সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৪:৪৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
তিন দিনের সফরে ঢাকায় বেলজিয়ামের রানি ভূমিকম্প: তুরস্কে ও সিরিয়ায় নিহত ৫ শতাধিক উত্তরা বিজিবি মার্কেট এখন আর ডালভাত কর্মসূচিতে নেই মন্দিরে মূর্তির পায়ে এ্যাড. রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী’র সেজদা প্রতিবাদে নির্যাতন ও মামলার শিকার মোঃ জলিল রৌমারীতে অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির অফিস উদ্বোধন যুবলীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় কল্যাণপুরে আবাসিক হোটেলে রমরমা দেহব্যবসা তিতাসের অসাধু কর্মকর্তাদের আতাতে লাইন কাটার নামে প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের সাথে ব্ল্যাকমেইলিং করছে প্রতারক চক্র রাজধানীর উত্তরখান থেকে ড্যান্ডি পার্টির ১৬ সদস্য গ্রেপ্তার দেশে গুপ্ত লিখন বিদ্যাকে ব্যবহার করে জঙ্গী ও মাদক কার্যক্রম প্রসারিত হচ্ছে দক্ষিণখানে নির্মাণাধীন ৯ তলা ভবন থেকে পড়ে রাজমিস্ত্রি নিহত : আহত-১

সাতক্ষীরা জেলায় ৩ হাজার ৮৮০টি নলকূপ অকেজো সুপেয় পানির তীব্র সংকট, নেমে গেছে পানির লেয়ার

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৮
  • ৯৮ Time View

মোঃ আশিকুর রহমান, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ঃ সাতক্ষীরা জেলায় সুপেয় পানির উৎস নষ্ট হচ্ছে। পুকুর ও নদীতে বাড়ছে লবণাক্ততা। মাটির গভীরে বাড়ছে আর্সেনিক। চলতি মৌসুমে জেলায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পানির লেয়ার নিচে নেমে যাওয়াতে বেশিরভাগ নলকূপে পানি উঠছে না। পুকুরগুলো শুকিয়ে গেছে। কিছু এলাকার নলকূপগুলোতে সীমিত পরিমানে পানি উঠছে। তবে বেশিরভাগ নলকুপে আর্সেনিক থাকায় পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে গোটাজেলাতে বিশুদ্ধ পানি পেতে হিমশিম খাচ্ছে ২২ লক্ষ মানুষ। উপকূলীয় জেলা প্রায় ২২ লাখ মানুষের বসতি। জলবায়ু ট্রাস্টের অর্থায়নে বিভিন্ন এনজিও সংস্থার মাধ্যমে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হলেও তার যথাযথ সুফল পায়নি স্থানীয়রা।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্ত সাতক্ষীরা সূত্রে জানা যায়, সরকারি হিসাব মতে জেলাতে মোট ৩৩ হাজার ৩৪১টি হস্তচালিত নলকূপ রয়েছে। যার মধ্যে অকেজো রয়েছে ৩ হাজার ৮৮০টি এবং সচল রয়েছে ২৯ হাজার ৪৬১টি। তবে বাস্তবতা হলো অকেজোর সংখ্যা আরো বেশি। জেলায় অগভীর নলকূপ চালু রয়েছে ১২ হাজার ৯৪টি এবং অকেজো রয়েছে ২ হাজার ৫৬৫টি। গভীর নলকূপ চালু রয়েছে ৯ হাজার ২১টি এবং অকেজো রয়েছে ২৭৬টি।
এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় চালু রয়েছে ৫৩০৭টি এবং অকেজো রয়েছে ৪৭৩টি। কলারোয়ায় চালু রয়েছে ৪৮৬৯টি এবং অকেজো রয়েছে ৪২১টি। তালায় চালু রয়েছে ৪৯২০টি এবং অকেজো রয়েছে ১৮৪টি। আশাশুনিতে চালু রয়েছে ৪৫৫৪টি এবং অকেজো রয়েছে ৩০৭টি। দেবহাটায় চালু রয়েছে ২৮২৫টি এবং অকেজো রয়েছে ১১২টি। কালিগঞ্জে চালু রয়েছে ২৮৯২টি এবং অকেজো রয়েছে ৪৭৩টি। শ্যামনগরে চালু রয়েছে ৩৮৮২টি এবং অকেজো রয়েছে ৪১৩টি। তবে যে সব নলকূপ রয়েছে তার বেশির ভাগই আর্সেনিক যুক্ত। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সাতক্ষীরায় বিপুল পরিমানে নলকূপ ও তার সরাঞ্জম পড়ে আছে। অনুমোদন পেলে সেগুলো জেলার বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানায়। ২০০৩ সালে একবার টিউবওয়েলে আর্সেনিক পরীক্ষা করা হয়েছিল। ওই সময় পরীক্ষা শেষে টিউবওয়েলের মুখে লাল-সবুজ রঙ লাগিয়ে সতর্ক করা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। সে সময় লাল রঙ (বিপদ সঙ্কেত) চিহ্নিত নলকূপের মালিকেরা প্রতিকারের আশায় পানি পান করা থেকে বিরত থাকে। একপর্যায়ে বছরের পর বছর সুফলবঞ্চিত মানুষেরা বাধ্য হয়েই ওই সব নলকূপের পানি আবার পান বা ব্যবহার শুরু করে। তালা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালের জরিপ অনুযায়ী উপজেলা ১২টি ইউনিয়নে নলকূপে আর্সেনিক ধরা পড়ে। দূষণের হার, ধানদিয়া ইউনিয়নে ৫১ শতাংশ, নগরঘাটা ৬৮ শতাংশ, সরুলিয়া ৮৪ শতাংশ, কুমিরা ১০০ শতাংশ, তেঁতুলিয়া ৬৬ শতাংশ, তালায় ৫৯ শতাংশ, ইসলামকাটি ৭৪ শতাংশ, মাগুরায় ৭০ শতাংশ, খলিষখালি ৮৭ শতাংশ, খেশরা ৭২ শতাংশ, জালালপুর ৫৯ শতাংশ ও খলিলনগর ইউনিয়নে ৪২ শতাংশ। গড় ৬৮ শতাংশ আর্সেনিকসহ এ এলাকায় ফসলি জমি ভূগর্ভস্থ পানিতেও আর্সেনিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া বর্তমান জেলায় আর্সেনিক রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজারের মত। জেলায় শতকরা কতভাগ মানুষ সুপেয় পানি পান করছেন তার কোনো সঠিক তথ্য নেই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে। কাগজপত্রে ৮০ শতাংশ মানুষ সুপেয় পানি পাচ্ছে-এমনটা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। চলতি বছরে জেলায় ২৪৩টি সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাস্তবায়ন নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। পানির বিভিন্ন উৎস বাবদ জেলাতে নলকূপ, পুকুরসহ বিভিন্ন উৎস প্রকল্প তদারকি করেছে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী। বাস্তবায়নকৃত প্রকল্পের ৫০ ভাগ স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাকি ৫০ শতাংশ স্থানীয় উপজেলা পরিষদ বাস্তবায়ন করেছে। খাতা কলমে যার বেশির ভাগ কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। কাজের কাজ তেমন কিছুই হয়নি বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, সাতক্ষীরাতে সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। মিষ্টি পানির বিভিন্ন উৎস নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে সুপেয় পানির উৎস তৈরি করতে নানা মুখি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অকেজো নলকুপ সমূহ কার্যকর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নতুন নতুন মিষ্টি পানির উৎস তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে উপকুলীয় জেলা হওয়াতে দিন দিন লবণাক্ততা আর্সেনিক বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংকট সমাধান কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ছে।
এবিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন জানান, সাতক্ষীরায় সুপেয় পানির উৎস তৈরি করতে সরকার কাজ করছে। জার্মান ভিত্তিক একটি সংস্থা, সাতক্ষীরা পৌরসভায় ১৮০ কোটি টাকার একটি বাজেট দিয়েছে। প্রকল্পনুযায়ী চলতি বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে কাজ শুরু হবে। শ্যামনগরে মিষ্টি পানির উৎস তৈরি সহ পরিবেশ বিপর্যয় রোধে জেলাতে ৪শ’ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার। শ্যামনগরে সুপেয় পানি, পানি ধরে রাখা এবং জনসাধরণের কাছে সেই সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে কাজ শুরু হতে পারে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সাতক্ষীরাতে সুপেয় পানির উৎস তৈরিসহ পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করা অনেকটা সম্ভব হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category