Amar Praner Bangladesh

শিবপুরে দলিল লেখকদের দৌঁরাত্ম্যে কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, বিপাকে সাধারণ মানুষ

 

 

আমেনা ইসলামঃ

 

শিবপুরে দলিল লেখকদের দৌড়াত্বে কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, বিপাকে সাধারণ মানুষ নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নরসিংদী জেলার শিবপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির অনৈতিক আন্দোলনের ফলে কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, বেকায়দায় পরেছে সাধারণ মানুষ। গুটি কয়েক দলিল লেখক এর অবৈধ দাবি না মানায় তারা দলিল রেজিস্ট্রী বন্ধ করে এই অবস্থার সৃষ্টি করেছে বলে জানান সাব রেজিস্ট্রার।

সরেজমিনে উঠে আসে গত ০৫/১২/২০২১ইং তারিখে মোঃ মিজাহারুল ইসলাম সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে শিবপুর অফিসের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ডিসেম্বর থেকে জুন ২০২২ইং পর্যন্ত প্রতি মাসে ৭০০ থেকে ৮০০ দলিল রেজিস্ট্রী হয়েছে এই অফিসে। দলিল লেখকদের অনৈতিক অবস্থানের কারনে তা বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ টি দলিল রেজিস্ট্রি হয়েছে। কয়েকজন দলিল লেখক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারের অপূরণীয় ক্ষতি সহ সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে।

উক্ত বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার মিজাহারুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা ছাড়া কিছু বলতে পারবোনা। বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে তিনি এক পর্যায়ে জানান সরকারি বিধি বহির্ভূত কোন কাজ করতে পারবোনা। দলিল হস্তান্তর বা রেজিস্ট্রির জন্য সরকারি বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র দিলে আমার দলিল করতে কোন আপত্তি নেই এবং করেও দিচ্ছি। কিন্তু এই বিষয় নিয়ে তাদের সাথে আমার দ্বিমত হয়। বেশ কিছুদিন যাবৎ গুটি কয়েক দলিল লেখক আমাকে অনৈতিকভাবে চাপ দিচ্ছিল, তা না মানায় তারা দলিল লেখা বন্ধ করে এই অচল অবস্থার সৃষ্টি করেছে।

এই বিষয়ে দলিল লেখক সমিতির নেতা শামসুল হুদা মুকুল , মোঃ কামাল শেখ, আবুল মুনসুর, খলিল রহমান, সোহরাব হোসেন, বাসির মেম্বার বলেন, সাব রেজিস্ট্রার দলিলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা দাবি করায় আমরা দলিল রেজিস্ট্রি বন্ধ রেখেছি । সাব রেজিস্ট্রার নিয়মিত অফিসে আসছেন এবং প্রতিদিন কিছু দলিল রেজিস্ট্রী হচ্ছে সেক্ষেত্রে তিনি অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন কিনা জানতে চাইলে তারা তা জানেন না বলে জানায়। গত ৭ মাস এই সাব রেজিস্ট্রারের সাথে আপনারা কাজ করছেন তখন কোন অভিযোগ ছিল না, এখন কেনো? এই বিষয়ে কোনো উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান দলিল লেখক সমিতির নেত্রীবৃন্দ। অতিরিক্ত সুবিধা আদায়ের জন্য আপনারা এই আন্দোলন করছেন বলে সাব রেজিস্ট্রারের দাবি, এবিষয়ে তিনি বলেন এগুলি মিথ্যা কথা। উলেখ্য যে ০৮/০৮/২০২২ ইং তারিখ সাগর হোসেন সুমন ও সাইফুল ইসলাম নামের দুইজন ব্যাক্তি পাওয়ার ও মর্গেজ দলিল করেন, তাদের কাছে সাব রেজিস্ট্রার কতৃক অতিরিক্ত ফি আদায়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম বলেন, দুইটি দলিল মুলে আমার কাছ থেকে সরকারি ফি বাবদ ৯৬৮ টাকা জমা নেন। যা জনৈক দলিল লেখকের কাছে জানতে চাইলে ১০/১৫ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। সাগর হোসেন সুমন বলেন দুইটা দলিলের সরকারি ফি বাবদ আমার কাছ থেকে১৬৪০ টাকা গ্রহন করেন।যা জনৈক দলিল লেখকগণ ১৫/ ১৬ হাজার টাকা দাবি করেন।

এই বিষয়ে নরসিংদী জেলা রেজিস্ট্রার আবুল কালাম মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম পলাশ বলেন আমি গোপনে আমার লোক মারফত বিষয়টি জানার চেষ্টা করি এবং সঠিক বিষয়টি জানতে পারি।

বেশ কিছুদিন যাবত কয়েক জন দলিল লেখক বিধি বহির্ভূত কাজ করার জন্য সাব রেজিস্ট্রারকে চাপ দিয়ে আসছিলো। সাব রেজিস্ট্রার তাদের অনৈতিক বিধি বহির্ভূত কাজ করতে রাজী না হওয়ায় তারা এই অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। দলিল লেখকদের মধ্যে ৯০ থেকে ৯৫ জন দলিলের কাজ করতে চায়, অন্যদের বাধার কারণে তারা তা পারছে না। এই অনৈতিক কর্মকান্ডে সরকার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে, অসুবিধায় পরেছে সাধারন মানুষ। তাই আমি গত ০৮/০৭/২০২২ ইং তারিখ সরেজমিনে বিষয়টি জানতে শিবপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে যাই এবং দলিল লেখকদের সাথে কথা বলে তাদেরকে অফিসের / দলিলের কাজে ফিরে আসার নির্দেশ দেই। অনৈতিক ভাবে দলিল রেজিস্ট্রী বন্ধ রাখলে দেশের ক্ষতি, জনগনের ক্ষতি। সাব রেজিস্ট্রার প্রতিদিন এজলাসে আসেন এবং কাজ করে যাচ্ছেন এমনকি যেসকল দলিল রেজিস্ট্রি হচ্ছে তাতে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। জানা যায় জেলা রেজিস্ট্রারের সাথে সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিরাজুল ইসলাম সাব রেজিস্ট্রার মনোহরদী, আব্দুল আল ইমাম সাব রেজিস্ট্রার,রায়পুরা।

যাদের দ্বারায় দেশের এই ক্ষতি হচ্ছে তাদের বিষয়ে আপনার করণীয় কি? এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ধরনের কাজ আমি সমর্থন করি না, তা আইন ও বিধি বহির্ভূত।

বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়- জেলা রেজিস্ট্রার নরসিংদী, শিবপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে অবস্থানকালে দলিল লেখকদের দলিল উপস্থানে নির্দেশ দিলেও, শামসুল হুদা মুকুল, মোঃ শাহিন সরকার,কামাল শেখ, সোহরাব হোসেন এর নেতৃত্বে দলিল লেখকগণ জেলা রেজিস্ট্রার এর নির্দেশ অমান্য করে দলিল উপস্থাপন হতে বিরত থাকে এবং অফিস টাইম পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে দলিল দিতে বাধা প্রধান করেন।