Amar Praner Bangladesh

হাতিরঝিলের মালিকানা দাবি করে অভিনব জালিয়াতি, মামলা খারিজ

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

হাতিরঝিল রাজধানীর ফুসফুস খ্যাত এই বিনোদন কেন্দ্রকে নিজেদের দাবি করে বসেছেন কিছু ব্যক্তি। তবে দাবিকে ভুয়া প্রমাণিত করে তাদের মামলা খারিজ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ।

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে আলোচিত ইস্যু ছিল ভাওয়াল সন্ন্যাসীর মামলা। অবিভক্ত ভারতবর্ষের ভাওয়াল রাজবাড়ির কর্তৃত্ব নিয়ে এই মামলার মূল ঘটনা, বাদীর পরিচয় ঘিরে। এই মামলার এ গল্প নিয়ে দুই বাংলায় হয়েছে একাধিক নাটক-সিনেমা। রচিত হয়েছে গল্প-উপন্যাসও। তবে ২০২২ সালে এসে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে ফিরল ভাওয়াল রাজার গল্প।

ঘটনার শুরু ২০০১ সালে। রাজধানীর হাতিরঝিলকে ভাওয়াল রাজার কাছ থেকে বন্দোবস্ত করে নেয়ার দাবি করে ঢাকা জজ আদালতে মামলা করেন ১৫৯ ব্যক্তি। মালিকানা ও ক্ষতিপূরণে রায়ও নিজেদের পক্ষে পেয়ে যায় তারা। ২০১৬ সালে হাইকোর্ট সেই রায় বহাল রাখেন। মামলা জেতার আশা ছেড়ে দেয় ভাওয়াল এস্টেট। ২০২২ সালে এসে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ মামলার নথি ঘিরে প্রথম জালিয়াতি ধরতে পারে। হাতিরঝিলকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কথা বলে ১৯৪৮ সালের যে নথি আদালতে দেয়া হয়, তার সবই ছিল ভুয়া। এমন জালিয়াতি প্রমাণ মেলায় বুধবার (১০ আগস্ট) নিম্ন আদালতের সব রায় বাতিল করে দেন সর্বোচ্চ আদালত। এতবড় জালিয়াতি দেখে হতভম্ব হয়ে গেছেন দেশের সর্ব্বোচ্চ আদালত।

যদিও এ রায়ে অসন্তষ প্রকাশ করে রিভিউর কথা জানান হাতিরঝিলের দাবিদার বাবুল চৌধুরী ও তার আইনজীবী। হাতিরঝিলের দাবিদার বাবুল চৌধুরী জানান, আপ টু ডেট রেকর্ডে হাতিরঝিল আমাদের নামে রেকর্ডে আছে। সেটাই আমাদের দাবি।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকতা এ এম আমিন উদ্দিন জানান, এই মামলায় এত বড় জালিয়াতি হয়েছে তা আগে ধরা পড়েনি, কারণ সরকার এখানে বাদী। আর বিবাদী কেউ ছিল না। ভাওয়াল রাজার সব নথি আনার যে আবেদন করেছিলেন হাতিরঝিলের দাবিদাররা তা-ও খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।