Amar Praner Bangladesh

শ্রীপুরে জাকির ও কামরুলের উপর কিশোর গ্যাংয়ের অতর্কিত হামলা

 

মোহাম্মদ মাহবুব আলম :

 

গাজীপুর শ্রীপুর এখন কিশোর গ্যাংয়ের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের কারণে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার নিমিত্তে নেতারাই এখন কিশোর গ্যাং পুষে রাখছে। বনে জঙ্গলে যেমন হিংস্র জানোয়াররা তাদের এলাকায় কাউকে প্রবেশ করতে দেয়না, তেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিহিংসা নিজেদের নেতৃত্ব ধরে রাখার জন্য প্রতিপক্ষকে জানোয়ারের মতো হামলা করছে।

ভুক্তভোগী জাকিরের বড় ভাই রাকিবুল ইসলাম এ বিষয়ে শ্রীপুর থানায় কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়- মোঃ রাকিবুল ইসলাম (৩১), পিতা- মোঃ ইমান হোসেন, সাং- পটকা, পো: শ্রীপুর, থানা- শ্রীপুর, জেলা- গাজীপুর। বিবাদী ১। রমজান হোসেন (১৯), পিতা- মৃত কামাল হোসেন, সাং- পটকা, ২। মো: ফাহিম (১৯), পিতা- অজ্ঞাত, সাং- শ্রীপুর (সবুজবাগ), ৩। মোঃ ফারদিন (১৮), পিতা- ফিরোজ আহম্মেদ, ৪। মোঃ নাঈম (১৯), পিতা- আলম, ৫। মোঃ আরিফ (১৮), পিতা- লোকমান হোসেন, ৬। রাকিব মিয়া (১৯), পিতা- নুরু হোসেন, সর্বসাং- পটকা, পো: শ্রীপুর, থানা- শ্রীপুর, জেলা- গাজীপুর। বিবাদীগণসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৬/৭ জন সন্ত্রাসী। বিবাদীগণ এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, তাহারা এলাকায় সংঘবদ্ধ ভাবে চলাফেরা করে এবং মাদকদ্রব্য সেবন করিয়া, চুরি, ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক ও অসামাজিক কর্মকান্ড করে বেড়ায়।

এই কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসীদের সাথে এলাকার অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত রয়েছে। বিবাদীগণ বেশ কিছুদিন পূর্ব হইতে রাকিবুলের ছোট ভাই জাকির হোসেনের সাথে বিভিন্ন বিষয়াদী নিয়া বিরোধ সৃষ্টি করে আসছিলো এবং তাকে মারধরসহ খুন জখম করিবে বলিয়া প্রকাশ্য ভয়-ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৭/০৬/২০২২ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ৮.৩০ মিনিটের সময় রাকিবুলের ছোট ভাই মোঃ জাকির হোসেন (২১) ও তার বন্ধু কামরুল (২০), রাকিবুলের বসত বাড়ীর দক্ষিণপার্শ্বে ফুটবল খেলার লাল মাঠে বসিয়া কথাবার্তা বলিতেছিল, ঠিক সেই সময় হঠাৎ করে বিবাদীগণসহ অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জন বিবাদী পরস্পর যোগসাজশে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ধারালো রাম দা, বাঁশের লাঠি, এস এস পাইপ, লোহার রড, হকিষ্ট্রিক, ধারালো কাচি ইত্যাদি দেশীয় মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হইয়া উক্ত স্থানে আসিয়া চতুরপার্শে¦ ঘেরাও করিয়া জাকির ও তার বন্ধু কামরুলের উপর অতর্কিত আক্রমণ করে এবং খুন জখমের উদ্দেশ্যে এলোপাথাড়ি ভাবে মারপিট শুরু করে।

একপর্যায়ে ১নং বিবাদী রমজান হোসেনের হাতে থাকা ধারালো রাম দা দিয়া রাকিবুলের ছোট ভাই- জাকির হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে স্ব-জোরে মাথায় কোপ দিলে উক্ত কোপ লক্ষ্যভ্রষ্ট হইয়া মাথার বামপার্শ্বে উপরি ভাগে পিছনের অংশে লাগিয়া ব্যাপক বিস্তৃত কাটা রক্তাক্ত গুরুতর জখম হয়। ঐ সময় রাকিবুলের ছোট ভাই জাকির চিৎকার করে মাটিতে পড়িয়া গেলে ৫ ও ৬ নং বিবাদী আরিফ ও রাকিব মিয়া সহ অজ্ঞাতনামা ৬-৭ জন বিবাদী সন্ত্রাসীরা তার মৃত্যু নিশ্চিত করার লক্ষ্যে লাঠি, এস এস পাইপ ও লোহার রড দিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক পিটাইয়া নীলাফুলা জখম করে এবং ২নং বিবাদী মোঃ ফাহিমের হাতে থাকা ধারালো রাম দা দিয়ে রাকিবুলের ছোট ভাই জাকিরের বন্ধু কামরুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে কপালের উপরি ভাগে মাথায় স্ব-জোরে কোপ মারিয়া তাকেও ব্যাপক বিস্তৃত কাটা রক্তাক্ত গুরু¡র জখম করে।

৪নং বিবাদী মোঃ নাঈমের হাতে থাকা দা দিয়া কামরুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ মারিলে উক্ত কোপ লক্ষ্যভ্রষ্ট হইয়া মাথার ডানপার্শ্বে উপরি ভাগে লাগিয়া মাথার খুলি পর্যন্ত ব্যাপক বিস্তৃত কাটা রক্তাক্ত গুরুত্বর জখম হয়। তখন ৫নং বিবাদী মোঃ আরিফের হাতে থাকা এস এস পাইপ দিয়া কামরুলের মৃত্যু নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাথায় আঘাত করিলে সে বাম হাত দিয়া ফিরানোর সময় তার বাম হাতের কব্জিতে লাগে এবং কব্জির হাড় ভেঙ্গে যায়। ৩নং বিবাদী কিশোর গ্যাং নেতৃত্বে ফারদিন কামরুলের ব্যবহৃত ১টি জবধষসব ঈ২৫ মডেলের মোবাইল কেড়ে নেয়। যাহার মূল্য আনুমানিক ১৫,০০০/- টাকা এবং ৬ নং বিবাদী রাকিবুলের ছোট ভাই জাকিরের সার্টের বুঁক পকেটে থাকা নগদ- ৪,৫০০/- টাকা জোর পূর্বক কেড়ে নেয়। ঐ সময় জাকির ও কামরুলের আত্মচিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশী শতশত লোকজন দৌঁড়াইয়া ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসলে বিবাদীগণ জখমীদের মৃত্যু নিশ্চিত মনে করে দৌঁড়াইয়া চলিয়া যায়।

উল্লেখ্য, বিবাদীদেরকে রাকিবুলের ছোট ভাই জাকির ও তার বন্ধু কামরুলের মোবাইলের টর্চ লাইটের আলোতে সন্ত্রাসীদের স্পষ্ট চিনিতে পারে। পরে ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় প্রতিবেশী তাদের অটোরিক্সা যোগে জখমীদেরকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়, কর্তব্যরত ডাক্তার তাদের জখমের প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়া গুরুতর অবস্থা দেখে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। তারা এখন মৃত্যুর মুখোমুখি অবস্থার মধ্যে আছে। যেকোন সময় তাদের মৃত্যু হতে পারে বলে সবাই ধারণা করছে।

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ব্যথতার পরিচয় দিয়েছে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে। বৃহত্তর গাজীপুর শ্রীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। এখনই যদি কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে শ্রীপুরের রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুন্ন হয়ে একটি সন্ত্রাসীদের এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হবে।