Amar Praner Bangladesh

৫০টিরও বেশি ইভিএম গায়েব

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

চুরির কারণ হিসেবে এটি সংরক্ষণের সুনির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকাকে দায়ী করেছেন ইভিএম প্রকল্পের পরিচালক সৈয়দ রাকিবুল হাসান। তিনি বলেন, ‘স্টোরেজ বা ওয়্যার হাউজ, যেটা দরকার সেটা না করে বিভিন্ন জায়গা যেটা পাওয়া যাচ্ছে সেটাতে রাখছে। সেটার প্রোপার সিকিউরিটি বলতে যা বোঝায়, সে ধরনের সিকিউরিটি আসলে কোথাও নাই। যার ফলে এই জিনিসগুলো ঘটছে।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহার নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে নানা বক্তব্যের মধ্যে বেশ কয়েকটি যন্ত্র চুরি যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বেশ কিছু নষ্ট হয়েছে আগুনে।

সব মিলিয়ে সংখ্যাটি ১২০ বলে প্রাণের বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন ইভিএম প্রকল্পের পরিচালক সৈয়দ রাকিবুল হাসান।

মঙ্গলবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে তিনি এসব কথা বলেব।

বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) ইভিএম প্রস্তুত করেছে৷ প্রতিষ্ঠানটি থেকে দেড় লাখ মেশিন কিনেছে নির্বাচন কমিশন। এসব মেশিন সংরক্ষণ করতে গিতে বেগ পোহাতে হচ্ছে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটিকে।

ইভিএম পিডি রাকিবুল হাসান বলেন, ‘কয়েকদিন আগে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে কিছু ইভিএম নষ্ট হয়েছে। যেখানে রাখা হয়েছিল সেই গোডাউনে আগুন লেগে যায়। নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে যে ফায়ার বিগ্রেড পানি দেয়। এর ফলে ইভিএম নষ্ট হয়। সেখানে ২০০ ইভিএম রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫০ থেকে ৭০ টির মতো নষ্ট হয়েছে।’

ইভিএম চুরির ঘটনা ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায়। উপজেলা মিলনায়নের একটি স্টোর রুমে মেশিনগুলো রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে যেটা মনিটর চুরি হয়।

ঝিনাইদহ বয়েজ স্কুল থেকে বই চুরির পাশাপাশি চুরি গিয়েছে ইভিএমের মনিটর। দুই এলাকা মিলিয়ে খোয়া যাওয়া ইভিএমর সংখ্যা ৫০ টির বেশি।

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ব্যাপারে নির্বাচনী কর্মকর্তারা থানায় মামলা দিয়েছেন। এ ব্যাপারে পরবর্তী নির্দেশনা সচিবলায় থেকে থানাকে দেয়া হয়েছে।’

ইভিএম চুরির কারণ হিসেবে এটি সংরক্ষণের সুনির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকাকে দায়ী করেছেন সৈয়দ রাকিবুল হাসান। তিনি বলেন, ‘স্টোরেজ বা ওয়্যার হাউজ, যেটা দরকার সেটা না করে বিভিন্ন জায়গা যেটা পাওয়া যাচ্ছে সেটাতে রাখছে। সেটার প্রোপার সিকিউরিটি বলতে যা বোঝায়, সে ধরনের সিকিউরিটি আসলে কোথাও নাই। যার ফলে এই জিনিসগুলো ঘটছে।’

দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৯৩ হাজার মতো ইভিএম রাখা হয়েছে। নির্বাচনের সময় সেখান থেকে যন্ত্রগুলো পাঠানো হয়। আর বিএমটিএফে সংরক্ষিত আছে প্রায় ৫৫ হাজার যন্ত্র।

চুরি এবং নষ্ট ঠেকাতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যায়- এমন প্রশ্নে ইভিএম প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘সঠিক গুদাম থাকতে হবে। চার্জ দিয়ে স্ট্যন্ডার্ড বজায় রেখে যদি ১০ টা গুদাম করা যায় তাহলে সেটা নিরাপদে রাখা সম্ভব। না হলে এটা সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে রাখা সম্ভব না। বাসা বাড়িতে রেখে এটা সম্ভব না।’

প্রায় ৩০ জেলায় ইভিএম বাসা বাড়িতে রাখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব জেলায় ঝুঁকি নিয়েই রাখা হচ্ছে।’

নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে অবগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করছে এটাকে ভালোভাবে রাখার।’

গত সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনে ভোট নেয়া হয় এই যন্ত্রে। এরপর গত তিন বছরে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে ব্যবহার করা হয়েছে। এসব যন্ত্রে ভোটারদের অনভ্যস্ততার কারণে ধীরগতি, কোথাও কোথাও আঙুলের ছাপ না পাওয়াসহ ছোটখাটো কিছু সমস্যা দেখা দিলেও বড় কোনো অনিয়মের খবর পাওয়া যায়নি।

তবে বিএনপি ও সমমনাদের এই যন্ত্র ব্যবহার নিয়ে আপত্তি আছে। তারা মনে করে এই যন্ত্রে কারচুপি সম্ভব। তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, যন্ত্রগুলো কেউ চাইলে পরীক্ষা করতে পারে।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে কি না, এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেয়নি কমিশন। তবে এ নিয়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর মত নিয়েছে তারা।

একজন নির্বাচন কমিশনার প্রাণের বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে এক শ আসনে ইভিএমে ভোট নেয়ার চিন্তা আছে তাদের। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অবশ্য তিন শ আসনেই ইভিএমে ভোট চেয়েছে।

এটি করতে হলে কমিশনকে হাতে থাকা ইভিএমের আরও দ্বিগুণ কিনতে হবে। বর্তমানে দেড় লাখ ইভিএম দিয়ে এক শর বেশি আসনে ভোট করা সম্ভব নয়।