Amar Praner Bangladesh

সংবাদপত্রে ঘাটাইলের বিএনপি বিভক্তির দায় নাসিরের

 

 

আ: রশিদ তালুকদার,টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :

 

ত্যাগী ও সক্রয়ি নেতাদের প্রতিবাদ সত্ত্বেও আওয়ামী এজেন্ট ও নস্ক্রিয় দিয়ে গঠিত ঘাটাইল উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বাতিল করা হয়নি ।প্রতিবাদকারী নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন ,স্থানীয় নেতাদের আগ্রহ থাকলেও বহিরাগত নেতা ওবায়দুল হক নাসিরের অনাগ্রহের কারনে বিবদবান গ্রুপ দুটির মধ্যে সমন্বয় প্রক্রিয়া সফল হয়নি।ঘাটাইলের বিএনপিতে বিভক্তির খবর স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ছাপানো হয়েছে।

[প্রকাশিত এসব সংবাদের মাধ্যমে বিএনপি জাতীয় নিবার্হী কমিটির সদস্য ওবায়দুল হক নাসির এর উপর ঘাটাইলের বিএনপি বিভক্তির দায় চাপানো হলেও তিনি এর কোন প্রতিবাদ করেননি]।

কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে এটিকে গুরুত্বের সাথে প্রথম পাতায় প্রকাশ করেছে। দৈনিক যুগ-ধারায় ৩১ মে প্রকাশিত প্রথম প্রতিবেদনটিই ছিলো ঘাটাইলের বিএনপরি বিভক্তি নিয়ে। সংবাদটির শিরোনাম করা হয়েছিলো ‘আওয়ামীলীগের এজেন্ট দিয়ে আহবায়ক কমিটি, কোন্দলে পুড়ছে ঘাটাইলের বিএনপি ’সংবাদটিতে বলা হয়েছে বাসাইলের বাসিন্দা ওবায়দুল হক নাসির ঘাটাইলের বিএনপিতে বিভক্তি করেছে। খবরটিতে নেতা-কর্মীদের উদ্ধতি দিয়ে বলা হয়েছে, ঘাটাইলের বিএনপিতে লুৎফর রহমান খান আজাদের বিকল্প নেই ।

টাঙ্গাইল থেকে প্রকাশিত পাঠক নন্দিত কাগজ সাপ্তাহিক পূর্বাকাশে গত ১৭ এপ্রিল ‘‘রাগে ক্ষোভে ফুসছেন ত্যাগী নেতারা’’,নিস্ক্রয়দের হাতে ঘাটাইলের বিএনপির শিরোনামে একটি খবর ছাপা হয়েছে ।খবরটিতে বলা হয়েছে দুঃসময়ে যারা জীবনের ঝুকি নিয়ে দলের কর্মসূচি বাস্তাবায়ন করেছেন তাদের অবজ্ঞা করে ওই সময়ে যারা নিস্ক্রয় ছিলেন এবং দল এড়িয়ে চলেছেন তাদের হাতে নতুন নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে ।

ঘাটাইল পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল হক মঞ্জুর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে এটা ঘাটাইলের বিএনপির জন্য শুভকর নয়। খবরটিতে আরও বলা হয় ,কয়েকজন টাউট ঘাটাইলের বিএনপিকে ধ্বংস করতে আওয়ামীলীগের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। খবরটিতে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানুর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে,যে তিনি ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাদের পূনাঙ্গ কমিটিতে স্থান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ।

জাতীয় দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এ গত ৩০শে মে ‘আওয়ামীলীগের এজেন্ট দিয়ে আহবায়ক কমিটি,কোন্দলে পুড়ছে ঘাটাইলের বিএনপি’,শিরোনামে প্রথম পাতায় একটি খবর ছাপা হয়েছে। খবরটিতে বলা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদকে টাঙ্গাইল -৩ ঘাটাইল আসন থেকে সরাতে একটি মহল স্থানীয় নেতাকর্মীদের দ্বদ্ধে জড়িয়ে বিভক্তির চেষ্ঠা করছে । অভিযোগ রয়েছে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সিরাজুল হক সানা দীর্ঘদিন যাবত আওয়ামীলীগরে এজেন্ট হয়ে কাজ করছেন।

প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিক নয়াদিগন্তে ‘ঘাটাইলের বিএনপিতে বিভক্তি, হতাশ ত্যাগী নেতারা’ শিরোনামে এক খবরে বলা হয়েছে এক সময় শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঘাটাইলের বিএনপি এখন কোনঠাসা।গত ২২ জুুন ৮র্ম পাতায় ছাপানো খবরটিতে বলা হয়েছে হামলা-মামলা ও নানামুখী দমন পীড়ন সহ্য করেও দলের দুঃসময়ে যারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অবশেষে তারাই উপেক্ষিত হয়েছেন বর্তমান কমিটিতে।

লুুৎফর রহমান খান আজাদের সাথে সমন্বয় ছাড়া ঘাটাইলের বিএনপির সংকট সমাধান হবে না বলে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে অনলাইন দৈনিক আজকের রির্পোট ডট কম এ । আরেকটি দৈনিক সংবাদসংযোগ তাদের প্রথম পাতার প্রথম খবরটি প্রকাশ করেছে ঘাটাইলের বিএনপির সংকট নিয়ে ।

তবে এ সংবাদের বিষয় বস্তুু কিছুটা পুরোনো । ত্যাগীদের বাদ দিয়ে ঘাটাইলের উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি ঘোষনার খবরে বিক্ষোভ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।আওয়ামী এজেন্ট ও নিস্ক্রয়দের দিয়ে কমিটি গঠনের খবর এসেছে এ সংবাদ মাধ্যমে ।বর্তমান কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় দৈনিক এশিয়াবাণীর একটি খবরে।খবরটিতে লুৎফর রহমান খান আজাদের সাথে সমন্বয় ছাড়া ঘাটাইলের বিএনপির সংকট সমাধান হবেনা উল্লেখ করা হয়েছে । খবরটিতে বলা হয়েছে একটি সিন্ডিকেটের হস্তক্ষেপে লুৎফর রহমান খান আজাদকে কোনঠাসা করতে এ কমিটি দেওয়া হয়েছে।অবিলম্বে ঘোষিত কমিটির কার্যক্রম বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে এ খবরটিতে ।

দৈনিক মুক্তখবরে প্রকাশিত খবরে ঘোষিত উপজেলা কমিটির আহবায়ক সিরাজুল হক সানাকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।সর্বশেষ ৩০ জুন অনলাইন টেলিভিশন ‘দৃষ্টি ডট টিভিতে’ একটি খবরে লুৎফর রহমান খান আজাদের একটি মতবিনিময় সভা ও দোয়া মাহফিলের খবর প্রচার করা হয়েছে।

ঘাটাইলের বিএনপি নিয়ে কয়েকজন ত্যাগী নেতার সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের।যারা ঘাটাইল বিএনপির বর্র্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন-ঘাটাইল পৌর বিএনপির সভাপতি মঞ্জুরুল হক মঞ্জু বলেন, প্রত্যাশা করি উপজেলা ও পৌর বিএনপির কার্যক্রম স্থগিত করে, লুৎফর রহমান খান আজাদের সাথে সমন্বয় করে যোগ্য ত্যাগীদের নেতৃত্ব নিবার্চিত হবে ।যে নেতৃত্ব সবাইকে সাথে নিয়ে দেশনেত্রী তথা গণতন্ত্রের দ্রুত মুক্তি,তারুন্যের অহংকার তারেক রহমানের ধীরোচিত স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ত্বরানি¦ত করনসহ দলের যে কোন কর্মসূচিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধক্ষ্য মাইনুল ইসলাম মনে করেন,উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে সকলের সমন্বয়ে কমিটি গঠন তৃণমূলের প্রানের দাবি।এর দাবি মেনে রাজপথে ত্যাগী ও সাহসীদের দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটি পূর্ণগঠন করতে হবে।

পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা বলেন, তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের নাম ভাঙ্গিয়ে একটি মহল রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায় ।আমাদের সচেতন থাকতে হবে যেন তারা তারেক রহমানকে বির্তকে ফেলতে না পারে ।আমি দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে সক্ষমতার প্রমান দিয়েছি। ঘাটাইলের বিএনপি বহিরাগত নেতার প্রভাব মুক্ত হোক। লুৎফর রহামান খান আজাদের হাত ধরে যোগ্য নেতৃত্বে ওঠে আসুক ।