Amar Praner Bangladesh

“সাউথ আফ্রিকায় গত দুই সাপ্তাহের মধ্যে ৮ বাংলাদেশীর প্রবাসীর মৃত্যু”

সাদিয়া সাদি রাজৈর মাদারীপুর প্রতিনিধি:

সাউথ আফ্রিকায় বিভিন্ন ঘটনা দূর্ঘটনায় গত দুই সাপ্তাহে অন্তত ৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।এর মধ্যে অপহরনের পর হত্যা,সড়ক দূর্ঘটনা,ডাকাতের গুলিতে মৃত্যু,ব্রেইন ষ্টোক করে মৃত্যু ও সন্রাসী কর্তৃক জবাই করে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে।অপহরনের পর হত্যা,সড়ক দূর্ঘটনা সহ  গতকাল কেপটাউনে ঘোড়া লাফ দিয়ে চলন্ত গাড়িতে উঠে গেলে মৃত্যু এক বাংলাদেশী প্রবাসীর। এই নিয়ে গত দুই সাপ্তাহে অন্তত ৮ জন বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে।

চলতি মাসের  ৮ তারিখ কেপটাউনে আব্দুল হাই নামে এক বাংলাদেশীকে আরেক বাংলাদেশী অপহরণ করে হত্যা করে লাশ পাহাড়ের ঢালে ফেলে দেয়।একই দিন একই এলাকায় আহমদ খলিল নামে আরেক বাংলাদেশীর ব্রেইন ষ্টোকে মৃত্যু হয়।এর দুই দিন আগে ৬ সেপ্টেম্বর প্রিটোরিয়ায় অন্য এক বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ডাকাতের গুলিতে নিহত হয়।এছাড়া গত ২১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ইষ্টার্ণ ক্যাপের আইডোযায় সন্রাসীরা জবাই করে  হাত পায়ের রগ কেটে হত্যা ইউনুস নামের এক ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রী কন্যাকে।সর্বশেষ গত কাল কেপটাউনে ঘোড়া লাফ দিয়ে চলন্ত গাড়িতে উঠে গেলে  মৃত্যু হয় এক বাংলাদেশীর।

এই ভাবে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত কোন না কোন কারণে সাউথ আফ্রিকায় মৃত্যু হচ্ছে বাংলাদেশী নাগরিকের।

ভারত, পাকিস্তান চায়না সহ পৃথিবীর অনেক দেশের নাগরিক সাউথ আফ্রিকায় ব্যবসা বানিজ্য করে আসলেও শুধুমাএ বেশিরভাগ অপমৃত্যুর শিকার হয় বাংলাদেশী নাগরিক?প্রতিনিয়ত বাংলাদেশীরা যেন এই দেশে মৃত্যুর জন্য  প্রহর গুনে।আবার প্রতিনিয়ত এমন অপমৃত্যুর খবরে আতংকিত হয়ে পড়ে অন্যআন্য প্রবাসী ও তাদের স্বজনেরা।

এই পর্যন্ত যত মৃত্য হয়েছে তার অধিকাংশ মৃত্যুর কারণ এখনো পর্যন্ত অজানা,কেন একজন মানুষকে খুন করা হলো? এই পর্ষন্ত এর কোন কারণ জানা নেই কারো কাছে।শতকরা ১/২ % লোকের মৃত্যু  ডাকাতের গুলিতে হলেও অন্যআন্য মৃত্যু গুলো সম্পূর্ণ রহস্যজনক।

খবর নিয়ে জানাগেছে,এই পর্যন্ত কোন বাংলাদেশী নাগরিকের মৃত্যুর পর কেউ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেনি।শুধু মাএ লাশের পোষ্ট মর্টেমের পর লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি ওডি মামলা হয়েছে,যা সাক্ষী প্রমানের অভাবে আলোর মুখ দেখেনি।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী,বাংলাদেশী নাগরিকের দোকানে চুরি,ডাকাতি এমন কি হত্যাকান্ডের ন্যায় ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশীরা মামলা করতে সাহস পায়না,আবার কেউ মামলা করলেও এই মামলার নির্দিষ্ট দিনে হাজিরা দিতে কেউ আসেনা।তাই অপরাধীরা পার পেয়ে যায়।পুলিশের অভিমত,ঘটনা, দূর্ঘটনা যাই হউক,ধারারবাহিক ভাবে আইনের সহায়তা নিয়ে মামলা পরিচালনা করলে অবশ্যই অপরাধীর শাস্তি হবে। কারণ সাউথ আফ্রিকার আইন সকল নাগরিকের জন্য সমান।

এই দিকে খবর নিয়ে জানাগেছে, বাংলাদেশী নাগরিকের মৃত্যু তে মোটেও বিচলিত নয় বাংলাদেশ হাইকমিশন কর্তৃপক্ষ।কেন এত সব হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশীরা এই ব্যাপারে কোন মাথা ব্যাথা নেই হাই কমিশনের।হাই কমিশনার বা এদের কর্তা ব্যক্তিরা এই পর্যন্ত কোন মৃত ব্যক্তির লাশ দেখতে গিয়েছে এই রকম নজির ও পাওয়া যাবেনা।