• রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১:৪২ অপরাহ্ন
  • English Version

বিলুপ্তির পথে যশোরের ঐতিহ্য খেজুরের রস

Reporter Name / ৪৬ Time View
Update : বুধবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৪

বৈচিত্র্যপূর্ণ ছয়টি ঋতুর দেশ আমাদের সোনার বাংলাদেশ। শরৎ ঋতুকে বিদায় জানিয়ে হেমন্তকে বরণ করে নেয় প্রকৃতি। এক একটি ঋতুর রয়েছে এক একটি বৈশিষ্ট্য। ঋতু বৈচিত্র্যে এখন রাতের শেষে কুয়াশা জানান দিয়েছে শীতের আগমনী বার্তা। যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গ্রামে গ্রামে খেজুর রস সংগ্রের জন্য গাছিরা খেজুর গাছ কাটার কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। কাক ডাকা ভোরে রস সংগ্রহ ও সন্ধায় চলছে গাছ পরিচর্যার কার্যক্রম। এবার কিছুটা আগেই গ্রামে গ্রামে সকালের শিশিরের সঙ্গে অনুভূত হচ্ছে মৃদু শীত। আর মাত্র কয়েক দিন পর রস সংগ্রহ করে রস থেকে নালি গুড় তৈরির পর্ব শুরু হয়ে চলবে প্রায় ফাল্গুন মাস পর্যন্ত। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রের প্রস্তুতি উপজেলার প্রতিটি গ্রামে চোখে পড়ছে।

খেজুর রস ও গুড়ের জন্য যশোর জেলা বিখ্যাত। সুঘ্রাণ নলের গুড় জেলার প্রতিটি উপজেলায় পাওয়া যায়। যা আবার জেলার চাহিদা পূরণ করে সারা দেশে রপ্তানি করা হয়ে থাকে। তার পরও যে রস, গুড় ও পাটালী তৈরি হয় তা দিয়ে শীত মৌসুমে রীতিমতো কাড়াকাড়ি শুরু হয়। সময়ের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড়। কিছুদিন আগেও বিভিন্ন এলাকার ক্ষেতের আইলে, রাস্তার দুই ধারে ও ঝোপ-ঝাড়ে ছিল অসংখ্য খেজুর গাছ। কোনো পরিচর্যা ছাড়াই অনেকটা প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠতো এসব খেজুর গাছ। প্রতিটি পরিবারের চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত রস দিয়ে তৈরি করা হতো সুস্বাদু খেজুরের গুড়। কিন্তু মানুষের সচেতনতা ও রক্ষণা-বেক্ষণের অভাবে পরিবেশবান্ধব খেজুর গাছ আর তেমন চোখে পড়ে না। অপরদিকে ইট ভাটার রাহু গ্রাসে জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার বেশি হওয়ার কারণে যে পরিমাণ গাছ চোখে পড়ে তা নির্বিচারে নিধন করায় দিনের পর দিন খেজুর গাছের সংখ্যা কমেই যাচ্ছে। এখনও শীতকালে মানুষ শহর থেকে দলে দলে ছুটে আসে গ্রামে, বাংলার খেজুর রস ও গুড়ের স্বাদ নিতে। আগের দিনে সন্ধ্যার সময়ে গ্রামীণ পরিবেশটা খেজুর রসে মধুর হয়ে উঠতো। রস জ্বালিয়ে পাতলা ঝোল, দানা গুড় ও পাটালী তৈরি করতেন। যার স্বাদ ও ঘ্রাণ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। নতুন প্রজন্মের কাছে তা এখন রূপকথার মতো মনে হতে পারে, কিন্তু তা বাস্তব। যত বেশি শীত পড়বে ততবেশি মিষ্টি রস দেবে খেজুর গাছ। এক একটি খেজুর গাছ ৮ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত রস দিয়ে থাকে। শীতের পুরো মৌসুমে চলে রস, গুড়, পিঠা, পুলি ও পায়েস খাওয়ার পালা। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, কালের বির্বতনসহ বন বিভাগের নজরদারী না থাকায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছ এখন বিলুপ্তির পথে।

Copied from: https://www.kalbela.com/country-news/56328


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category