Amar Praner Bangladesh

১৪ বছর স্কুল না করেও তিনি প্রধান শিক্ষক

 

 

দেওয়ান আবুল বাশার, মানিকগঞ্জ :

 

ঘিওর উপজেলার হিজুলিয়া গ্রামের ভি. আর. এন.এন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ নুরুল হুদা রনোর বিরুদ্ধে স্কুলে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর ও বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের ছোট ভাই সৈয়দ এনামুল হুদাকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি করে স্কুলটিকে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করেছে। তদুপরি ঐ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিভাগ কার্যকরি কোন ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে বহাল তবিয়তে রাখায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সোচ্চার এলাকাবাসী বিদ্যালয়ে উপস্থিত তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম-দূর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে তার অপসারন ও পরিচালনা কমিটি বাতিলের দাবী জানিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রতিষ্টাতা মমিনুর রশিদ মমিন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্টাতা মো: মমিনুর রশিদ জানান, ২০০৪ সালে ভি আর এন এন উচ্চ বিদ্যালয়ের (হিজুলিয়া. ভররা, রাহাতহাটি নেগিরকান্দি নয়াচর) প্রতিষ্টাতা প্রধান শিক্ষক সৈয়দ নুরুল হুদা রনো ২০০৮ সালের পর থেকে ২০২২ সালের মে মাস পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও প্রধান শিক্ষক পদে বহাল রয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা ও বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় বিদ্যালয়ের প্রতিষ্টাতা সভাপতি ও অন্যান্য দাতা সদস্যদের বাদ দিয়ে আপন ছোট ভাই সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সমন্বয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন করে প্রধান শিক্ষক তার অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় বড়টিয়া ইঊনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো, সামসুল হক মোল্লা রওশন জানান, প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি-অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে পার্শ্ববর্তী ৪টি গ্রামের অভিভাবক ও সাধারন জনগন সোচ্চার হয়ে উঠেছে। তার এই স্বৈরাচারি মানুষিকতা দূর করে বর্তমান কমিটি ভেঙ্গে সকলের সমন্বয়ে নতুন কমিটি করা হলেই কেবল বিদ্যালয়ের শৃংখলা ফিরে আসবে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ এনামুল হুদা বলেন, এককালীন অনুদান দিয়ে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য পূর্বক সভাপতি হয়েছি। প্রধান শিক্ষক আমার বড় ভাই হলেও এখানে দোষের কিছু নাই।

প্রধান শিক্ষক সৈয়দ নুরুল হুদা রনো তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি দুই বছর ছুটিতে ছিলাম ও দুই বছর করোনা কালীন অনিয়মিত ছিলাম। যা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিস অবগত আছে। টানা ১৪ বছর অনুপস্থিত থেকেও স্বপদে বহাল ও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দেওয়া কিভাবে সম্ভব এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি ডক্টরেটধারী এই প্রধান শিক্ষক।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো, ইমদাদুর রহমান তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে আমাকে তদন্তভার দেওয়া হয়। ২৬ জুলাই ২০২২ সকলের উপস্থিতিতে তদন্তকাজ সমাপ্ত করি। নিয়ম মাফিক যথা সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।