শিন শিন জাপান হাসপাতালের দূর্নীতি -অনিয়ম ও অপচিকিৎসায় জিএম শরিফের সিন্ডিকেট

(হাসপাতালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-র‌্যাব কর্তৃক জরিমানা নায়িকা তাজিন, শিল্পি পাগল বাচ্চুকে টাকার জন্য আটকে রাখার অভিযোগ সহ শত শত অপরাধ-সত্তে¡ও বহাল তবিয়তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নেপথ্যে জিএম শরীফের সিন্ডিকেট, চোরের মায়ের বড় গলা, হাসপাতালের অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় ৫০ কোটি টাকা মানহানির মামলার ভয় দেখিয়ে লিগ্যাল নোটিশ)

 

স্টাফ রিপোর্টার:

 

কিছু অসাধু কর্মকর্তার জন্য আজ দূর্নীতি, লুটপাট আর অনিয়ম-বিশৃঙ্খলায় ডুবে আছে দেশের স্বাস্থ্য খাত। তৃনমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পর্যন্ত সর্বত্রই অভিন্ন চিত্র বিদ্যামান। শরীফের মতো সাধারণ ‘‘শিন শিন জাপান হাসপাতালের’’ জিএম এর কাছেই জিম্মি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সহ শিন শিন হাসপাতালের ব্যবস্থাপণা।

 

রাজধানী উত্তরার ১১ নং সেক্টরের গরীবে নেওয়াজ এভিনিউতে অবস্থিত শিন শিন হাসপাতাল। এই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার নামে সর্ম্পূণ মুনাফা ভিত্তিক বাণিজ্য চলছে। এই হাসপাতালের মালিক সিমেক গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সর্দার মো: শাহীন এবং জাপান এর যৌথ উদ্যেগে নির্মিত এই হাসপাতালের মূল বিষয় ছিল মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু অতিরিক্ত টাকার লোভ, দূর্নীতিগ্রস্থ, সন্ত্রাসী, হীন চরিত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ফলে সেবা প্রদানের সবচেয়ে বড় এই খাদকে কসাইখানা বলে আখ্যা দিচ্ছেন এখানে আসা ভূক্তভোগী রোগী ও তাদের অভিভাবকরা।

 

গণমাধ্যমগুলোতে এই ‘‘ শিন শিন জাপান হাসপাতালের’’ দূর্নীতি-অনিয়ম আর চিকিৎসার নামে ভাওতাবাজী। টাকার জন্য রোগী আটকে রাখা, অপারেশন থিয়াটারে মেয়াদোর্ত্তীন ঔষুধ ব্যবহার, শিন শিন জাপান হাসপাতালে টাকার জন্য আটকে রাখা হয়েছিল অভিনেত্রী তাজিনকে।

 

উত্তরার দুই হাসপাতালকে জরিমানা, র‌্যাব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর কর্মকর্তা কর্তৃক উত্তরার দু’টি হাসপাতালকে ১১ লাখ টাকা জরিমানা। বাঁচতে চান বাউল শিল্পী পাগল বাচ্চু, উত্তরার শিন শিন হাসপাতাল লি: এর দূর্নীতি রোগীনীর অপারেশন না করেই অর্ধ লক্ষ টাকা বিল আদায়ের অভিযোগ।

 

এভাবে একের পর এক প্রকাশিত সংবাদের পরও জরিমানার পরও বহাল তবিয়তে আছে এই হাসপাতালটি। মালিক পক্ষ সিমেক গ্রুপ হাসপাতালের দায়িত্ব জিএম শরীফকে দিলে, শরীফ বিভিন্ন দূর্নীতি আর চিকিৎসার নামে শুধু মাত্র বাণিজ্যের দিকে অগ্রসর হয়ে অপরাধ জগতের সাথে আতাত করে সক্রিয় প্রতারনা চক্রের সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। সে নিজেও জাতীয় পার্টির তকমা লাগিয়ে এক সময়ের বাংলাদেশ মেডিকেলের দালাল হয়েও অবৈধ টাকার গরমে নোয়াখালী-৪ আসন থেকে এমপি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়।

 

তার সিন্ডিকেটে কিছু সাংবাদিক নামধারী দালাল, কিছু স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নামধারী হোমরা-চোমরা, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, আর স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়-স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কিছু দূর্নীতি পরায়ন কর্মকর্তা মিলে শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসার নামে চালিয়ে যাচ্ছে প্রতারনা।

 

অন্যায় যে করে আর যে সহে উভয়েই সমান অপরাধী। ছাগল লাফায় খুঁটির জোরে, শরীফের খুটির জোর কোথায়? তার সম্পত্তির বিবরন, হাসপাতালের হিসাব-নিকাশ সব কিছু নিয়ে তার অপরাধের ফিরিস্তির মুখোশ কেন উন্মোচিত হবে না, কেন এই শিন শিন জাপান হাসপাতাল চলবে, কেন এখনো বন্ধ হচ্ছে না, কেন কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা এখনো নেয়নি, এমন হাজারো প্রশ্ন করছে এখানে আসা ভূক্তভোগী রোগী আর তাদের পরিবারের সদস্যরা।

 

তেমনি একজন রোগী-আলহাজ্ব সুমন চিকিৎসা নিতে আসলে শিন শিন হাসপাতালে তার গলায় থাকা আড়াই ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন হাতিয়ে নেয় জিএম শরিফের নিয়োগ দেয়া কর্মচারীরা। বিষয়টি নিয়ে হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ালে, শরীফ বিভিন্ন প্রভাব খাটিয়ে ধামা-চাপা দেয়।

 

কোন পত্রিকায় তাদের অনিয়মের বিরুদ্ধে খবর প্রকাশ করলে, তাদের হুমকি ধামকি দেয় জিএম শরীফ। ভয় দেখায় লিগ্যাল নোটিশের, ভয় দেখায় মিথ্যা মামলার। র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অবস্থিত ‘‘লেকভিউ হাসপাতাল’’ এবং ‘‘শিন শিন জাপান হাসপাতাল’’ দ্বয়কে ডাক্তারের প্যাড এ অগ্রিম স্বাক্ষর করে রাখা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ মজুদ করে অপারেশন থিয়েটারের রোগীদের মাঝে সরবরাহ করার অপরাধে ১১,০০,০০০ (এগারো লক্ষ) টাকা জরিমানা করে। তাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে নেয়া এই সংবাদে সু-স্পষ্ট উল্লেখ্য, উক্ত হাসপাতালগুলো দীর্ঘদিন যাবৎ ডাক্তারের প্যাড এ অগ্রিম স্বাক্ষর করে রাখা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ মজুদ করে ওটি রোগীদের মাঝে সরবরাহ করে জনসাধারণের সাথে প্রতারনা সহ জনস্বাস্থ্য ক্ষতি করে আসছে।

 

অনুসন্ধানে বিশ্বস্থ সূত্রে আরো জানা যায়, দূর্নীতি মামলার বহুল আলোচিত অভিযুক্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেরানী আফজালের সাথে যোগসাজোস আছে এই শিন শিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক অন্যায় অবিচারকে চিরতরে জিরো টলারেন্সে নিয়ে আসার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যার মধ্যে জঙ্গী-অপতৎপরতা, মাদক বন্ধে মৃত্যুদন্ডের মতো বিধান কার্যকরী করেছে। চলছে খাদ্যে ভেজাল এবং ভূয়া চিকিৎসক চিহিৃতকরণ সহ চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা দিয়ে নিরহ মানুষদের নিকট হতে হাতিয়ে নেয়া হাসপাতাল বন্ধের অভিযান।

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলায় তার সু-যোগ্য কন্যা বিশ্ব নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সোপানে, যেখানে মানুষের এই দেশের সর্বোত্তম সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান, সেখানে এই সব অপকর্ম, অন্যায়-জুলুম মানব সেবার সবচেয়ে বড় খাত চিকিৎসা সেবা লুট হবে তা মোটেও চলবে না বলে সবার বিশ্বাস।

 

‘‘শিন শিন জাপান হাসপাতাল’’ বন্ধ করে সরকার এর উচিত একটি দৃষ্টান্ত মূলক অধ্যায়ের সূচনা করা। এমনটাই মন্তব্য করেছেন এই বিষয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা।