Amar Praner Bangladesh

শেরপুরে বিনা টাকায় চাকরি পেয়ে কাঁদলেন ৩৮ তরুণ-তরুণী

 

 

গিয়াস উদ্দিন রাসেল, শেরপুর :

‘চাকরি নয়, সেবা’ এই শ্লোগানে দ্বিতীয়বারের মতো শেরপুরে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ৯ এপ্রিল শনিবার রাতে শেরপুর শহরের অষ্টমীতলাস্থ পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে ওই ফলাফল ঘোষণা করেন পুলিশ সুপার হাসান নাহিদ চৌধুরী। এবার স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত এ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে পুলিশ বাহিনীতে যুক্ত হলেন আরও ৩৮ জন তরুণ-তরুণী। অনলাইন আবেদন বাবদ মাত্র ১২০ টাকা খরচে কনস্টেবলের চাকরি পেয়ে তারা বেজায় খুশি। ফলাফল ঘোষণার সাথে সাথে তারা আবেগে উদ্বেলিত হয়ে কেঁদে ফেলেন। সেইসাথে তারা স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করায় জেলা পুলিশসহ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ফলাফল প্রকাশের পর পুলিশ সুপার হাসান নাহিদ চৌধুরী চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণদের অভিনন্দন জানিয়ে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব সাথে দেশসেবার মনোভাব নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কাজ করার আহবান জানান এবং যারা নির্বাচিত হয়নি তাদের প্রতিও সমবেদনা প্রকাশ করেন। ফলাফল ঘোষণার সময় অন্যান্যের মধ্যে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাকির হোসেন সুমন, ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) শেখ মোস্তাফিজুর রহমানসহ নিয়োগ বোর্ডের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, প্রার্থী ও তাদের অভিভাবকগণ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, সম্প্রতি শেরপুর জেলায় পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে ৩৮ জনকে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলে ১ হাজার ৩০৩ জন অনলাইনে আবেদন করেন। আবেদন ও এডমিট কার্ড উঠানো বাবদ প্রার্থীদের খরচ হয় ১২০ টাকা করে। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে শারীরিক ও ফিটনেস পরীক্ষা শেষে বাছাই করা হয় ৩৩৭ জনকে। পরে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ শেষে শনিবার রাত ৮টায় চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয় ৩২ জন পুরুষ ও ৬ জন নারীকে। এছাড়া অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে আরও ১০ জনকে। এদিকে বিনা টাকায় চাকরি পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই। অনেক অভিভাবকও সেখানে হাজির ছিলেন। তারা প্রধানমন্ত্রী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

নানা সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগেও পুলিশে চাকরি নিতে অন্তত ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হতো। এতে দরিদ্র অসহায় মানুষের সন্তানরা যোগ্য ও মেধাবী হলেও তাদের ভাগ্যে চাকরির দেখা মিলত না। এ জন্য পুলিশ বিভাগ স্বচ্ছতার মাধমে চাকরি প্রদানের ব্যবস্থা করে। আর এতে করে সুযোগ পাচ্ছে অতিদরিদ্রদের মেধাবী সন্তানরাও। আর সাধারণ ঘরের ছেলে-মেয়েদের বিনা টাকায় চাকরি দিতে পেরে খুশি পুলিশের কর্মকর্তারাও।

টাকা নয়, যোগ্যতার মাপকাঠিতে দেওয়া হোক চাকরি’- পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ গ্রহণ করায় প্রশংসিত হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, পুলিশ কর্মকর্তা ও সরকার। এমন ধারা যেন পরবর্তীতেও অব্যহ্যত থাকে এ প্রত্যাশা সবার।