Amar Praner Bangladesh

শ্রীপুর কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ মোকছেদুরের খুঁটির জোর কোথায়

 

(হাজারোও অপরাধ করেও তিনি আছেন বহাল তবিয়তে, দূর্নীতি করে, রাতারাতি কয়েকশত কোটি টাকার মালিক, মুকছেদের মূল ব্যবসা জাল জালিয়াতী করে সার্টিফিকেট বিক্রি করা। তাকে নিয়ে অনেক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও তার খুঁটির জোর এতটাই শক্ত যে শতভাগ দূর্নীতির মধ্যেও তার বহাল থাকা বিশাল রহস্য মনে করছে সবাই।)

 

 

মোয়াজ্জেম হোসেন :

অধ্যক্ষ মুকছেদুর রহমান ২০০৯ সাল হতে ২০২১ সাল পর্যন্ত উত্তরা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের গভর্ণিং বডির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০০৯ সালে উত্তরা গার্লস স্কুলের গভর্ণিং বডির সদস্য ছিলেন, সরকার স্কুলটিকে কলেজে রূপান্তরিত করার পরপরই একসাথে ২২ জন শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগ প্রদান করেন। তখন সে এখানে বিশাল নিয়োগ বাণিজ্য করেন।

এছাড়াও মাঝে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ প্রদান করেন। এতে করে তৎকালীন অধ্যক্ষ জনাব হযরত আলী অধ্যক্ষ মুকছেদুর রহমানের দূর্নীতি বাঁধা প্রদান করিলে তৎকালীন সহকারী প্রধান শিক্ষিকা হাসনেহেনা পারভীন সহ গভর্ণিং বডির সভাপতি মাহমুদ ইদ্রিসের সরণাপন্না হয়ে অধ্যক্ষ জনাব হযরত আলীকে চাকরিচ্যুত হওয়ার সহকারী শিক্ষিকা হাসনে হেনা পারভীনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করেন। একই সাথে ব্যাংকের এ্যাকাউন্টে হাসনেহেনা পারভীন ও অধ্যক্ষ মুকছেদুর রহমানের যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংকের হিসাব পরিচালনা করা হয়। এর পর উত্তরা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের উত্তর পাশের্^ একটি ভবন নির্মাণ করে বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়াও ভবনটিতে ইংলিশ মিডিয়াম চালু করে শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগ প্রদান করেন এবং বিশাল অংকের নিয়োগ বাণিজ্য করে। এছাড়াও প্রতিটি অনুষ্ঠানে গভর্ণিং বডির সদস্য ও সভাপতি ১০ হাজার টাকার গিফট নেন।

এছাড়াও স্কুল এন্ড কলেজের নানা কাজকর্ম দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে স্কুলে হাসনাহেনা পারভীন দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় একটি অভ্যন্তরীণ অডিট করা হয়। এতে করে ৬০ লক্ষ টাকা অধ্যক্ষ মুকছেদুর রহমান তছরূপ করেছে বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

এছাড়াও আরোও অনেক টাকা বিভিন্ন অজুহাতে হাতিয়ে নিয়েছে। এতে করে স্কুল ও কলেজটি ধ্বংসের দ্বারগুড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। চাকরিচ্যুত অধ্যক্ষ হযরত আলী পুনরায় স্কুল এন্ড কলেজে চাকরি ফিরে পাওয়ার পরে তাহার দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর হতেই অধ্যক্ষ মুকছেদুর রহমান সটকে পড়ার পায়তারা করে এক পর্যায়ে নিজেই সটকে পড়ে।

অন্যদিকে শ্রীপুর পৌর শহরে অবস্থিত শ্রীপুর কারিগরি কলেজটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, অত্র কলেজটি পরিচালিত হয় সুফিয়া ফাউন্ডেশন নামক একটি প্রতিষ্ঠান দ্বারা। সুফিয়ান হলেন প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শক এবং অধ্যক্ষ মোঃ মোকছেদুর রহমানের স্ত্রী এবং মোকছেদুর রহমান হলো উক্ত প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ। এই স্বামী স্ত্রী ফাউন্ডেশন দিয়ে অত্র প্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন করা হয়। এই ফাউন্ডেশন এই কলেজের কমিটি গঠন ছাড়া আর কোন কাজ করেছে বলে অত্র এলাকার জনগনের জানা নাই। এই পকেট কমিটি দ্বারা শ্রীপুর কারিগরি কলেজটিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছেন। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসা করে ঢাকা শহরে তিনটি ফ্লাট, শ্রীপুর শহরে চার তলা ভবন, জয়না বাজারে একাদিক বাড়ী সহ অডেল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।

শ্রীপুরের জনগন এই ফাউন্ডেশন থেকে প্রতিষ্ঠানটির মুক্তি চায়। অন্যদিকে অন্যায় ভাবে দীর্ঘদিন চাকুরিচুত্য ও হয়রানির শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপনের পর গাজীপুরের শ্রীপুরে বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার ও স্বপদে যোগদান চেয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন কারিগরি কলেজের ৩ শিক্ষক। এ সময় কলেজটির অধ্যক্ষের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেছেন তারা।

পৌর এলাকায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক (তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) কাজী মেহেদী মাসুদ, প্রদর্শক কম্পিউটার আবু বকর সিদ্দিক ও ল্যাব সহকারী মারুফা সুলতানা। সাংবাদিক সম্মেলনে তারা জানান, ১৯৯৮ ইং সালে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড হইতে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হয়ে ২০০০ সালে এমপিভুক্ত হয় শ্রীপুর কারিগরি কলেজটি। কিন্তু ২০০৩ সালে শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক তদন্তে বিভিন্ন অনিয়ম ও বিধি বহির্ভূতভাবে উত্তোলিত ৭ লাখ ৪৪ হাজার ২৫৩ টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দানের জন্য প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরবর্তী ২০০৭ সালে সরকারী প্রজ্ঞাপন মূলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হলে বিভিন্ন অনিয়মের জন্য অধ্যক্ষকে চাপ প্রয়োগ করলে তিনি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদিত অত্র প্রতিষ্ঠানের একটি কমিটির পত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরারব প্রেরণ করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার উক্ত কমিটির পত্রটি কারিগরি শিক্ষবোর্ডের তদন্তের জন্য প্রেরণ করলে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড কমিটির পত্রটি জাল ও ভুয়া মর্মে প্রত্যায়িত করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অধ্যক্ষকে জাল কমিটি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সামিয়ক বরখাস্ত করে শ্রীপুর থানায় মামলা নং- ৭৭ (০৫) ০৭ ইং ও ৭৮ (০৫)০৭ ইং দায়ের করেন। একই সাথে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা নং- ৭৬ (০৫) ০৭ রুজু করেন।

মামলা গুলোতে অধ্যক্ষ আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলেও জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরন করে। ৪৬ দিন পর জামিনে মুক্ত হয়ে উক্ত মামলাগুলি মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং ১৬৪২২/০৭ ইং ,১৬৪২৩/০৭, ১৬৪২৪/০৭ ইং দাখিল করে মামলাগুলি স্থগিত করান। মামলা স্থগিত করে সাময়িক বরখাস্ত থাকাবস্থায় প্রতিষ্ঠানের কমিটি চেয়ে বোর্ডের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন নং ৮৭২২/০৭ ইং দাখিল করেন। বোর্ড রিট পিটিশনের কোন জবাব না দেয়ায় একতরফাভাবে সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ কমিটি গঠনের রায় পায়। মামলার বাদী ও শ্রীপুর কারিগরি কলেজের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী মেহেদী মাসুদ জানান, উক্ত রায়ের কারণে প্রতিষ্ঠানের গঠিত কমিটি ভেঙ্গে দিলে জানতে পারি যে, সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ কমিটির রায় পেয়েছেন।

পরবর্তীতে আমি কমিটির রায়ের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং- ৪৫৫০/১০ ইং দাখিল করে পক্ষ হওয়ার জন্য মামলা করলে, মহামান্য হাইকোর্ট উক্ত কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করেন। এমতাবস্থায় সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ তার বেতন ভাতা ও দায়িত্ব চেয়ে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং- ৯১০৮/১০ ইং দাখিল করলে অধ্যক্ষকে দায়িত্ব না দিয়ে মামলাটি খারিজ করেন আদালত। তিনি আরো বলেন, ২০১২ সালে ২২ ডিসেম্বর তারিখে সন্ত্রাসী কায়দায় অধ্যক্ষ কলেজে আমাকে আক্রমণ করে আমার কাছ থেকে কলেজের চাবি রেখে দেয়।

এ সময় কলেজের প্রদর্শক আবু বক্কর সিদ্দিক ও ল্যাব সহকারী মারুফা সুলতানা সহ আমাকে কলেজ থেকে বের করে দেয়। পরে আমার বিরুদ্ধে বিশেষ মোকাদ্দমা নং- ১৮/১১ ইং ও শ্রীপুর থানার মামলা নং- ০১ (০৪) ১৩ ইং দায়ের করেন এবং আমাদের বেতন ভাতা বন্ধ করে দেন। মামলা গুলি দূর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে ০১ (০৪) ১৩ ইং মামলাটি নিষ্পত্তি করে। আমাদেরকে মামলা দায় হতে অব্যহতি দেন এবং ১৮/১১ ইং নং বিশেষ মামলাটিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে উক্ত অধ্যক্ষ আপত্তি দাখিল করিলে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।

উপরোক্ত মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ার পর বেতন ভাতার জন্য আবেদন করলেও তিনি আমাদের বেতন ভাতা ছাড় করেননি। কয়েক হাজার মামলা চলমান থাকলেও দায়িত্ব পালন করতে পারবে জানিয়ে শ্রীপুর কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ এ.কে.এম মোকছেদুর রহমান মুঠোফোনে জানান, আমি বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় কলেজে সময় দিতে না পারায় হাবিবুর রহমান মানিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ওই তিন শিক্ষককে চাকুরি বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা না আসায় নিয়মানুযায়ী বরাখাস্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আব্দুল জলিল বিএ মুঠোফোনে জানান, মামলা সংক্রান্ত বিষয় গুলো আমি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পূর্বে হতে পারে। এ সম্পর্কে কারো কোন মৌখিক বা লিখিত অভিযোগের ব্যাপারে আমার জানা নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সামছুল আরেফীন জানান, ভুক্তভোগী ওই তিন শিক্ষকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কাগজপত্র পর্যালোচনা পূর্বক মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।