সাতক্ষীরায় আম এবার ও বিদেশ যাবে : গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা

 

 

মীর আবু বকরঃ

আম মধুমাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি ফল। সাতক্ষীরায় প্রচুর পরিমাণে আম উৎপাদন হয়ে আসছে । তবে আমের ফলন নির্ভর করে গাছ পরিচর্যার ও আবহাওয়ার উপরের। বিগত বছরগুলোতে জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে আম উৎপাদন হয়েছে।

কিন্তু গতবছরের মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সাতক্ষীরার আম আর বিদেশের বাজারে প্রবেশ করতে পারেনি। আবার বিদেশের বাজার দখল করবে সাতক্ষীরার আম। আগে থেকেই আম গাছ পরিচর্যা শুরু করতে হবে।সাতক্ষীরা সুস্বাধু আমের মধ্যে ন্যাংড়া, হিমসাগর, গোবিন্দভোগ, গোলাপ খাস,মল্লিকা আমরুপালী,চাপাই, গোপালি, লতার, পাশাপাশি রয়েছে বাহারি সাধের নানা প্রজাতির আম । এ সকল আম বিক্রয়ের মাধ্যমে কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে ।তাই আগেভাগেই কৃষকরা আমবাগানে সময় দিচ্ছেন তাঁরা আশা করছেন এবারও ভালো ফলন হবে।

জেলায় আর্থসামাজিক উন্নয়নে আম শিল্পের বিকাশ পুরোপুরি ঘটিয়ে আমাদের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে দেশের তথা জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।সাতক্ষীরার আমের সুনাম ইউরোপ আমেরিকা থাইল্যান্ড হংকক ফিলিপাইন ও ভারত সহ বিশ্বের বহু দেশে।আম উৎপদনে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ সপ্তম। এবং আগাম জাতের আম উৎপাদনে সাতক্ষীরা প্রথম। গতবছরে সাতক্ষীরায় আগাম জাতের আমের ফলন কম হওয়ায় এবছর আগের ভাগে আম গাছ পরিচর্যায় মাঠে নেমেছে আম চাষিরা। বুধবার শহরে বাগানবাড়ি এলাকায় আম গাছে ওষুধ ছিটাতে দেখা গেছে চাষীদের।

তারা জানান, আমে মুকুল আসার সময় আগত। এসময় মুকুলে অনেক ধরণের পোকা মাকড় বসে মুকুল নষ্ট করে দেয়। তাই ওষুধ ছিটালে আম গাছে মুকুল ধরে বেশি। জানা গেছে, জেলায় আমচাষীর সংখ্যা ১৩ হাজার ১০০ জন। জেলায় চলতি মৌসুমে পাঁচ হাজার ২৯৯টি বাগানে চার হাজারের কিছু ৩শ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হবে। জেলায় গত মৌসুমে প্রায় ৩৫ হাজার মেট্রিকটন আম উৎপাদিত হয়ে ছিল। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরউপ পরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, জেলার আমের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে।

এ সুনাম ধরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে জেলা কৃষি বিভাগ। তারা চাষীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে পুষ্টির অভাব মেটানো, কর্মসংস্থান তথা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাজারজাতকরণ এবং গুদামজাত করে দীর্ঘমেয়াদি বিপণন প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে হবে। একই সাথে চাষিদের সহযোগীতায় সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ শিল্পোউদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে আম শিল্পের বিকাশ ঘটবে দাবী সংশ্লিষ্টদের।