Amar Praner Bangladesh

শেরপুরে ১৬৯ গৃহহীন পরিবারের এবার অন্যরকম ঈদ

 

 

গিয়াস উদ্দিন রাসেল, শেরপুর প্রতিনিধি :

 

শেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে পাকা ঘর পাচ্ছে ১৬৯টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের প্রথম বরাদ্দে নির্মিত ওই ঘরগুলো হস্তান্তর করা হবে আগামী ২৬ এপ্রিল মঙ্গলবার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উপকারভোগীদের ওইসব ঘরের চাবি, জমির দলিল ও কবুলিয়ত হস্তান্তর করবেন।

জানা যায়, শেরপুরে এবার মোট ১ হাজার ১১৮ টি ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে ৩টি ধাপে ৭৭৮টি পরিবার পুনর্বাসিত হচ্ছে। অবশিষ্ট ৩৪০টি পরিবারের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭০টি পরিবারে বরাদ্দের জন্য প্রতিটি ঘর নির্মাণ বাবদ ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫শ টাকা হিসেবে ৪ কোটি ৪১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া অবশিষ্ট পরিবারসমূহকে সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ব্যারাক নির্মাণের পর পুনর্বাসন করা হবে।

এদিকে জমি ও ঘর না থাকা ছন্নছাড়া অসহায় পরিবারগুলো এতদিন পর জমিসহ মাথা গুজার ঠাঁই পাচ্ছে বলে তাদের মাঝে বিরাজ করছে ব্যপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। এবার ঈদের আনন্দটাই তাদের জীবনে অন্যরকম হয়ে দেখা দেবে। এজন্য তারা বেজায় খুশি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ।

ঘর হস্তান্তর উপলক্ষে রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষ রজনীগন্ধায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে ওইসব তথ্য জানান শেরপুরের জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশীদ। তিনি আরও জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে জেলায় মোট ১ হাজার ১১৮ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার ঘর পাচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২৯১টি পরিবার ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৬৭টি পরিবারকে ঘর দেওয়া হয়েছে। এবার তৃতীয় পর্যায়ে ৩৩৯টি ঘরের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৬৯টি ঘরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে শেরপুর সদরে ৫০টি, নালিতাবাড়ীতে ৫০টি, নকলায় ৩০টি, শ্রীবরদীতে ২৫টি ও ঝিনাইগাতীতে ১৪টি ঘর রয়েছে।

প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে জেলায় ওইসব ঘর নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৪ কোটি ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ১৪৪টি ঘরের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে, যা আগামী ২৬ এপ্রিল হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বাকী ঘরগুলো আগামী ২/৩ সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ করে হস্তান্তর করে বরাদ্দকৃতদের মাঝে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মো. হাসান নাহিদ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফরিদা ইয়াসমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহনাজ ফেরদৌস, প্রেসক্লাব সভাপতি শরিফুর রহমান, সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আধার, সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন, সিনিয়র সাংবাদিক আবুল হাশিম ও দেবাশীষ ভট্টাচার্য।

ওইসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুকতাদিরুল আহমেদ, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহা জামান শাপলা, জেলা প্রশাসনের আরডিসি রুয়েল সাংমা, এনডিসি সাদিক আল সাফিনসহ জেলায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।