শ্রীপুরে রাশেদুল হাসান এবং তার দালাল সাংবাদিক হোসাইন আলী বাবু জামিনে এসে ফের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে ফারজানা ইয়াসমিনকে

 

(রাশেদুল ও বাবুর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়েরী থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় সংসদ মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজের সাথে ভাল সম্পর্কের ফিরিস্তি দিয়ে সকলের মাঝে অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ। শিক্ষিকা ফারজানা ইয়াসমিন মাসুমার সাথে প্রতারণা করে দ্বিতীয় বিয়ে করেও ফারজানার সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার পায়তারা করছে রাশেদুল হাসানের নেতৃত্বে একটি কু-চক্রী মহল। এলাকাবাসীর দাবী একমাত্র এমপি মহোদয় উভয়পক্ষকে নিয়ে বসলে হয়তো কোন সমাধান হতে পারে। আবার অনেকের মন্তব্য ফারজানা ইয়াসমিন মাসুমার ভাই বিএনপি’র নেতা এই বিষয় নিয়ে এমপি মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ কি বসবেন?)

 

মাহমুদুল হাসানঃ

বিজ্ঞ আদালতে একাধিক মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ফারজানা ইয়াসমিন মাসুমা কর্তৃক দায়েরকৃত মামলা হইতে মহামান্য হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে অভিযুক্ত মোঃ হোসাইন আলী বাবু (এশিয়ান টিভি থেকে বহিষ্কৃত সাংবাদিক এবং সবসময় মোঃ রাশেদুল হাসানের দালালী করে বেড়ায়।

তার সব অপরাধকে আড়াল দিতে হোসাইন আলী বাবু কাজ করে তার ডান হাতের মতো এমনটাই অভিযোগ বাবুর বিরুদ্ধে।) মোঃ রাশেদুল হাসান, মোঃ রাজিব প্রধান, মোঃ রফিকুল ইসলাম পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মাধ্যমে ফারজানা ইয়াসমিন মাসুমাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য একেরপর এক হুমকি দিয়ে আসছে।

সম্প্রতি ০২/১১/২০২০ ইং তারিখ আনুমানিক ৯.৫ ঘটিকা থেকে ৯.৪৬ ঘটিকা পর্যন্ত অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তি আকরাম খান নামীয় ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার থেকে ফারজানা ইয়াসমিন নামীয় ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ফোন করে বিভিন্ন অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মামলায় পুলিশের নিকট স্বাক্ষ্য প্রমাণ হাজির করতে এবং মামলা পরিচালনা করতে নিষেধ করেন।

অন্যথায় ফারজানা ইয়াসমিন মাসুমার পরিবারের লোকজনকে চরম মাশুল দিতে হবে মর্মে হুমকি প্রদান করেন। এই মর্মে গত ০৩/১১/২০২০ ইং শ্রীপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী হয়। যাহার নং- ১৬১।

ডায়েরীতে আরো উল্লেখ করা হয় যেহেতু মামলা পরিচালনা না করার স্বার্থে যথাক্রমে হোসাইন আলী বাবু, রাশেদুল হাসান, রাজিব প্রধান, রফিকুল ইসলাম, এদের স্বার্থ জড়িত। তাই ফারজানা ইয়াসমিনের অভিযোগ এরাই নিজেরা কিংবা কাউকে দিয়ে এগুলো করাচ্ছে। যাতে করে আমি মামলা পরিচালনা থেকে বিরত থাকি। তবে আমার বিশ্বাস কন্ঠ শুনে আমার কাছে মনে হয়েছে সম্প্রতি এশিয়ান টিভি থেকে বহিষ্কৃত সাংবাদিক এবং রাশেদুল হাসানের পালিত দালাল হোসাইন আলী বাবু ছাড়া আর কেউ নয়।

কিছুদিন পূর্বে এই বিষয়ের উপর ভিত্তি করে নিজের জীবন এবং সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তার নিমিত্তে শ্রীপুর উপজেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা সাংবাদিক সম্মেলন করেন। যা বাংলাদেশের বহুল প্রচলিত অনেক গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশিত হয়। নাম জানাতে ইচ্ছুক নয়, শ্রীপুর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের একজন প্রবীণ নেতা দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশকে জানান, বেশ অনেকদিন যাবৎ এই দুই পরিবারের মধ্যে মামলা মোকদ্দমা চলছে।

শুনেছি রাশেদুল ইসলামের সাথে ফারজানা ইয়াসমিন মাসুমার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাদের সংসারে দুইটি কন্যা সন্তানও আছে। এরকম মেয়েদেরকে রেখে এবং নিজের শিক্ষিতা স্ত্রীকে পরিত্যাগ করে ইতিমধ্যে রাশেদ অন্য জায়গায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। যে বিষয়টি একেবারে শেষ হয়ে গেছে তাদের মধ্যে মামলা মোকদ্দমা নিয়ে চালাচালি করার কারণে এলাকার মধ্যে বিভিন্ন পরিবারের বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে। আমার মনে হয় একমাত্র দলমত নির্বিশেষে শ্রীপুর বাসীর হৃদয়ের মনি মাননীয় সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ উভয় পরিবারকে নিয়ে বসে বিষয়টি মিমাংসা করলে অনেক দিনের পারিবারীক কলহ নিষ্পত্তি হতে পারে।

সেই ক্ষেত্রে অনেকেই বলে বেড়ায় যে রাশেদুল ইসলাম এবং তার সহকর্মীরা আওয়ামীলীগ করে অন্যদিকে ফারজানা ইয়াসমিন মাসুমার ভাই বিএনপি করে তাহলে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে কিভাবে? আমি যতটুকু এমপি সবুজকে চিনি তিনি দলের বিষয় নয় যেকোন ন্যায় বিচারকে প্রধান্য দিয়ে থাকেন। আর এখানে আওয়ামীলীগ-বিএনপি’র কোন কলহ নয়; বিষয়টি পারিবারীক দাম্পত্য কলহ। আর আমরা সবাই মানুষ। এমপি মহোদয় সত্যের পথে চলেন, আশা করি আমার এই কথা তার পর্যন্ত পৌঁছালে তিনি হয়তো একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

গাজীপুরের শ্রীপুরে ফারজানা ইয়াসমিন নামে এক শিক্ষিকা দুই শিশু সন্তান সাথে নিয়ে নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বেশ কিছুদিন পূর্বে। ওই নারী উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার বসত বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে নিরাপত্তার আকুতি জানান। তিনি সংবাদ সম্মেলনে চার যুবককে অভিযুক্ত করে নিরাপত্তার দাবি তোলেন। যুবকেরা হল শ্রীপুর পৌর শহর এলাকার কবির হোসেনের ছেলে হোসাইন আলী বাবু, ভাংনাহাটী গ্রামের মৃত শাহিদ আলীর ছেলে রাশেদুল হাছান, গোসিংগা গ্রামের রাজিব প্রধান ও বিন্দুবাড়ি গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে রফিকুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত রাশেদুল হাছানের সাথে ওই শিক্ষিকার এক যুগ সংসার করার পর বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। ওই দুটি সন্তান নিয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। কন্যা সন্তান হওয়ায় এবং যৌতুকের দাবিতে তাকে ডিভোর্সের আগে নানাভাবে নির্যাতন করে আসছিল রাশেদুল হাছান। এক পর্যায়ে ভিন্ন নারীর সাথে যোগাযোগ করে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এসব বিষয় নিয়ে ওই শিক্ষিকার বাবা শ্রীপুর থানায় গত বছরের মে মাসে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, ওই মামলা প্রত্যাহারের জন্য অভিযুক্ত হোসাইন আলী বাবু নানা সময় নানা কায়দায় ভয়-ভীতি ও হুমকি দিতে থাকে। শিক্ষিকার স্বামীকে সংসারে ফিরে পেতে সহায়তার কথা বলে তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করে হোসাইন আলী বাবু এবং তার গং। অন্যথায় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বদনাম রটিয়ে সংবাদ প্রচারের হুমকি দেয়। করোনা প্রাদুর্ভাবের আগে সে স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক বিষয় নিয়ে মানহানির উদ্দেশে তার কর্মস্থল টেংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ক্যামেরা তাক করে তাকে নানা উদ্ভট ও আপত্তিকর প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য করে। এতে বিদ্যালয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

পরে স্থানীয় অভিভাবকেরা এগিয়ে আসলে সে ক্যামেরাসহ পালিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন (ডিএমপি) কোতয়ালী থানা, গাজীপুরের শ্রীপুর থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়েরি রয়েছে। গত ১৭ জুলাই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে টেংরা-মাওনা সড়কে শিক্ষিকার বাড়ির পাশে পথরোধ করে। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে টেনে হিঁচড়ে একটি প্রাইভেটকারে নিতে চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তারা শ্লীলতাহানির চেষ্টা, টানা হেঁচড়ার ছবি এবং ভিডিওচিত্র ধারণ করে।

শিক্ষকের বড় ভাই আক্তার মাস্টারকে জড়িয়ে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে এবং সাজানো মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হোসাইন আলী বাবু বলেন, তাকে হেনস্তা করা এবং ফাঁসানের চেষ্টা চলছে। কাউকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর কোনো চেষ্টা তিনি করেননি। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, এ ঘটনায় পরষ্পরবিরোধী মামলা, সাধারণ ডায়েরী (জিডি) ও অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষকের নিরাপত্তাহীনতার কোনো ঘাটতি নেই।

নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করলে পুলিশ আইন অনুযায়ী নিরাপত্তা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। শিক্ষিকার দায়েরকৃত মামলা ও সাধারণ ডায়েরী আমরা ভালভাবে আমলে নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

এদিকে এশিয়ান টেলিভিশনের একজন কর্মকর্তার কাছে মোবাইল ফোনে বাবুর বহিষ্কারের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যাঁ, হোসাইন আলী বাবুকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং এই মর্মে তার কাছে একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে।