Amar Praner Bangladesh

শ্রীবরদীতে এক নির্যাতিত নারী ন্যায় বিচার চায়

 

মোঃ শামছুল হক, জেলা প্রতিনিধি শেরপুরঃ

 

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার বৈষ্ণবেরচর গ্রামের রাশেদ মোশাররফ নামের এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও অসহায় মহিলার কাছে থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী মহিলা ও মামলার সূত্র থেকে জানাযায়, শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়নের বৈষ্ণবেরচর গ্রামের রাশেদ মোশাররফ একটি এনজিওতে চাকরি করতো। সে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করার সময় চাতুরতার আশ্রয় নিয়ে সহজ সরল মহিলাদের বিয়ে করে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত চারটি বিয়ে কথা প্রকাশ পেয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে শেরপুর শহরের গৌরীপুর মহল্লার এক সন্তানের বিধবা মহিলাকে ২০১৭ সালের ১০ মার্চ ফুসলিয়ে বিয়ে করে। বিয়ের পরপরই ওই মহিলার জমানো ১০ লাখ টাকা গ্রহণ করে। এরইমধ্যে তাদের ঘরে একটি ছেলে সন্তানও জন্ম গ্রহণ করে। ইতিমধ্যে ওই মহিলা রাশেদের একাধিক স্ত্রী থাকার বিষয়টি টের পায়। পরে রাশেদ আবারও ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে।

ঢাকায় ভাড়া বাসায় ওই মহিলাকে নিয়ে যায়। সেখানে রাশেদ ও তার বাবা মিজানুর রহমান চলতি বছরের ১৯ মে ৫লাখ টাকা যৌতুক দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। টাকা দিতে অস্বীকার করে। তাই তাকে নির্যাতন করে।

এ ঘটনার নির্যাতিত মহিলা জাতীয় মহিলা সংস্থাসহ বিভিন্ন স্থানে আবেদন নিবেদন করেও কোন সুরাহা পাননি। অবশেষে রাশেদকে প্রধান আসামি করে ঢাকা মূখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে মামলা দায়ের করে। পরে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এর পর থেকেই রাশেদ পলাতক রয়েছে। এদিকে ওই মহিলাকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য ফেইসবুকে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করে। এ বিষয়ে রাশেদ ও তার কথিত আরেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ময়মনসিংহ সাইবার ক্রাইম ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে রোজিনা নামে রাশেদের এক স্ত্রী এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমার স্বামীকে ব্ল্যাক মেইল করে বিয়ে হয়েছে। আমি বর্তমানে রাশেদের সাথে যোগাযোগ রাখছিনা। সমস্যা সমাধানের পর তার সাথে সম্পর্ক হবে। এ ব্যাপারে রাশেদকে তার গ্রামের বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তার মুঠো ফোনও বন্ধ ছিলো। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেরপুর জেলা জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম ফাতেমা বলেন, আমরা এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু কোন সমাধান করতে পারি নাই। রাশেদকে অনেক ডেকেছি, কিন্তু রাশেদ আসে নাই।

ভুক্তভোগী নির্যাতিত নারী জানান, আমার সবশেষ করে দিয়েছে রাশেদ। আমার কাছ থেকে ১০লাখ টাকা নিয়েছে সে। আরো পাঁচ লাখ টাকার জন্য নির্যাতন করেছে। তার পেশাই এটা। তার সন্তানের ভরনপোষণ পর্যন্ত সে করে না। সে বাঁচার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমি এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।

তার আইন জীবি এডভোকেট আক্রামোজ্জান বলেন, আমা মোয়াক্কেল নির্যাতিত। তার অভিযোগের সত্যতা আছে। আমরা ন্যায় বিচার প্রত্যাশি।