাজার থেকে কার্তিকপুর পর্যন্ত ১০ টি স্থানে সংযোগ সড়ক করে দখক করে আছে পদ্মা নদীর সংঙ্গে সংযোগ খালটি।তেলীপাড়া থেকে ভূমখাড়া হয়ে কেদারপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর সঙ্গে সংযোগ খালটির ২০টি স্থানে খাল ভরাট করে অনেকেই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।খালটির ভূমখাড়ায় মীর বাড়ির মোড়ে পূর্ব পাশে  দুই পাশে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে । গৌরাঙ্গ বাজারের পাশে খাল দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন স্থানীয়দের অনেকেই।

 

মূলফৎগঞ্জ বাজার থেকে পূর্ব নড়িয়া হয়ে ঢালীপাড়া দিয়ে নড়িয়া চাকধ প্রধান সড়ক পর্যন্ত খালে দুইপাড় দখল করেছে স্থানীয়রা। খালটির মূলফৎগঞ্জ ব্রিজ অংশে অন্তত ২৫টি পাকা দোকানঘর তোলা হয়েছে, পূর্ন নড়িয়া স্কুলের পাশে গাজী কালু মঞ্জিলের বিশালাকার একটি ভবন এবং অপর একটি বসত ভবন নির্মান করা হয়েছে। উক্ত ভবনটির মালিক ঝর্না খান, স্থানীয়রা জানান তিনি অামেরিকা প্রবাসী এবং প্রভাবশালী ও বিত্তশালী। খালটির বাকি অংশ ঢালীপাড়া অংশে বসত বাড়ি, বাড়ির রাস্তা এবং বাজারে খালটির উপরেই অন্তত ২০ টি দোকানঘর নির্মান করেছে স্থানীয়রা।

পদ্মা নদীর সঙ্গে সংযোগ কেদারপুরের খালটির মধ্য কেদারপুরের অন্তত ২০টি স্থানে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণসহ ঘরবাড়ি নির্মান করেছেন স্থানীয়রা। উক্ত খাল দখল করে পাঁকা দোকানপাট এবং মসজিদের শৌচাগারও নির্মান করেছেন স্থানীয়রা। বর্তমান সাধুর বাজার ঘাট সাবেক চরজুজিরা পদ্মা নদী সংযোগ থেকে মূলফৎগঞ্জ বাজার হয়ে চাঁকধ বাজার এবং ভূমখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দিয়ে গৌরঙ্গ বাজার পর্যন্ত খালটির উপরে অবৈধভাবে শতাধিক দোকানপাট নির্মান করা হয়েছে। উক্ত খালের পশ্চিম পাড়ের কিছু অংশ দখলে নিয়ে নির্মান করা হয়েছে পাকা এবং অাধাঁ পাকা ঘর-বাড়ি।

কেদারপুরের চন্ডিপুর লঞ্চঘাটের পদ্মা নদী হতে সংযোগ পাওয়া খালটি নলতা বিল পর্যন্ত একাধিক বসত বাড়ির মালিকদের দখলের শিকার হয়ে মরা খালে পরিনত হয়েছে। পাঁচগাও বটতলা থেকে মোজাম্মেল ফকিরের বাড়ির পেছন একটি স্বচল খাল ছিলো। কেদারপুরের মজিদ শাহ্ মাজার সংলগ্ন একটি শাখা খাল ছিলো যার অস্বিত্ব কেদারপুর ভূমি অফিস পর্যন্ত ছিলো, এই খালটির মজিদ শাহ্ মাজারের সামনের অংশ মাজার কতৃপক্ষ ভরাট করেছে, মাজারের মূর্ব পাশে সুমন শরীফ নামে একজন মাটি দিয়ে ভরাট করে” মজিদ শাহ” নামকরন করে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য পন্য উৎপাদনের ফ্যাক্টরি বানিয়েছেন। এই খালটির শেষ অংশপর্যন্ত দুইপাশের গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি, যার ফলে খালটি চেপে গিয়ে সরু নালায় পরিনত হয়েছে।

ঘড়িষার ইউনিয়নের সুরেশ্বর দরবার শরীফের মাঝ বরাবর পদ্মা নদীসংযোগস্থল থেকে কেদারপুর ইউনিয়নের ভিঅাইপি মোড় সামসুদ্দিন ঢালীর বাড়ির পাশ দিয়ে পুনরায় পদ্মায় মিলিত হয়েছে। এই খালটি সুরেশ্বর দরবার শরীফের অবৈধ স্থাপনা ও নড়িয়া -সুরেশ্বর ভায়া কেদার পুর প্রধান সড়কের পাশে থাকা স্থানীয়দের বসতবাড়ি দালান কোঠা সহ দোকান পাট উত্তোলনের কারনে ৯০ভাগই  বিলীন হয়েছে। সামসুদ্দিন ঢালী নিজ বসত বাড়ি এবং দোকান উঠিয়ে খালের একাংশ দখলে নিয়েছেন। একসময় খালটিতে নৌকাচলাচল ছিলো বলে যানায় স্থানীয়রা।

সুরেশ্বর পুলিশফাড়ি ঘাট থেকে অপর একটি খাল হালইসার বাজার সংলগ্ন ব্রিজের নিচ দিয়ে সুরেশ্বর দরবার শরীফ সড়কের মোড় মৃত কাদির মৃধার বাড়ির পাশদিয়ে সচল ছিলো বর্তমানে খালটির কিছু অংশে রাস্তা নির্মান করা হয়েছে, বাকি অংশ স্থানীদের বাড়ির রাস্তা তৈরি করে পানি প্রবাহ একেবারেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। হালইসার বাজার থেকে একই ইউনিয়নের বাংলাবাজার হয়ে ঘড়িসার বাজার পর