Amar Praner Bangladesh

স্কুল মাঠ দখল করেছে ঠিকাদার সংশ্লিষ্টদের চোখে কাঠের চশমা

 

(দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশের প্রতিবেদক সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার (ইনভেষ্টিগেটিভ ক্রাইম বিভাগের প্রধান) রবিউল আলম রাজু সরেজমিনে স্থান পরিদর্শন করেন এবং তাৎক্ষণিক একটি ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে বিষয়টিকে জাতির সামনে তুলে ধরেন।)

 

রবিউল আলম রাজু :

 

জোর যার মুল্লুক তার। বেশির ভাগ ঠিকাদারেরা বড় অংকের ঘুষের বিনিময়ে কাজ ভাগিয়ে নেওয়ার কারণে শত রকম অনিয়ম করলেও সংশ্লিষ্টরা তা দেখেও না দেখার বান করে থাকে। কারণ ঠিকাদারদের নিকট হতে অবৈধ টাকা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চোখে কাঠের চশমা পড়ে থাকে। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের খেলার মাঠ এখন ঠিকাদারদের দখলে চলে গেছে। সবার চোখের সামনে এত বড় অপরাধ তার পরেও সবাই নিশ্চুপ। এবার লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধূলাও বন্ধ।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের টাপুরচর বিজি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে রাস্তার নির্মাণ সামগ্রী রাখার অভিযোগ উঠেছে ‘হামিদ ট্রেডার্স’ নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। কয়েক মাস ধরে এ স্কুলটির মাঠ দখল করে নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়। এতে মালামাল বহনকারী ট্রাক্টরের ধাক্কায় নষ্ট হচ্ছে বিদ্যালয় ভবনের দেয়াল, সিঁড়ি ও বাউন্ডারি ওয়াল।

যে কোনো মুহূর্তে বিদ্যালয় খুললে পাঠদানে ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা এলাকাবাসীর। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের টাপুরচর বিজি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে ছাটকড়াইবাড়ী ভায়া রৌমারী সরকারি কলেজ পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের পাথর, বালি ও খোয়াসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে।

এতে বিদ্যালয়ের পুরো মাঠটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ইয়াছিন আলী, মোন্তাজ আলী, মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, অবৈধভাবে বিদ্যালয় মাঠে রাস্তা সংস্কারের জন্য পিচ ও পাথর পোড়ানো হলে নবনির্মিত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তারা আরও বলেন, ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিদ্যালয় মাঠে মালামাল রাখার অনুমতি দিয়েছেন ওই প্রধান শিক্ষক। টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে টাপুরচর বিজি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গনি বলেন, ‘ঠিকাদার আমাকে না জানিয়ে বিদ্যালয় মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখেন। এতে পাথর বোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় বিদ্যালয় একটি ভবনের দেয়াল ফাটল ধরে এবং বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে যায়। বিষয়টি আমি ইউএনওকে জানিয়েছি।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হামিদ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হামিদ বলেন, ‘বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ও জায়গা না পাওয়ার কারণে রাস্তা সংস্কার কাজের নির্মাণ সামগ্রী ওই বিদ্যালয় মাঠে রাখা হয়েছে। কার্পেটিংয়ের কাজ পর্যন্ত নির্মাণ সামগ্রীগুলো রাখা হবে। রৌমারী উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিইও) শামছুল আলম বলেন, ‘কোনো ক্রমেই ঠিকাদারের নির্মাণ সামগ্রী বিদ্যালয় মাঠে রাখার নিয়ম নেই। এর জন্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে এ দায়ভার বহন করতে হবে। দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশের প্রতিবেদক সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার ইনভেষ্টিগেটিভ ক্রাইম বিভাগের প্রধান রবিউল আলম রাজু সরেজমিনে স্থান পরিদর্শন করেন এবং তাৎক্ষণিক একটি ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে বিষয়টিকে জাতির সামনে তুলে ধরেন।