Amar Praner Bangladesh

শেরপুরে দুই জমজ শিশু রেখে বাবা মা নিখোঁজ

 

মোঃ শামছুল হক :

 

মাত্র আড়াই মাস বয়সেই বাবা ও মা জীবিত থেকেও তাদের আদরের থেকে বঞ্চিত শেরপুরের দুই জমজ শিশু। জেসমিন-ইয়াসমিন নামের দুই জমজকে তাদের দরিদ্র অসহায় দাদি ফিরােজা বেগমের কাছে নিখোঁজ হয় মা রোকেয়া বেগম ও বাবা ছামেদুল ইসলাম। এর মধ্যে মা রোকেয়া মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বাড়ী ছাড়া হয়ে আছে। বাবাও রহস্যজনক কারণে নিখোঁজ রয়েছে। ইতিমধ্যে জেসমিন-ইয়াসমিনের বয়স হয়েছে দুই বছরেরও বেশী। তাদের বাবা-মা জীবিত না মারা গেছে এ কথা কেউ বলতে পারেনা।

এ অবস্থায় বেকায়দার মধ্যে আছে ৬৭ বছর বয়সী দাদি ফিরোজা বেগম। শেরপুর সদর উপজেলার বলাইয়েরচর ইউনিয়নের চরজঙ্গলদী গ্রামের বিধবা ফিরোজার সম্বল বলতে আছে মাত্র তিন শতাংশ জমি। গ্রামের বিভিন্নস্থানে ভিক্ষা করে অতি কষ্টে লালন পালন করছে অনাথ এ শিশু দুটিকে। তিনি এখন আর পারছেননা। তাই অবুঝ শিশুদুটিকে বাচিঁয়ে রাখতে সবার সাহায্য চান এ বিধবা।

প্রায় চার বছর আগে ফিরুজার স্বামী মইনা মিস্ত্রি মারা যান। অতিদরিদ্র ফিরুজা চরজঙ্গলদী গ্রামে স্বামীর রেখে যাওয়া তিন শতাংশ জমিতে একটি জরাজীর্ণ ঘরে দুই নাতনিকে নিয়ে বসবাস করছেন। তাও বসবাসের অনুপযোগী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, যমজ বোন জেসমিন ও ইয়াসমিন শেরপুর সদর উপজেলার বলাইয়েরচর ইউনিয়নের চরজঙ্গলদী গ্রামের ছামেদুল হকের মেয়ে। তাদের মার নাম রোকিয়া বেগম। ছামেদুল স্বস্ত্রীক রাজধানী ঢাকায় থাকতেন আর দিনমজুরের কাজ করতেন। সেখানেই শিশু দুটির জন্মও হয়েছিল। কিন্তু শিশু দুটির জন্মের মাত্র আড়াই মাসের মাথায় তাদের মা রোকিয়া বেগম মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর তাদের বাবা ছামেদুল হক দুই শিশু কন্যাকে তাঁর (ছামেদুল) মা ফিরুজা বেগমের কাছে রেখে অজানার উদ্দেশ্যে চলে যায়। এখন তাঁরা বেঁচে আছেন কি না তাও জানা নেই। ফলে অসহায় ও অনাথ শিশু দুটিকে বাচিঁয়ে রাখতে দাদি ফিরোজা বাড়ী বাড়ী ঘুরে সাহায্য তুলে একবেলা আদাবেলা খেয়ে না খেয়ে বাচিঁয়ে রেখেছেন দুটি শিশুকে।

এ সময় ফিরুজা বেগম বলেন, ‘আড়াই মাস বয়সে আমার ছেলে ছামেদুল তাঁর মেয়ে জেসমিন-ইয়াসমিনকে আমার কাছে রাইখ্যা চইলা যায়। এরপর থাইকা আমি ওগরে বড় করতাছি। বাচ্চা দুইডা মায়ের বুকের দুধ পায় নাই। তাই ওগরে জীবন বাঁচাবার লাইগা চাইলের গুড়ার সঙ্গে অল্প পরিমাণ লবণ মিশাইয়া পানি দিয়া বিকল্প দুধ বানাইতাম। আর ওই বিকল্প দুধ ফিডারে ভইরা বাচ্চা দুইডারে খাওয়াইছি। তবে মাঝে-মধ্যে এলাকার দুই-একজন গুড়া দুধ কিনা দিছে। সেই দুধ খাওয়াইছি। আমি তো গরীব মানুষ। বাচ্চা দুইডারে কোন সময় ভালো খাবার খাওয়াইতে পারি নাই। আমারতো রক্তের সন্তান। তাই ওগরে কোন সময় ছাড়বার পারিনা।’ ওরা নানা রোগে ভোগতাছে।

ফিরুজার প্রতিবেশী চরজঙ্গলদী গ্রামের সফিকুল ইসলাম বলেন, বিধবা ফিরুজা অতিদরিদ্র। তাঁর নিজের কোন আয় নেই। মানুষের কাছে সাহায্য নিয়ে দুটি অসহায় শিশুকে বড় করতাছেন। সরকারের পক্ষ থেকে এই পরিবারকে একটি ঘর করে ও প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা দেওয়া হলে শিশু দুটির ভবিষ্যত নিরাপদ হবে।

আব্দুল করিম বলেন, সরকার কত মানুষেরে সাহায্য করতাছে। এই দুইডা শিশুরে সাহায্য করলে অনকে সওয়াব হবে। আমরা চাই সরকার এ শিশু দুইডারে সাহায্য করুক। নইলে তাদের ভবিষ্যত জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ব্যাপারে বলাইয়েরচর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. জামিউল হক বলেন, গরীব বিধবা ফিরুজা ও তাঁর দুই যমজ নাতনির বিষয়টি তিনি জানেন। চলতি অর্থ বছরে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কোন বরাদ্দ তাঁদের পরিষদে এখনো আসেনি। বরাদ্দ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অসহায় পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহনাজ ফেরদৌস জানান, আমরা বাচ্চা দুটির কথা শুনেছি। আমরা শিশু দুটিকে সাহায্য করা যায় কিভাবে তা দেখছি।