Amar Praner Bangladesh

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কোথায় ?

ডা ঃ আওরঙ্গজেব কামাল :

সাংবাদিকতা মহান পেশা। সকলে বলে সমাজের দরপর্ণ ও জাতির বিবেগ। কিন্ত সেই সাংবাদিক যদি হয় নাজেহাল ,খুন মামলা ও হামলার শিকার তাহলে সমাজকে কি দিবে সাংবাদিকরা এ প্রশ্ন সকল সাংবাদিকের। বর্তমানে সমাজের তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রের দায়িত্বরত সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, স্বজন প্রীতি, দলবাজি, সন্ত্রাস, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কমিশনবাজি, জালিয়াতি, প্রতারণা, ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাট, আত্মসাৎ, শোষণ-বঞ্চনা হামলা-মামলা, নির্যাতন, গণনির্যাতন, হত্যা, অপহরণ, খুন-গুম, অন্যায়, অবিচার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড লাগামহীন ভাবে চলছে। আর এর বিরুদ্ধে লিখতে গেলে হতে হয় সাংবাদিকে খুন,গুম,মিথ্যামামলায় হয়রানির শিকারসহ নানা বিধ সমস্যার শিকার। এ থেকে রক্ষ পায়না সাংবাদিকের পরিবার ও ‘সাংবাদিকরা দেশ ও জাতির বিবেক’ হিসেবে সারা বিশ্বে স্বীকৃত। যে জাতি তার বিবেককে খুন করে বা হত্যা করে নির্যাতন করে। সে জাতি উন্নত বিশ্বের সভ্য সমাজ মাথা উঁচু করে বুক ফুলিয়ে বড় গলায় কীভাবে কথা বলতে পারে? এটা কি দায়িত্বশীলরা একবারও ভেবে দেখেছেন? গত আট বছরে বর্তমান আওয়ামী সরকারের আমলে দেশে ২১ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে খুন হওয়া ১৮টি চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনার আজ পর্যন্ত কোনো সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। আর সুষ্ঠু বিচার কবে হবে, তা কেবল ভবিষ্যৎই বলতে পারে। বর্তমান আওয়ামী সরকারের দ্বিতীয় দফায় একটানা দুই বছরে ৫৭০টি সন্ত্রাসী ঘটনায় ১৮৫ জন সাংবাদিক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন এবং ৪২ জন সাংবাদিক চরমভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র ও অধিকার এবং অন্যান্য প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
রাষ্ট্রের আইন-শৃংখলা প্রশাসন সাংবাদিক হত্যাকা-ের এসব চাঞ্চল্যকর ঘটনার স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতার করে আজো আদালতে পাঠাতে পারেনি কেন? তাদের এই ব্যর্থতা কী জাতি মেনে নিতে পারে?
ইউনেস্কো (জাতিসংঘের বিজ্ঞান, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংস্থা) থেকে প্রকাশিত ‘প্রতিরোধ ও শান্তি’ বিশ্বের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী রক্তক্ষয়ী অপতৎপরতার মোকাবিলা ও সমাধানের সন্ধান শীর্ষক প্রতিবেদনে সাংবাদিক খুনের সংখ্যার বিবেচনায় বিশ্বের ২০টি প্রধান দেশের মধ্যে আমাদের বাংলাদেশকে ১২তম স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে। ঐ প্রতিবেদনে ১৯৯২ সাল থেকে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংবাদপত্র ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ও খুনের শিকার হওয়া বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২০টি দেশের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়। সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অপহরণ, খুন, গুম ও হত্যার তালিকার শীর্ষে মধ্যপ্রাচ্যের ইরাকের নাম যুক্ত করা হয়। পশ্চিমা সন্ত্রাসবাদী অপশক্তি সামরিক আগ্রাসনে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকে গত দুই যুগে ১৬৭ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। আরো ১০৪ জনকে খুন করা হয়েছে। এর পরেই রয়েছে সিরিয়া, রাশিয়া, সোমালিয়া, আলজেরিয়া, কলম্বিয়া, ফিলিপাইন, ভারত ও পাকিস্তানের নাম। একই সময়ে ভারতে ৩৫ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছে। আর খুন করা হয়েছে ২২ জন সাংবাদিককে। আজ পর্যন্ত এসব হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হয়নি। উল্লেখিত প্রতিবেদনে গত দুই যুগে বাংলাদেশে ১৮ জন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হত্যা হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন ১৭ জন সাংবাদিক। ১৪টি খুনের ঘটনার এখন পর্যন্ত কোনো বিচার হয়নি। বিভিন্ন সময়ে দেশের প্রথম সারির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বিদেশে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সাথে করে নিয়ে যান রাষ্ট্রীয় এবং নিজেদের গণতান্ত্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম সারা বিশ্বে এবং নিজ দেশের জনগণের নজরে আনার জন্য। সাংবাদিকরাও দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এ কাজটি অতি উৎসাহে করে যান। দেশপ্রেমিক ও জনদরদী দায়িত্বশীলরা এ কথাটি মাথায় রেখে সাংবাদিকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সাংবাদিক হত্যাকারী সুবিচার ও সাংবাদিকদের অহেতুক নাজেহাল হাত থেকে রক্ষ করে দেশ ও জাতির বিবেকে আরও গতিশীল করা প্রয়োজন। অবশ্যই এটা সরকারের দায়ীত্ব। আমি বলবো সাংবাদিকরা কোন দলের নয়। সাংবাদিকরা রাষ্ট্র ও সমাজের ।