Amar Praner Bangladesh

‘৩০০ টাকার ভাড়া ১৪০০ তাও বাড়ি গিয়ে মরতে চাই’

 

 

আ: রশিদ তালুকদার, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :

 

ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের যানবাহন ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে। গণপরিবহন না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঘরমুখো যাত্রীদের। এছাড়া স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে তাদের। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ব্যক্তিগত গাড়ি আর সিএনজি ও মোটরসাইকেলে গাদাগাদি করে যাতায়াত করছেন মানুষ।

সরেজমিনে সোমবার (১০ মে) বেলা ১২টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের ঘারিন্দা, কান্দিলা, রাবনা, বিক্রমহাটি, রসুলপুর, পুংলি, এলেঙ্গা ও বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড়ে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। গণপরিবহন না থাকার সুযোগে ট্রাক, প্রাইভেট-কার, মাইক্রোবাস, সিএনজি ও মোটরসাইকেল চালকরা কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে যাত্রীদের কাছ থেকে।

জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা চার লেন হওয়ায় স্বাভাবিক গতিতে চলছে যানবাহন। তবে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড় পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সিঙ্গেল লেন হওয়ায় মাঝে মাঝে যানবাহনের জটলার কারণে ধীর গতিতে চলাচল করছে যানবাহন।

এক নারী যাত্রী বলেন, ‘আমি নাগরপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত এসেছি সিএনজিতে। আগের চেয়ে দেড়গুণ ভাড়া বেশি দিতে হয়েছে। নাটোরের গাড়ির জন্য প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। কিভাবে বাড়ি ফিরবো বুঝতেছি না। এক মাইক্রোবাস চালক আমার কাছে ১৪’শ টাকা ভাড়া চেয়েছে। এতো বেশি টাকা চাইলে কীভাবে যাবো? তাও বাড়ি গিয়েই মরতে চাই। করোনা আমাদের হবে না।’ পাবনাগামী আব্দুল আলীম বলেন, ‘গণপরিবহন না থাকায় তিনগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে সুনামগঞ্জ থেকে বাড়ি যাচ্ছি। সুনামগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ ও ময়মনসিংহ থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত দুই সিএনজিতে এসেছি। দাঁড়িয়ে আছি অনেকক্ষণ ধরে তবে গাড়ি পাচ্ছি না।’

এদিকে বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রবিবার (৯ মে) ভোর ৬টা থেকে সোমবার (১০ মে) ভোর ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩১ হাজার ৮’শ ৯৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। টোল আদায় করা হয়েছে ২কোটি ২০ লাখ ২৭ হাজার ৬’শ ৩০ টাকা। যা অন্য সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সামনে ঈদ জন্য মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ অনেক বেশি।