Amar Praner Bangladesh

শেরপুরে গরম বাতাসে ফসলের ক্ষতি

 

 

গিয়াস উদ্দিন রাসেল, শেরপুর প্রতিনিধি :

শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রাম, পাকুরিয়া গ্রাম ও পাশ্ববর্তী শ্রীবরদী উপজেলার কারারপাড়া গ্রামে প্রায় ১শ একর বোরো ধানের ক্ষেত চিটা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক রাতেই ধান ক্ষেতের উপর বয়ে যাওয়া গরম বাতাসে এসব ধান একেবারে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তৈরি হচ্ছে চিটা। এতে এই তিন গ্রামের অন্তত শতাধিক কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তৃর্ণ সবুজ ধান ক্ষেত এখন মরা ক্ষেতে পরিণত হয়েছে। গাছের পাতা শুঁকিয়ে গেছে, ধানগুলো হয়েছে চিটা। এছাড়া আশাপাশের বাঁশঝাড়, মেহগনি বাগানসহ বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছ বিবর্ণ হয়ে গেছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, সহায়-সম্বল খরচ করে রাত-দিন পরিশ্রম করে বোরো আবাদ করে ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখেছিল এখানকার কৃষকরা। কিন্তু মুহুর্তেই যেনো সেই সোনালী স্বপ্ন পুঁড়ে যায়। ধান ক্ষেতের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া গরম বাতাসের কারণে ক্ষেতের ধানসব নষ্ট হয়ে গেছে।

একদিন আগেও সুলতানপুর ও কারারপাড়া গ্রামের ক্ষেতভরা ধান ছিল, পাতা ছিল সবুজ। কিন্তু শুক্রবার এসব ক্ষেতের উপর দিয়ে বয়ে যায় গরম বাতাস। একই অবস্থা শনিবার রাতে সদর উপজেলার পাকুরিয়া এলাকায় ধান ক্ষেত দিয়ে বয়ে যায় গরম বাতাস। আর মুহুর্তেই ধানের পাতাগুলো মরে যায়, ধান চিটা হয়ে যায়। এতে এসব গ্রামের প্রায় ১শ একর ধান চিটা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি সবুজ পাতা হয়ে যাচ্ছে অনেকটাই বাদামি হলুদ।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক মনসুর, কালাম ও আক্কাস আলী জানান, আমাদের সব শেষ, ঋণ করে ধানগুলো লাগিয়েছিলাম, ধানও ভালো হয়েছিল, কিন্তু একদিনের ব্যবধানে সব ধানগুলো চিটা হয়ে গেছে। ধানের চারাগুলো মরা হয়ে গেছে।

কৃষক আমজাদ বলেন, মেলা কষ্ট কইরা ধান লাগাইছিলাম, ধানও ভালা হইছে, কিন্তু এহনতো সব ধান চিটা হয়ে গেছে। আমি যে ঋণ করছি, এহন টেহা কই থনে দিমু।

কৃষক ওয়াহাব বলেন, ভাই আমরাতো গরীব মানুষ, দিন আনি দিন খাই। কত কষ্ট কইরি যে আবাদখানি করছিলাম কবার পামু না, আশা আছিল ধান বেইচি মানষের টেহা দিমু, এহন কন কতটা বিপদে আছি।

তবে শেরপুরে এর আগের বছরেও গরম বাতাশে একাধিক এলাকায় গরম বাতাশে ফসল ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়ন ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার মো. লুৎফর রহমান বলেন, আমি ক্ষতিগ্রস্থ ফসলের মাঠ পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, গরম বাতাসের কারণে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে, এটা আরো পরীক্ষা-নিরিক্ষা করলে বুঝা যাবে আসল ঘটনা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মুহিত কুমার দে বলেন, আমি সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। আমার কাছে দেখে মনে হচ্ছে, গরম বাতাসের কারণে ধানগুলো চিটা হয়ে গেছে, আর চারাগুলো মরার উপক্রম হয়েছে। কিন্তু কেন হয়েছে তা গবেষকরা বলতে পারবে। তবে, আমরা আপাতত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, তারা যেনো জমিতে সেচ দিয়ে কিছুদিন অপেক্ষা করে। তাতে ফসলের উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, গরম বাতাস বয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও গরম বাতাস বয়ে যাওয়ার ঘটনা রয়েছে।