Amar Praner Bangladesh

স্বস্তি ফিরছে গমের বাজারে

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

স্বস্তি ফিরছে গমের বাজারে। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণে কমেছে প্রায় ৩শ’ টাকা। ইউক্রেন থেকে রপ্তানি শুরু হলে দাম আরো কমার আশা করছেন আমদানিকারকরা। ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের বাজারে প্রতি মণ গমের দাম ছিল সাড়ে ৯শ’ টাকা। পরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে হু-হু করে বাড়তে থাকে দাম। মে মাসে প্রতি মণ গমের দাম বেড়ে উন্নীত হয় ১৭শ’ টাকায়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে কমছে গমের দাম। গেল তিন মাসে দরপতন হয়েছে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ। ইতিবাচক প্রভাব দেশীয় বাজারেও। পাইকারি পর্যায়ে ভারতীয় প্রতি মণ গমের দাম এখন ১৩শ’ ৫০ টাকা।

আমদানিকারকরা বলছেন, ইউক্রেনের গম বৈশ্বিক বাজারে আসা শুরু হলে দেশের বাজারে আরো কমবে দাম। একজন আমদানিকারক বলেন, “ইউক্রেনের গমটা আসলে সরকার যদি খোলা বাজারে কোনো ব্যবস্থা করে দেয় যে আমি দিয়ে দিলাম ১২ টাকা কেজি গম, ১০ টাকা কেজি গম তাইলে গমের দাম কমবে।”

এদিকে, খুচরাবাজারেও গম ও আটার দাম কমতে শুরু করেছে। আমদানিকারকরা সরবরাহ বাড়ালে দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে বলছেন খুচরা ব্যবসাীয়রা। একজন ব্যবসায়ী বলেন, “বাংলাদেশে ডেইলি দুইবার দাম বাড়ে, আর দাম কমবে বলছে কিন্তু দাম কমবে কিন্তু দেখেন ১৫ দিনেও কমে কিনা।” আরেকজন বলেন, ” বাংলাদেশের আমদানীকারকরা দাম বাড়ানোর সময় রাতারাতি বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু কমানোর সময় লেট করে।”

রাশিয়া-ইউক্রেন শস্যচুক্তি বৈশ্বিক বাজারে গম সরবরাহের বড় সুযোগ তৈরি করেছে। বাংলাদেশকে এই সুযোগ কাজে লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, বলেন, “ইউক্রেন ও রাশিয়ার সাথে যেসব চুক্তি আছে এবং যেগুলো আমরা করতে চাইছি সেদিক থেকে সুবিধা হবে। এখন অন্যান্য অনেক দেশ এই সুবিধা নিতে চাইবে, যাদের ফিউচার কনট্রাক্ট করা আছে। সুতরাং এখান থেকে একটা শিক্ষনীয় আমাদের যে, আমাদের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির দিকে যেতে হবে, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ এবং ফিউচারস মার্কেট সম্পর্কে ভালো আইডিয়া রাখতে হবে।”

সুযোগ থাকলে গম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সাথে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিরও পরামর্শ তাদের।