Amar Praner Bangladesh

১ম স্ত্রী ও তিন সন্তানকে ঘর থেকে বের করে দ্বিতীয় বিয়ে করে বিএনপি নেতা বিল্লাল হোসেনের উল্লাস

 

আব্দুল আউয়াল সরকার, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি :

 

কুমিল্লা তিতাসের কদমতলী গ্রামের হবি মোল্লার ছেলে বিল্লাল হোসেন স্থানীয় বিএনপি নেতা। দুই দুই বার চেয়ারম্যান নির্বাচন করে হেরে যায় বলে জানা যায়। একই গ্রামের কুমিল্লা তিতাসের নাগেরচর গ্রামের শিউলী আক্তার শিল্পীর সাথে দুই লক্ষ টাকা দেন মোহরে বিয়ে হয় ২০০২ জানুয়ারীর ৪ তারিখে। দীর্ঘ ১৮ বছরের সংসার জীবনে তাদের তিনটি সন্তানের জন্ম হয়। বড় ছেলে সাব্বির আহমেদ ১৭ বছর বয়স। মেজো ছেলে রায়হান ১২ বছর এবং মেয়ে হুমায়রা জাহান রাইসার বয়স ১০ বছর।

দীর্ঘ সংসার জীবনে বিএনপি’র নেতা বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী শিউলী আক্তার শিল্পী দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশকে জানান, একটা মানুষ কতটা পাশবিক হতে পারে তা এই বিল্লালের সাথে সংসার জীবনে বুঝতে পেরেছি। এমন কোন দিন নেই সে আমার উপর অত্যাচার করতো না। কখনো মারধর করতো, কখনো গালিগালাজ করতো, বিয়ের সময় আমার বাবার নিকট থেকে বিল্লাল ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক নেয়। ছেলে মেয়েদের মুখের দিকে তাকিয়ে বিল্লালের সব নিরব অত্যাচার সহ্য করেছি মুখ বুঝে।

গত তিন বছর পূর্বে বিল্লাল কুমিল্লা দাউদকান্দি দক্ষিণ শতানুন্দি গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী দুই ছেলের মা লিপি আক্তারের সাথে পরকিয়ায় লিপ্ত হয়। তাদের এই অবৈধ সম্পর্কটি এতটাই গভীর হয় এবং লিপি আক্তার বিল্লালকে সম্পূর্ণ নিজের আয়ত্ত্বে করে তাকে বিবাহ করে রাজধানীর রামপুরায় বাসা ভাড়া নিয়ে নতুন সংসার তৈরি করে। লোক মুখে শুনেছি লিপি আক্তারের উপরের লেভেলে অনেক নামিদামী মানুষের সাথে জানাশোনা আছে। আমার সংসার জীবনে আমি অক্লান্ত পরিশ্রম করে বিল্লালকে সুপরামর্শ দিলে আজমপুর কাঁচা বাজারে সে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করে। ফ্ল্যাট ক্রয়ের সময় আমি তাকে আমার গহনা ও আত্মীয় স্বজনের নিকট থেকে এনে ১০ লক্ষ টাকার মতো দেই। আবার মৈনারটেক স্কুলের সামনে বিল্ডিংয়ের কাজ ধরলে ৪র্থ তলা ছাদ ঢালাইয়ের সময় আমি বিল্লালকে আবার ৫ লক্ষ টাকা সহযোগীতা করি।

এসব বিষয় নিয়ে আমি তার কাছে আমার পাওনা টাকা ফেরৎ চাইলে আমাকে মারধর করে। আমি রাজধানীর উত্তরখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করি। যাহার নং- ১৯৪, তাং- ০৫/১১/২০২০ ইং। তার এসব খারাপ ব্যবহারের পিছনে ছিল পরকিয়ায় সম্পৃক্ততা তারই পাপের ধারাবাহিকতায় একটি ঝড় হাওয়া এসে আমার সাজানো সংসারটি ভেঙ্গেচুড়ে সর্বনাশ করে দিয়ে গেছে। বিন্দু পরিমাণ আমার দোষ না থাকার পরেও শুধুমাত্র একটি পরকিয়ায় জড়িয়ে লিপি আক্তারকে বিয়ে করে আমাকে এবং আমার তিন ছেলেমেয়েকে বাসা থেকে বের করে দিয়ে আজমপুর কাঁচা বাজারের ফ্ল্যাট এবং মৈনারটেকের ৬ষ্ঠ তলা বাড়ী প্রায় ৩ কোটি টাকা বিক্রি করে লিপি আক্তারকে নিয়ে রামপুরায় বাসা নিয়ে থাকে বিল্লাল। সেই ঘরে আছে লিপি আক্তারের আগের সংসারের দুই ছেলে। এখন নতুন করে আবার বিল্লালের সংসারে আরো একটি সন্তান হয়েছে। বিল্লাল আমাকে কোন খোরপোষ দেয়না। তার ছেলেমেয়েদেরও কোন খোজ খবর রাখেনা।

বর্তমানে শিউলী আক্তার শিল্পী তার মেয়ে নিয়ে একটি রুম ভাড়া করে সেলাই মেশিনে কাপড় সেলাই করে কোন ভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে এবং মেয়েটিকে একটি স্কুলে লেখাপড়া করাচ্ছে শিল্পী। যে ছেলেমেয়েরা এক সময় সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মেছিল এই পৃথিবীতে। প্রতিদিন যাদের দিন কাটতো সুখ স্বাচ্ছন্দ্যে, তারাই এখন দু’বেলা পেট ভরে খেতে পারছেনা। চোখের নিচে পড়ে গেছে কালি। বিল্লালের পরকিয়া অতঃপর প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে সন্তানদের জীবনে নেমে এসেছে আমাবশ্যা।

এই বিষয় নিয়ে শিউলী আক্তার শিল্পীর স্বামী বিল্লালের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, এগুলো পুরনো বিষয়, অনেক আগে মিটমাট হয়ে গেছে। ৮০ হাজার টাকা দেনমোহর ছিল আমি দিয়ে দিয়েছি। আমার দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে মেয়েটিকে চুরি করে শিল্পী নিয়ে যায়, এখন কোথায় আছে আমি জানিনা। এ বিষয় নিয়ে থানায় জিডি করা আছে। উত্তরখান থানার এস আই সোলাইমান বিষয়টি জানেন। আমার এলাকার রাজনৈতিক নেতারা বিষয়টি নিয়ে বিচার করেছে। আমার কাছে সে টাকা পেলে থানায় অথবা কোর্টে মামলা করুক। আমি মোকাবেলা করবো।

পরকীয়ার ফাঁদে আটকা পড়ে আত্মহনন করছেন অগণিত নারী-পুরুষ; বলি হচ্ছেন নিরপরাধ সন্তান, স্বামী অথবা স্ত্রী। পরকীয়ার পথে বাধা হওয়ায় নিজ সন্তানদেরও নির্মমভাবে হত্যা করছে পিতা মাতা। পত্রিকার পাতা খুলতেই চোখে পড়ে এমন খবর। ইসলামে পরকীয়া ও অবৈধ সম্পর্ক থেকে নারী-পুরুষকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কোনো নারীর পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলা উচিত নয়।