Amar Praner Bangladesh

সম্পাদক কে অবাঞ্চিত ঘোষণা বিজয় দিবসে আওয়ামী লীগের দুগ্রুপে মারামারি লোহাগড়ায় প্রতিবাদ সমাবেশ-বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্টিত

রাজিয়া সুলতানাঃ
লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়ায় মহান বিজয় দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে মারপিট, হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় দলের সাধারণ সম্পাদক ও লোহাগড়া উপজেলা চেয়ারম্যানকে দায়ি করে গতকাল সোমবার(১৮ ডিসেম্বর) শহরে প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সভাপতির গ্রুপ। লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের ব্যানারে বেলা সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা সহ দল থেকে বহিঃস্কারের ঘোষণা দিয়ে জেলা কমিটিকে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকালে লক্ষীপাশাস্থ মোল্যার মাঠে কেন্দ্রীয় শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দুগ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়। এসময় শহীদ বেদীর ওপর উঠে শ্রদ্ধাঞ্জলির মালা ভেঙ্গে ফেলা হয়। এ ঘটনার জন্য দলটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পরস্পর পরস্পরকে দায়ি করে আসছেন।

সোমবার বেলা ১১টায় জয়পুর মোড় থেকে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী দলের সাধারণ সম্পাদক ও লোহাগড়া উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটুর নামে নানা কুরুচিপূর্ণ শ্লোগান দিয়ে মিছিল বের করে। মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নড়াইল জেলা সভাপতি ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডঃ শেখ হাফিজুর রহমান সমাবেশে প্রধান অতিথি এবং নড়াইল জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি এ্যাডঃ সৈয়দ আইয়ুব আলী বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন। এসময় অন্যান্যের মধ্য বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুরুল করিম মুন, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা সিকদার আজাদ রহমান, জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ সাজ্জাদ হোসেন মুন্না, আওয়ামীলীগ নেতা ফয়জুল হক রোম, কাশিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ মতিয়ার রহমান, লক্ষীপাশা ইউপি চেয়ারম্যান কাজী বণি আমিন, মুন্সী আলাউিদ্দিন, মাসুদ পারভেজ, দিঘলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান পলাশ, নলদী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ পাখি, শালনগর ইউপি চেয়ারম্যান খান তসরুল ইসলাম, লোহাগড়া ইউপি চেয়ারম্যান সিকদার নজরুল ইসলাম, ইতনা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ সিহানুক রহমান, যুবলীগ নেতা এস,এম মিজানুর রহমান মিজান, ছাত্রলীগ নেতা রাসেদ হাসান প্রমুখ।

সমাবেশ থেকে দলটির সভাপতিসহ জেলা নেতৃবৃন্দ দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি,অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার, দলে গ্রুপিং সৃষ্টি সহ নানা অভিযোগ এনে দল থেকে বহিঃস্কার ও অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন।

লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু এ বিষয়ে বলেন, পরিকল্পিতভাবে দলের সভাপতি তার সমর্থকদের দিয়ে শহীদ বেদীতে বিশৃংখল পরিবেশ সৃষ্টি করে আমার ঘাড়ে চাপাচ্ছেন। আমি তৎকালীন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের উপস্থিতিতে কাউন্সিলারদের ভোটে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের দল এটি। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে এলাকার উন্নয়নে কাজ করছি। তাই সভাপতি ও তার সমর্থকরা আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করছে। দলীয় নেতাকর্মী ও জনগণ আমার সাথে আছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামীলীগে গ্রুপিং প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের সভাপতি শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু। অপর পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু।

লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, মিছিল-সমাবেশকে ঘিরে সোমবার শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।