Amar Praner Bangladesh

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা করে বাংলাদেশকে হেয় করা হচ্ছে: অর্থ সচিব

 

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির চেয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি সব সূচকেই ভালো আছে জানিয়ে অর্থ বিভাগের সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার বলেছেন, যারা শ্রীলঙ্কার সাথে বাংলাদেশকে তুলনা করেন, তারা দেশকে হেয় করেন। কোনোভাবেই এটা তুলনা করার কোনো কারণ নেই।

এসময় তিনি তথ‌্য-উপাত্ত তুলে ধরে অর্থনীতির প্রায় সব সূচকেই যে বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে তা ব্যাখ্যা করেন।

মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম‌্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, ইআরডি’র সেক্রেটারি ফাতিমা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।

অর্থ সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গত ১৩ বছরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। এ কারণে আমাদের সরকার বিভিন্ন পর্যাপ্ত নীতি ও আর্থিক সুবিধা প্রদান করেছে। এর ফলে পোশাক রপ্তানি, রেমিটেন্স প্রবাহ, চাল বা ধানের উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।’

‘পোশাক রপ্তানি, রেমিটেন্স, ধান উৎপাদন বেড়েছে। এর কারণ সরকার এসব ক্ষেত্রে কার্যকর নীতি গ্রহণ করেছেন। বিভিন্ন আর্টিকেলে বাংলাদেশের সাকসেসের জন‌্য থ্রি আরকে রেফার করে।’

করোনার ধকল কাটিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি অত্যন্ত দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার মধ‌্যে সবচেয়ে ভালো করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থ বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এটা ৭ দশমিক ২ এর উপরে থাকবে বলে আমরা আশা করি।’

‘এনবিআরের রেভিনিউ আমাদের গত ৬ বছরের হলো ১১ ভাগ। সেটা এখন পর্যন্ত ১৫ ভাগের বেশি গ্রোথ আছে। প্রাইভেট সেক্টরে ক্রেডিট গ্রো ১১ ভাগের দাঁড়িয়েছে।’

আব্দুর রউফ বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় ৪টি বড় অর্থনীতি। ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা। এর মধ‌্যে ভারতের জিডিপি আমাদের থেকে বড়। দ্বিতীয় আমরা, তৃতীয় পাকিস্তান, চতুর্থ শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার জিডিপি যদি আপনি যোগ করেন বাংলাদেশের জিডিপি তার চেয়ে বড়। বাংলাদেশ যে পরিমাণ রপ্তানি করে তা পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার রপ্তানি যোগ করলে তার চেয়েও বেশি। অন‌্যদিকে বাংলাদেশের বৈদেশিক রিজার্ভ পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার রিজার্ভ যোগ করলে যা হবে, তার চেয়ে বেশি।’

‘আমাদের বৈদেশিক যে ঋণ আছে, তা জিডিপির মাত্র ১২ ভাগ। যেটা শ্রীলঙ্কার প্রায় ৪৮ ভাগ। শ্রীলঙ্কা বিদেশ থেকে যে ঋণটা বড় করেছে তার সুদের হার হলো ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। আর আমরা বিদেশ থেকে যে ঋণ নিয়েছি তার হার হলো ১ দশমিক ৪ শতাংশ। সামষ্টিক অর্থনীতির যে অবস্থা বাংলাদেশের তাতে আমরা কারো সাথে তুলনা করতে চাই না, আমরা আমাদের নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, একটা দেশ তখন দেউলিয়া হয়ে যায় যখন ঋণ শোধ করতে পারে না। আমাদের যে ঋণ আছে তা আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরেও যদি আমরা ধরি, ফেল করার কোনো কারণই নেই।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘আমাদের মনোবলটা শক্ত করতে হবে। আমরা বার বার প্রমাণ করেছি, আমরা পারি। আমাদের যে অর্জন আছে আমাদের পূর্বসূরিরা করেছে, আমরা সকলে মিলে করছি সেটিকে যদি সেলিব্রেট করতে না পারি তাহলে আমার মনে হয় আমাদের অর্জনের কোনো মানে নেই।’

‘যারা আজকে শ্রীলঙ্কার সাথে বাংলাদেশকে তুলনা করে এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু নেই। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার চেয়ে অনেক দূরে আছে। বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার সাথে তুলনা করার চেয়ে এর চেয়ে লজ্জাজনক আর কিছু হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছেন অত্যন্ত বিচার বিশ্লেষণ করে। বাংলাদেশের সাথে শ্রীলঙ্কার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন‌্য আজকে তিন ঘণ্টা সময় ব‌্যয় করেছেন। প্রতিটি তথ‌্য উপাত্ত তিনি নিজে বিশ্লেষণ করেছেন। এই হচ্ছে আমাদের প্রধানমন্ত্রী, তিনি নিজে সবকিছু দেখে নিশ্চিত হয়েছেন।’

আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘আইএমএফের পর্যালোচনায়, বৈদেশিক ঋণ জিডিপির অনুপাতের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো আছে। বৈদেশিক ঋণ রপ্তানির অনুপাতে বাংলাদেশের যে রিস্ক, তার চেয়ে অনেক ভালো আছে।’

এনবিআর চেয়ারম‌্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘আমরা অনেক কিছুতে রাজস্ব পরিস্থিতিতে ছাড় দিচ্ছি। করভার লাঘব করার চেষ্টা করছি। কিন্তু করভার লাঘব করার ক্ষেত্রে আমাদের যে উদ্দেশ‌্য সেটা কিন্তু করছাড় নয়, ঠিক সমন্বয় বলা যেতে পারে। যেখানে করভার বেশি আছে সেটি সমন্বয় করা। এটি সব জায়গায় পজিটিভ রেজাল্ট পেয়েছি অর্থনীতিতে। আমরা নেগেটিভ কিছু পাইনি। আমরা অন্ধের মতো কর ভার কমাই না। আমরা যেভাবে যেখানে রাজস্ব ইমপ‌্যাক্ট আসবে বেছে বেছে সেখানে করছি।’

‘আমরা যেসব জায়গায় আমরা করে ছাড় দিয়েছি, যেখানে ওভারঅল রেভিনিউ আমাদের বেড়ে গেছে। গত বছর আমাদের ২২ ভাগ গ্রোথ ছিলো। এবার আমাদের ১৫ ভাগ গ্রোথ হয়েছে। আগামী কয়েকমাসের মধ‌্যে আরো বেশি হবে। আমাদের রেডিও, টেলিভিশন ইলেকট্রনিক্স আইটেমগুলো… ফ্রিজ, এসি… এমনকি মোবাইলফোন- এই আইটেমগুলো কয়েকবছর আগেও বাইরে থেকে ইমপোর্ট বেশি ছিলো।’

রাজস্ব সাপোর্টের মাধ‌্যমে করভার লাঘব, চুক্তিকরণের মাধ‌্যমে এখন প্রায় ৮০টি আইটেম দেশে হচ্ছে উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম‌্যান বলেন, মোবাইল ছাড়া আমরা ল‌্যাপটপ, কম্পিউটার, মোটরসাইকেল; এমনকি চার চাকার গাড়ি সংযোজন ও উৎপাদনের কাজ হাতে নিচ্ছে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান। এইসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে করছাড় কিন্তু দেশের জন‌্য ক্ষতি বয়ে আনবে না, বরং অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখবে।