Amar Praner Bangladesh

শেরপু‌রে স্কুলের টয়লেট থেকে ছাত্রের বিবস্ত্র মর‌দেহ উদ্ধার

 

 

গিয়াস উদ্দিন রাসেল, শেরপুর প্রতিনিধি :

 

শেরপুরে একটি বেসরকারি স্কুলের টয়লেট থেকে এক শিক্ষার্থীর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের ভীমগঞ্জ এলাকার ড্যাফোডিল প্রিপারেটরি এন্ড হাই স্কুলের একটি টয়লেট থেকে এ লাশ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ।

নিহত ১৬ বছেরের রিমন হাসান পার্শ্ববর্তী খুনুয়া গ্রামের মো. সাগর মিয়ার ছেলে। ড্যাফোডিল প্রিপারেটরি এন্ড হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

এ ঘটনায় সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ হান্নান মিয়া।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ভ্যানচালক সাগর মিয়া ও মা রশিদা বেগমের চার ছেলের মধ্যে রিমন দ্বিতীয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনে বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। বিকেলে মাঠে বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট খেলে বাড়ি গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করে আবার বাইরে বের হয় রিমন। সে মাঝে-মধ্যেই না বলে নানা বাড়ি গিয়ে থাকতো। তাই রাত পেরিয়ে গেলেও তার বাবা-মা কোন খোঁজ নেননি। এদিকে সকালে ড্যাফোডিল প্রিপারেটরি এন্ড হাই স্কুলের নাইট গার্ড শেখ ফরিদ স্কুলের টয়লেটে হাত-মুখ ধুতে গিয়ে নগ্ন ও কাদামাটি মাখা অবস্থায় এক কিশোরের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্কুলের পরিচালককে খবর দেন। পরে তিনি পুলিশে খবর দিলে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রিমনের লাশের সুরতহাল তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পিবিআই, সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ও ডিবি পুলিশের পৃথক টিম।

রিমনের বাবা সাগর মিয়া বলেন, একটা মেয়েরে আমার সন্দেহ লাগে। এ মেয়েডা আমার পোলারে ডাইক্কা নিয়া অন্য ছেলে দিয়া মারছে। তার সাথে আমার পোলার সম্পর্ক ছিলো। আমার ছেলের হত্যাকারীর সঠিক বিচার চাই। আমার ছেলেডাই আমার সম্বল আছিল। আমি কৃষক মানুষ কষ্ট করে লেখাপড়াও করাইতাছিলাম ওরে।

মা রশিদা বেগম বলেন, কিছুদিন ধরে পার্শ্ববর্তী এক মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিলো। সে ওই মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলতো। আমার পোলারে যে মারলো তার আমি সুক্ষ বিচার চাই। আমার ছেলেরে মারলো কে।

পরিচালক চাঁন মিয়া বলেন, আমরা আমাদের স্কুলের নিরাপত্তার জন্য নাইট গার্ড রেখেছি। কিন্তু নাইট গার্ড এর কাছ থেকে আমরা জানলাম রাতে সে কোন আওয়াজ পায়নি। আজকে সকালে সে টয়লেটে লাশ দেখতে পেয়ে আমাদের জানান পরে আমরা পুলিশকে জানায়। এ ঘটনা যে ঘটিয়েছে তার আমরা শাস্তি চাই।

শিক্ষক ইসরাত জাহান বলেন, এ স্কুলে অনেক ছোট বাচ্চারা আসে। এ স্কুলের বাচ্চারা আমাদের ছাত্র। শুধু ছাত্রি নয় তারা আমাদের সন্তানের মত। আমি ছোট থেকে ছেলে মেয়েদের তাদের মা বাবার চেয়ে বেশি যত্ন করি। আমি চাই আমার সন্তানকে যারা কাইরা নিলো তাদের সুষ্ঠু বিচার হোক।

ময়মনসিংহ সিআইডি ক্রাইমসিন ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, রিমনের শরীরের আঘাতের চিহ্ন থাকায় ধারণা করা হচ্ছে তাকে কোন আক্রোশ বশত হত্যা করা হয়েছে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ হান্নান মিয়া জানান, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। ওই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।