Amar Praner Bangladesh

সংবাদকর্মীকে অবসরে যেতে বাধ্য করা যাবে না

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘গণমাধ্যমকর্মী আইনে অবসরের বয়সসীমা ৫৯ বছর বলার উদ্দেশ্য হলো—স্বেচ্ছায় কোনো সংবাদকর্মী চাইলে অবসরে যেতে পারবে, তবে কোনো মালিক বাধ্য করতে পারবে না। এ আইনের সঠিক বাস্তবায়ন করতে আরও পরিষ্কার করে তথ্য সংযোজন করা হবে।’

মঙ্গলবার (৩১ মে) দুপুরে সচিবালয়ে ‘গণমাধ্যমকর্মী আইন বিষয়ে বিএসআরএফ সংলাপ’ এ তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এ সংলাপের আয়োজন করে। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ সভাপতি তপন বিশ্বাস এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য করা হয়নি, জানিয়ে আনিসুল হক বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানে সংযোজন করে দিয়ে গেছেন সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার কথা, যেটা অনেক গণতান্ত্রিক দেশের সংবিধানে নেই। বঙ্গবন্ধু এটা সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে সংযোজন করে দিয়ে গেছেন। তার কন্যার সরকার এমন কোনো আইন করবেন না, যাতে বাকস্বাধীনতা বা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ব্যাহত হয়। আমরা সেটা করিনি।’

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে কিছু সমস্যারও সৃষ্টি হয়েছে। সেসব সমস্যা হলো—সাইবার ক্রাইম। আমাদের এই সাইবার ক্রাইম মোকাবিলা করতে হবে। অনেক অপরাধ আছে, যেগুলো আর ফিজিক্যালি করা হয় না, কম্পিউটারের মাধ্যমে করা হয়। সেটার বিচার করা হবে কিভাবে? সেজন্য তো একটা আইন করতে হবে। আমরা সেজন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট করেছি। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বসেছি এবং বলেছি, আগে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা হলে সঙ্গে সঙ্গে অ্যারেস্ট করা হতো। এখন এই আইনে মামলা করার সঙ্গে সঙ্গে যাতে কাউকে অ্যারেস্ট না করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আমি জাতিসংঘের হাইকমিশন ফর হিউম্যান রাইটসের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসলাম। তাদের বিশেষজ্ঞদের সাথে আমাদের বিশেষজ্ঞদের বৈঠকের ব্যবস্থা করে এই আইনের সুন্দর চর্চা কিভাবে করা যায় তা খুঁজে বের করতে। এর আগে ৫৭ ধারার জন্য একটি বিশেষ সেল ছিল। ওই ধারায় কোনো মামলা হলে তা আগে সেই সেল দেখবে। এরপর সেল যদি মনে করে যে, অপরাধের ধরন মামলা হওয়ার মতো, তাহলে মামলাটা হবে, না হলে হবে না।