Amar Praner Bangladesh

শেরপুরে ফাঁসিতে ঝুলে মায়ের আত্মহত্যা

 

 

মোঃ শামছুল হক, জেলা প্রতিনিধি শেরপুরঃ

শেরপুরে ১২ বছরের ছেলে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিস এর সামনে রাগ করে মা নাসরিন আক্তার (৩২) ওড়না প্যাচিয়ে ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। পরে পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙ্গে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে।

নাসরিন আক্তার প্রয়াত পরিবহন শ্রমিক বাবুর স্ত্রী, শহরের গৃদানারায়নপুরস্থ জনৈক কাজলের বাসায় দুই বছর যাবত নাসরিন আক্তার তার দুই ছেলে নাফিজ (১২) ও নাবিল (৮) কে নিয়ে ভাড়া থাকতেন।

নাসরিনের বড় ছেলে নাফিজ জানায়, প্রতিদিন আমি বাইরে খেলতে গেলে মা বকাবকি করতো। আজও তাই হয়েছে। এক পর্যায়ে মা আমার সাথে রাগ করে ঘরের দরজা বন্ধ করে বলতে থাকে আমি ফাঁসি দিয়ে মরে যাবো। তখন আমি দরজা ধাক্কিয়ে মার কাছে মাফ চাই, আর কোন দিন বাইরে যাবো না। দরজা না খোলায় এক পর্যায়ে জানালার পাশে যাই। এসময় দেখি মা তার গলায় ওড়না পেচিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলার চেষ্টা করছে। এসময় আমি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে স্টিলের দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এদিকে নাসরিনের শ্বাস বন্ধ হয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলে মারা যায়। পরে শেরপুর সদর থানায় খবর দেয়া হলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙ্গে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

নাসরিনের শ্বশুর বাড়ি ঢাকার বিক্রমপুর এবং তার বাবার বাড়ি শেরপুরের শ্রীবর্দী উপজেলার ভায়াডাঙ্গা গ্রামে। ২০২০ সালে তার স্বামী বাবু ঢাকা-শেরপুর রোডে চলাচলরত শেরপুর চেম্বার অব কমার্সের বাসে চাকুরি করা অবস্থায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। সেসময় তারা অন্য মহল্লায় থাকতেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর তারা এখানে এসে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলো। নাসরিনের বড় ছেলে নাফিস স্থানীয় নবারুন পাবলিক স্কুলে ৫ম শ্রণিতে এবং নাবিল ইকরা মাদরাসায় নার্সারিতে পড়ছেন।

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বসির আহমেদ বাদল জানায়, এঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে এবং মরদেহের ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।